kalerkantho

রবিবার। ১৮ আগস্ট ২০১৯। ৩ ভাদ্র ১৪২৬। ১৬ জিলহজ ১৪৪০

কালিয়াকৈরে শয়নকক্ষে বৃদ্ধাকে কুপিয়ে হত্যা

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি   

৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গাজীপুরের কালিয়াকৈরের হাবিবপুর এলাকায় ৭০ বছর বয়সী মজিরন নেছা ওরফে মর্জিনা বেগমকে তাঁর শয়নকক্ষে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল রবিবার বিকেলে পুলিশ মর্জিনার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। গত শনিবার রাতের কোনো এক সময় অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা ওই বৃদ্ধাকে কুপিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। ঘরের বিভিন্ন কাগজপত্র ও মালপত্র এলোমেলো অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে।  তবে হত্যার রহস্য এখনো উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। এ ছাড়া ঘর থেকে টাকা-পয়সা বা মালপত্র লুট হয়েছে কি না এখনো জানা যায়নি। নিহত মর্জিনা উপজেলার হাবিবপুর এলাকার মৃত হযরত আলীর স্ত্রী।

নিহতের পরিবার, পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, কালিয়াকৈরের হাবিবপুর এলাকার হযরত আলীর দুই স্ত্রী। প্রথম স্ত্রী সমিরন নেছা। ওই ঘরে দুই ছেলে ও তিন মেয়ে। ১৯৭৫ সালে নিজ ঘরে ডাকাতের হাতে প্রথম স্ত্রী সমিরন নিহত হন। পরে মজিরন নেছা ওরফে মর্জিনাকে বিয়ে করেন হযরত আলী। ওই ঘরে এক ছেলে, তিন মেয়ে। প্রায় ১০ বছর আগে মারা যান হযরত আলী। দ্বিতীয় স্ত্রী মর্জিনার ছেলে সাইফুল ইসলাম ওরফে সাইফ পেশায় একজন আইনজীবী। পেশাগত কারণে তিনি ঢাকায় থাকেন। তিন মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর মর্জিনা বেগম দোতলা বাড়িতে একাই বসবাস করতেন। ছেলে-মেয়েরা মাঝেমধ্যে মাকে দেখতে বাড়ি আসতেন। প্রতিদিনের মতো গত শনিবার রাতে মর্জিনা রাতের খাবার শেষে নিজ ঘরে একাই ঘুমিয়ে পড়েন। গতকাল সকাল সাড়ে ৮টা বেজে গেলেও ঘুম থেকে না ওঠায় এবং ঘরের গেট বন্ধ দেখে ভাড়াটিয়ার ছেলে ডাকাডাকি করে। ডাকাডাকির পরও ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পাওয়ায় তাদের সন্দেহ হয়। পরে লোকজন বাড়ির ছাদের ওপর দিয়ে ভেতরে গিয়ে দেখতে পায় মর্জিনার গলা কাটা লাশ খাটের ওপর পড়ে রয়েছে। রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা তাঁকে দা-বঁটি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে চলে যায়। পরে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে হত্যারহস্যের কোনো কূলকিনারা করতে না পেরে গাজীপুর সিআইডিকে খবর দেয়। বিকেল ৪টার দিকে গাজীপুর সিআইডি পুলিশ বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। নিহতের ঘরের ভেতর আলমারি, ওয়ার্ডরোব, স্যুটকেসসহ বিভিন্ন  আসবাবের মালপত্র এলোমেলো অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এলাকাবাসী ও স্বজনদের কেউ বলছে, ডাকাতদল ডাকাতি করতে এসে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। আবার কেউ বলছে, নেশাখোররা  নেশার টাকা জোগাতে এসে এ হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে। তবে নিহতের ঘর থেকে কোনো টাকা-পয়সা বা মালপত্র লুট হওয়ার কোনো খবর জানাতে পারেনি স্বজনরা। নিহতের ছেলে সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

নিহতের ছেলে সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমার মাকে কেন খুন করা হলো বুঝতে পারছি না। আমার মায়ের সাথে কারো কোনো শত্রুতা ছিল না।’

কালিয়াকৈর থানার ওসি (অপারেশন) ছানোয়ার জাহান হত্যাকাণ্ডের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কে বা কারা ওই বৃদ্ধাকে গলা কেটে হত্যা করে ঘরের ভেতর ফেলে রেখে গেছে। হত্যাকাণ্ডের সঠিক রহস্য উদ্ঘাটনে ঢাকার সিআইডিকে আনা হয়েছে।

গাজীপুরের এএসসি সার্কেল শাহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

মন্তব্য