kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৭ জুন ২০১৯। ১৩ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

হেমন্তের সকালে গাছ চেনানোর আয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ইট-পাথরের এই নিষ্প্রাণ রাজধানীতেও এখন প্রত্যুষে কান পাতলে পাওয়া যায় হেমন্তের শিশিরের শব্দ। রাতে নিশিপুষ্প ছাতিম আর শিউলির মাতাল গন্ধ ভেসে বেড়ায় নগরের পথে পথে। মিষ্টি হেমন্তের এমনই এক ঝলমলে সকালে প্রকৃতিপ্রেমীদের পদচারণে মুখর হয়ে উঠেছিল বলধা গার্ডেন। গতকাল শুক্রবার পুরান ঢাকার ওয়ারীতে শতাব্দী প্রাচীন ওই উদ্যানে বৃক্ষপ্রেমীদের সংগঠন তরুপল্লবের ২৮তম ‘গাছ দেখা গাছ চেনা’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রকৃতিপ্রেমীদের অর্ধশতাধিক দুর্লভ গাছের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন নিসর্গী ও কথাশিল্পী বিপ্রদাশ বড়ুয়া এবং উদ্ভিদবিদ শামসুল হক। বক্তব্য দেন আইইউসিএনের সাবেক কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. ইশতিয়াক উদ্দিন আহমেদ, তরুপল্লবের সহসভাপতি শাহজাহান মৃধা বেনু, এটিএন নিউজের হেড অব নিউজ প্রভাষ আমীন। স্বাগত বক্তব্যে তরুপল্লবের সাধারণ সম্পাদক মোকারম হোসেন বলেন, ‘অতিসত্বর আমাদের জাতীয় ঐতিহ্য বলধা গার্ডেনে সংরক্ষিত সব উদ্ভিদের চারা-কলম নিয়ে আরেকটি বিকল্প বলধা গার্ডেন তৈরি করা উচিত। তাতে বলধা গার্ডেনের সব দুর্লভ বৃক্ষ রক্ষা পাবে।’

উপস্থিত বৃক্ষপ্রেমীদের সাদাঝিন্টি, হংসলতা ভূতনাগিনী, অনন্তলতা, বাঁশপাতা, শ্বেতচন্দন, স্বর্ণঅশোক, লতাচালতা, ঝুমকোলতা, বিচিত্ররাবার, ক্যানাঙ্গা, গড়শিঙ্গা, রুদ্রপলাশ, ক্যামেলিয়া, হিং, গড়সিংগা, কণ্টশলতা, লালসানালু, নীলমণিলতা, ভুর্জপত্র, লতাজবা, বোতলপাম, উদয়পদ্ম ইত্যাদি গাছের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে গাছগুলোর সৌন্দর্য, পরিবেশগত প্রভাব ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব নিয়েও আলোচনা হয়। উচ্চারিত হয় বৃক্ষ ও পরিবেশ সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুন্দর পৃথিবী গড়ার অঙ্গীকার।

‘সবুজে শ্যামলে বাঁচুক প্রাণ’—এ স্লোগান নিয়ে ২০০৮ সালের ৫ ডিসেম্বর রমনা পার্কে গাছ চেনানোর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে যাত্রা করে তরুপল্লব। গাছ চেনানোর অনুষ্ঠান ছাড়াও সংগঠনটি উদ্যানকর্মীদের নিয়ে কর্মশালা, দুর্লভ বৃক্ষরোপণ ও প্রকৃতিবিষয়ক সাময়িকী প্রকৃতিপত্র প্রকাশসহ নানা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

মন্তব্য