kalerkantho


বিমানবন্দরে এবার জব্দ ৮৬৮ কেজি ‘খাত’

তিন মাসে ১৩ চালানে জব্দ সাড়ে চার হাজার কেজি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিউ সাইকো-অ্যাক্টিভ সাবসটেনসেস (এনপিএস) জাতীয় মাদক ‘খাতের’ আরেকটি বড় চালান জব্দ করেছে ঢাকা কাস্টম হাউস (ডিসিএইচ) ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। শুক্রবার রাতে ভারত হয়ে আসা ৮৬৮ কেজির চালানটি গতকাল শনিবার ফরেন পোস্ট অফিস থেকে জব্দ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ইথিওপিয়ার আদ্দিস আবাবা থেকে এশা এন্টারপ্রাইজের নামে খাতের এই চালান পাঠানো হয়। আগেও এই প্রতিষ্ঠানের নামে চারটি চালান এসেছে। এশা এন্টারপ্রাইজের মালিক চিহ্নিত হলেও তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গতকালের চালানটি নিয়ে তিন মাসে ১৩টি চালানে প্রায় সাড়ে চার হাজার কেজি খাত জব্দ করা হলো।

ডিএনসির অতিরিক্ত পরিচালক (গোয়েন্দা) নজরুল ইসলাম সিকদার বলেন, এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে (এআই-২৩০) শুক্রবার রাতে ভারত থেকে ৪৯ কার্টন ভর্তি পণ্য আসে বিমানবন্দরে। পরে তা বিমানবন্দরের কার্গো ইউনিটের অভ্যন্তরে ফরেইন পোস্ট অফিস থেকে এনএসআইয়ের সহযোগিতায় কাস্টমস জব্দ করে। গতকাল দুপুরে কার্টনগুলো খোলা হলে তাতে ৮৬৮ কেজি খাত পাওয়া যায়। আলামতগুলো ডিএনসিতে হস্তান্তরের পর নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

নজরুল ইসলাম জানান, সাম্প্রতিক সময়ে শাহজালাল বিমানবন্দরে জব্দ করা মাদক খাতের সপ্তম চালান এটি। চালানটি আফ্রিকা থেকে ভারত হয়ে বাংলাদেশে আসে। রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঠিকানা উল্লেখ করা আছে—তেসফায়ে আসিফা, আদ্দিস আবাবা, ইথিওপিয়া। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এশা এন্টারপ্রাইজ, হাউস নম্বর-২৮, রোড-২, ব্লক-বি, বাদলদী, তুরাগ, ঢাকা-১২৩০। তবে এই ঠিকানা ভুয়া।

ডিএনসির গোয়েন্দারা জানান, দেশের ইতিহাসে প্রথম খাতের চালান আটক হয় গত ৩১ আগস্ট। সেদিন ‘গ্রিন টি’ নামে পাচারের সময় বিমানবন্দর ও শান্তিনগর প্লাজা থেকে ৮৬০ কেজি খাতসহ নাওয়াহিন এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার নাজিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর বিমানবন্দরে গত ৫ সেপ্টেম্বর ২০ কেজি, ৮ সেপ্টেম্বর ১৬০ কেজি, ১০ সেপ্টেম্বর ১৪৫ কেজি, ১২ সেপ্টেম্বর ১৯৩ কেজি, ১৪ সেপ্টেম্বর ১২০ কেজি এবং ১৮ সেপ্টেম্বর ১০৭ কেজি খাত জব্দ করা হয়। এসব অভিযানের মধ্যেই গত ৯ সেপ্টেম্বর বিমানবন্দরের বৈদেশিক পার্সেল শাখা থেকে এক হাজার ৫৮৬ কেজি ৩৬০ গ্রাম খাত জব্দ করে সিআইডি। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেপ্তারের পর মতিঝিলের মাদক কারবারি মুন্না ও দক্ষিণখানের মাদক কারবারি রাশেদ হোসেন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। ১৬ সেপ্টেম্বর ১৯ কেজি খাতের চালান জব্দ হওয়ার সূত্র ধরে তেজগাঁওয়ের মাদক কারবারি এস এম বাবুল আহমেদকে গ্রেপ্তার করে ডিএনসি। গত ১৯ সেপ্টেম্বর চারটি চালান ধরা পড়া এশা এন্টারপ্রাইজকে শনাক্ত করে রাজধানীর উত্তরার পুলিশ। উত্তরার ১৪ নম্বর সেক্টরের ১ নম্বর সড়কের একটি বাড়ি থেকে ৩৯৫ কেজি খাতসহ নাজমুল ইসলাম তালুকদার ও মাহবুবুর রহমান পলাশ নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে এশার মালিক মাহবুবুল আলম হাওলাদার পলাতক। এদিকে ২০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামে ২০৮ কেজি খাত জব্দ করে কাস্টমস।

তদন্ত সূত্র জানায়, দেশ-বিদেশে খাত কারবারে জড়িত ৩৬ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। ইথিওপিয়ার আদ্দিস আবাবার মাদক কারবারি জিয়াদ মোহাম্মাদ ইউসুফ ছাড়াও আরো কয়েকজন খাত নামের এই মাদকের চালান পাঠাচ্ছে। এদের মধ্যে একজনের নাম ‘চালা নূরী’। এদিকে এশা এন্টারপ্রাইজের মালিক মাহবুবের ভাই কামাল কয়েক বছর ধরে ইথিওপিয়ায় আছেন। সেখান থেকে দুই বছর ধরে কামাল ও বায়ার হারু এশার নামে বাংলাদেশে চালান পাঠাচ্ছেন। মাহবুব গার্মেন্ট ব্যবসার আড়ালে খাত পাচারে জড়িত বলে জানায় পুলিশ।

ডিএনসিসির কর্মকর্তারা জানান, ‘খাত’ গাছটি পপির মতোই একটি মাদকের গাছ। আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে এই গাছের গুঁড়া ‘খাত মাদক’ নামেই পরিচিত। তবে মাদকের শ্রেণি অনুযায়ী এটি এনপিএস জাতীয়। এটি মূলত চিবিয়ে বা পানিতে গুলিয়ে চায়ের মতো খাওয়া হয়। খাওয়ার পর ইয়াবার মতোই ক্লান্তি না আসা, ঘুম না হওয়াসহ শারীরিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এনপিএসে আসক্ত ব্যক্তি মানসিক বৈকল্যে ভোগে। একপর্যায়ে বেঁচে থাকাটাই তার কাছে অর্থহীন মনে হয়। এর জের ধরে কেউ কেউ আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।



মন্তব্য