kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১২ রবিউস সানি     

জাতীয় রপ্তানি ট্রফি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

দেশের উন্নয়নযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দেশের উন্নয়নযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না

জাতীয় রপ্তানিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল উদ্যোক্তাদের হাতে ‘জাতীয় রপ্তানি ট্রফি’ তুলে দেন। ছবি : বাসস

উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উত্তরণের সুযোগ গ্রহণ করে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের প্রতি রপ্তানি বাণিজ্য বৃদ্ধিতে তাদের কর্মতৎপরতা আরো জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গতকাল রবিবার সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো আয়োজিত ‘জাতীয় রপ্তানি ট্রফি ২০১৫-১৬ বিতরণ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘অনুরোধ করব, আপনারা দেশ-বিদেশে ঘোরেন, আপনারাও খুঁজে বের করেন কোন দেশের কোন পণ্যটা আমাদের দেশে উৎপাদন করে সেটা রপ্তানি করতে পারি। অর্থাৎ বাজারটা খুঁজে নেওয়া বা পণ্যটাকে আবিষ্কার করা বা তৈরি করা, সেটাও কিন্তু আপনাদের একটা দায়িত্ব।’

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘যদি কোনো রকম সহযোগিতা লাগে, অবশ্যই সরকার হিসেবে আমরা করব। যদিও সময় এখন সীমিত। আগামীতে ইলেকশন, কী হবে বলতে পারি না। কাজেই যতক্ষণ আছি ততক্ষণ যা যা প্রয়োজন সেটা করে দিতে পারব, সেই কথা দিতে পারি।’

দেশের উন্নয়নের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা একটা সিস্টেমে নিয়ে এসেছি, যে-ই আসুক আমার মনে হয় এরপর আর কেউ বাধা দিতে পারবে না। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণে যে সুযোগটা আমরা তৈরি করে দিয়েছি, সেটা কাজে লাগিয়ে আপনারা দেশকে এগিয়ে নিতে পারবেন।’

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আপনাদের বিদ্যুতের সমস্যা, গ্যাসের সমস্যা ছিল। এরই মধ্যে আমরা এলএনজি আমদানি শুরু করে দিয়েছি। এরই মধ্যে ফ্লোটিং এলএনজি টার্মিনাল করে দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয়টাও আসবে। কিন্তু এখন সিদ্ধান্ত নিয়েছি ল্যান্ড বেইজ এলএনজি টার্মিনাল করে দেব, যাতে গ্যাসের কোনো সমস্যা কোথাও না থাকে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘একটা শিল্প করতে যা যা লাগে সেগুলো যাতে পূরণ করা যায় সে জন্য আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি। সেই সঙ্গে নতুন বাজার খুঁজে নিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াব, সেই চেষ্টা করে যাচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘শুধু এইটুকুই বলব, আমাদের অর্থনীতি যথেষ্ট মজবুত। আমরা আমাদের যে উন্নয়ন প্রকল্প, তার ৯০ শতাংশ নিজস্ব অর্থায়নে করার সক্ষমতা অর্জন করেছি। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। উন্নত দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের চলতে হবে এবং বাংলাদেশকে আমরা উন্নত, সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এই দক্ষিণ এশিয়ার উন্নত দেশ হবে বাংলাদেশ। সেই পরিকল্পনা নিয়েই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ২০২১, ২০৪১ এবং ২১০০—এই ডেল্টা প্ল্যান হাতে নিয়েছি। এই ডেল্টা প্ল্যান নেদারল্যান্ডস সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে করব। যার ফলে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়া আর কেউ থামাতে পারবে না। বাংলাদেশের মানুষের আর্থিক সংগতি যত বাড়বে, ক্রয়ক্ষমতা যত বাড়বে, তত ব্যবসায়ীদের জন্যও নতুন বাজার সৃষ্টি হবে। নিজের দেশে বিক্রির পাশাপাশি রপ্তানিও হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ, ভুটান, নেপাল, ভারত মিলে এরই মধ্যে একটা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে যোগাযোগ বৃদ্ধির জন্য। কাজেই এখানে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ হবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ, চীন, মিয়ানমার, ভারত—সেখানেও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছি। এই দেশ থেকে যেন চীন পর্যন্ত ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ হতে পারে। প্রতিটি দেশের কোথায় কোন পণ্যের চাহিদা বেশি, আমরা সেটা বাজারজাত করতে পারব কতটুকু, সেদিকে দৃষ্টি রেখেই আমরা পরিকল্পনা নিচ্ছি, সেই সুযোগটাও সৃষ্টি করছি।’

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিজুল ইসলাম অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে বিভিন্ন পণ্য ও খাতভিত্তিক সর্বোচ্চ রপ্তানি আয়ের জন্য ৫৬টি প্রতিষ্ঠানকে ‘জাতীয় রপ্তানি ট্রফি’ প্রদান করা হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা