kalerkantho

সোমবার। ১৯ আগস্ট ২০১৯। ৪ ভাদ্র ১৪২৬। ১৭ জিলহজ ১৪৪০

বাসচাপা দিয়ে দুই শিক্ষার্থী হত্যা

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ পর্যায়ে রায় জানুয়ারিতে

আশরাফ-উল-আলম   

৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজধানীর শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীকে বাসচাপা দিয়ে হত্যা ও কয়েকজনকে আহত করার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার বিচারকাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। জাবালে নূর পরিবহনের দুই বাসের মালিক, চালক ও হেলপারদের বিরুদ্ধে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

গত ৬ সেপ্টেম্বর এই মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) জমা দেওয়া হয়। এরপর ২৫ অক্টোবর আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। মাত্র এক মাসের মধ্যে ৪১ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। চলতি ডিসেম্বরে আদালতে ছুটি থাকার কারণে জানুয়ারি পর্যন্ত বিচারকাজ মুলতবি করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ চাঞ্চল্যকর এই মামলার বিচারকাজকে অগ্রাধিকার দিয়ে তা দ্রুত নিষ্পত্তির দিকে এগিয়ে নিচ্ছেন।

ওই আদালতের অতিরিক্ত পিপি তাপস কুমার পাল কালের কণ্ঠকে বলেন, এই মামলার বিচারকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন আদালত। গত ২৫ অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর প্রায় প্রতিদিনই মামলা শুনানির জন্য রাখা হয়েছে। মামলার বাদী, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য, ওই ঘটনায় আহত ছাত্র-ছাত্রী, বিআরটিএর কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্য ও ম্যাজিস্ট্রেটরা সাক্ষ্য দিয়েছেন। এখন তদন্ত কর্মকর্তা ও চিকিৎসক সাক্ষ্য দিলেই সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হবে। এরপর আসামিদের ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় পরীক্ষা করা ও যুক্তিতর্ক শুনানির পরই রায় ঘোষণা করা হবে। পিপি বলেন, জানুয়ারিতেই রায় ঘোষণা হবে বলে তাঁরা আশা করছেন।

গত ৬ সেপ্টেম্বর জাবালে নুরের দুই বাসের মালিক শাহাদৎ হোসেন আকন্দ ও জাহাঙ্গীর আলম, দুই বাসচালক মাসুম বিল্লাহ ও জুবায়ের সুমন এবং দুই হেলপার এনায়েত হোসেন ও কাজী আসাদকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেওয়া হয়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার অন্য একটি বাসের চালক সোহাগ আলী ও হেলপার রিপন হোসেনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

অভিযুক্ত ছয় আসামির মধ্যে একটি বাসের মালিক জাহাঙ্গীর আলম ও এক বাসের হেলপার কাজী আসাদ পলাতক রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়ে আছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ হলে যাবজ্জীবন দণ্ডের বিধান রয়েছে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৯২৯৭ বাসের মালিক মো. শাহাদৎ হোসেন। আর ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৭৬৫৭ বাসের মালিক মো. জাহাঙ্গীর আলম। বাসের চালক ও হেলপার নিয়োগ দেওয়ার এখতিয়ার একমাত্র বাসের মালিকদের। এ মামলার ঘটনার ক্ষেত্রে বাস মালিক শাহাদৎ ও জাহাঙ্গীর চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা না করেই নিয়োগ দেন।

বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই চালক মাসুম বিল্লাহ ও জোবায়ের সুমন বাস চালানোর অনুপযুক্ত।

মন্তব্য