kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অক্টোবর ২০১৯। ৩০ আশ্বিন ১৪২৬। ১৫ সফর ১৪৪১       

আ. লীগের মনোনয়ন না পেয়ে কয়েক স্থানে ক্ষোভ-বিক্ষোভ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আ. লীগের মনোনয়ন না পেয়ে কয়েক স্থানে ক্ষোভ-বিক্ষোভ

চাঁদপুর-৪ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভূঁইয়ার মনোনয়ন ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে গতকাল ফরিদগঞ্জ বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলো। ছবি : কালের কণ্ঠ

কয়েকটি আসনে শরিকদের কারণে মনোনয়ন না পাওয়ায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা হতাশার পাশাপাশি ক্ষোভ-বিক্ষোভ দেখিয়েছে।

চাঁদপুর-৪ আসনে বিক্ষোভ সমাবেশ

চাঁদপুর-৪ ফরিদগঞ্জ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভূঁইয়ার মনোনয়ন ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে গতকাল শনিবার দুপুরে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলো। দুপুর ১২টায় ফরিদগঞ্জ বাজারে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। পরে মিছিলটি বাজার ঘুরে উপজেলা পরিষদের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় সমাবেশে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি, মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের পাটোয়ারী বলেন, উন্নয়নের ধারা ধরে রাখতে হলে বর্তমান সংসদ সদস্যকেই মনোনয়ন দিতে হবে। না হয় বিজয় ছিনিয়ে আনা সম্ভব নয়।

এদিকে বর্তমান সংসদ সদস্যের মনোনয়ন ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবরোধ করে মহিলা, যুব ও ছাত্রলীগ। সেখানে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে তারা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।

এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন সাংবাদিক মুহাম্মদ সফিকুর রহমান। গতকাল তিনি চাঁদপুরে রিটার্নিং অফিসারের কাছে প্রতীক বরাদ্দের চিঠি জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের বলেন, সবাইকে নিয়ে একযোগে ভোট প্রার্থনার মধ্য দিয়ে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করব। সফিকুর রহমান জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি। তিনি ২০০১ ও ২০০৮ সালে এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন।

সোনারগাঁয় বিদ্রোহ

সোনারগাঁ আসনটি মহাজোট জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেওয়ায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। গত শুক্রবার জাতীয় পার্টির বর্তমান এমপি লিয়াকত হোসেন খোকার মনোনয়ন চূড়ান্ত হয়। এতে সরাসরি ভোট যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত। তিনি এ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন। তাঁর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় আছে মুক্তিযোদ্ধা, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ দলের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও নতুন ভোটাররা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সোনারগাঁর নির্বাচনে জয়ের ভূমিকা রাখবে প্রায় ৮০ হাজার নতুন ভোটার। নতুন ভোটার আসাবুজ্জামান বলেন, ‘নৌকা মার্কায় ভোট দিতে পারব না ভাবলেও নিজেকে হতভাগা মনে হয়। আমরা আব্দুল্লাহ আল কায়সারকে বিপুল ভোটে জয়ী করেই ঘরে ফিরব।’

আওয়ামী পরিবারের সন্তান সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল কায়সার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের মাঠে থাকায় নির্বাচনী আলোচনায় ভোট ভাগাভাগির বিষয়টি জোরালো হয়ে উঠেছে।

লক্ষ্মীপুর-২ আসনে ক্ষোভ প্রশমন

লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর, সদরের একাংশ) আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চাওয়া ছয় প্রার্থীর সঙ্গে ঢাকায় বৈঠক করেছেন জাতীয় পার্টির নেতা মোহাম্মদ নোমান। তিনি এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য এবং আসন্ন সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী। ভোটের মাঠে সবাইকে একাট্টা করতে গত শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে তিন ঘণ্টা কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ আলী খোকনের ঢাকার গুলশানের বাসায় বৈঠকটি চলে।

বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতারা জানিয়েছেন, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মোহাম্মদ নোমান এমপি হওয়ার পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আশানুরূপ সমন্বয় করেননি। এ জন্য নেতাকর্মীরা তাঁর প্রতি ক্ষুব্ধ। এ অবস্থায় ভেদাভেদ ভুলে আওয়ামী জোটের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে নেতাকর্মীরা এক হয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বৈঠকে।

সূত্র জানায়, ওই বৈঠকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক হারুনুর রশিদ, কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা মোহাম্মদ আলী খোকন, আওয়ামী লীগ নেতা নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন, এহসানুল কবির জগলুল, শামছুল ইসলাম পাটোয়ারী ও রফিকুল হায়দার বাবুল পাঠান উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রায়পুর উপজেলার একজন ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘নোমান এমপির সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সমন্বয় ছিল না। এ জন্য আমাদের নেতাকর্মীদের মনে ক্ষোভ ছিল। এখন শেখ হাসিনার প্রার্থী হিসেবে তাঁর জন্য আমরা ভোটে নামব।’ তবে প্রার্থীর প্রতীক নৌকা না হওয়ায় জনগণকে বোঝাতে কষ্ট হবে বলেও তিনি আশঙ্কা করছেন।

জানতে চাইলে মোহাম্মদ নোমান বলেন, ‘এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে মানুষের জন্য কাজ করেছি। আমাদের মধ্যে কিছু মান-অভিমান ছিল, তা কেটে গেছে। আমি এখন আওয়ামী জোটের প্রার্থী। নেতাকর্মীরা ভোটের মাঠে একাট্টা হয়ে কাজ করবেন বলে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছেন। লাঙলই মঙ্গল—এ স্লোগানে জনগণ আমাদের বিজয়ী করবে।’

প্রসঙ্গত, এ আসনে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয় জেলা কমিটির সভাপতি আবুল খায়ের ভূঁইয়াকে। তিনি দুইবারের সাবেক সংসদ সদস্য।

প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহায়তা করেছেন চাঁদপুর, সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) ও লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা