kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ঝালকাঠির রাজাপুরে দুই শিশুর লাশ উদ্ধার

আশুলিয়ায় সাত টুকরো সেই লাশের মাথা উদ্ধার গাজীপুরে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঝালকাঠির রাজাপুরে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার সকালে পৃথক স্থান থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজের ছয় দিন পর গত বৃহস্পতিবার রাতে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকার একটি সড়কের পাশে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় পাওয়া সাত টুকরো দেহের মাথা উদ্ধার করেছে পুলিশ। তা ছাড়া গাজীপুরে মহাসড়কের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া মাথাবিহীন লাশের পরিচয় পাওয়া গেছে। বিস্তারিত আমাদের রাজাপুর (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি এবং সাভার ও গাজীপুর থেকে নিজস্ব প্রতিবেদকের পাঠানো প্রতিবেদনে :

ঝালকাঠির রাজাপুরে হৃদয় খান (১১) ও রেশমা আক্তার (১৪) নামের দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার সকালে উপজেলার মঠবাড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম বাদুড়তলা থেকে হৃদয়ের ও শুক্তাগড় ইউনিয়নের জগাইরহাট গ্রাম থেকে রেশমার লাশ উদ্ধার করা হয়।

হৃদয় খান উপজেলার পশ্চিম বাদুড়তলা গ্রামের মো. ইউসুফ খানের ছেলে এবং রেশমা পাশের জগাইরহাট গ্রামের মো. মীর ইয়াকুব আলীর মেয়ে। দুজনই স্থানীয় ত্রিপল্লী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

হৃদয়ের ভাই নাসির খান জানান, গত বুধবার দুপুরে হৃদয় নিখোঁজ হয়। গতকাল সকালে এলাকার লোকজন খালে হৃদয়ের লাশ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেয়।

এদিকে নিখোঁজের ছয় দিন পর আশুলিয়ায় নিশ্চিন্তপুর এলাকার একটি সড়কের পাশে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় পাওয়া সাত টুকরো দেহের মাথা উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে এলাকার একটি ঝোপ থেকে মাথাটি উদ্ধার করা হয়। এর আগে গত সোমবার সকালে একই এলাকা থেকে নিহতের সাত টুকরো লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানাতে রাজি হয়নি।

পুলিশ জানায়, যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার অন্তরামপুর গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকীর ছেলে মেহেদি হাসান টিপু (২২) নিশ্চিন্তপুর এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থেকে স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। গত ৯ নভেম্বর বিকেলে বাসা থেকে বের হওয়ার পর তিনি নিখোঁজ হন। পরদিন তাঁর স্ত্রী স্বপ্না বেগম আশুলিয়া থানায় এসে সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে গত সোমবার সকালে স্থানীয় সড়কের পাশ থেকে মাথাবিহীন সাত টুকরো দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। স্বপ্না বেগম থানায় এসে নিহত ব্যক্তি তাঁর স্বামী বলে শনাক্ত করেন। পরে এ ঘটনায় পুলিশ মানিক নামের একজনকে আটক করে। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার রাতে এলাকার একটি ঝোপ থেকে নিহতের মাথা উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ব্যাপারে আশুলিয়া থানার ওসি (তদন্ত) জাবেদ মাসুদ বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শামীমা আক্তার বাদী হয়ে গতকাল গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর থানায় একটি মামলা করেছেন।

সদর থানার ওসি সমীর চন্দ্র সূত্রধর জানান, মাথাহীন অজ্ঞাতপরিচয় ওই যুবকের লাশের পাশেই একটি নতুন হেলমেট, একটি ব্যাগ ও কিছু কাগজপত্র পড়ে ছিল। পরে ব্যাগে থাকা কাগজপত্র দেখে রাতে পরিচয় নিশ্চিত হয়ে পুলিশ স্বজনদের খবর দেয়। বৃহস্পতিবার রাতে শহিদুলের স্ত্রীর দুই ভাই মর্গে গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন।

নিহতের স্ত্রী শামীমা জানান, শহিদুল মোটরসাইকেলে করে বাড়ি থেকে ঢাকায় অফিস করতেন। প্রতিদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার মধ্যে বাসায় ফিরতেন। বৃহস্পতিবার ওই সময়ে বাসায় না ফেরায়

রাত ৯টার দিকে তিনি স্বামীকে ফোন দিলে শহিদুল জানান, রাত ১২টার মধ্যে ফিরবেন। এরপর থেকে শহিদুলের ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। গতকাল পুলিশের কাছ থেকে তাঁর স্বামীকে হত্যার খবর জানতে পান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা