kalerkantho

সোমবার। ১৯ আগস্ট ২০১৯। ৪ ভাদ্র ১৪২৬। ১৭ জিলহজ ১৪৪০

নবান্ন উৎসব

শিকড়ছোঁয়া আনন্দ

শাহাদত হোসেন, শেকৃবি   

১৬ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শিকড়ছোঁয়া আনন্দ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার বকুলতলায় নবান্ন উৎসবে নৃত্য পরিবেশন করেন শিল্পীরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

‘ও মা, অঘ্রানে তোর ভরা ক্ষেতে আমি কী দেখেছি মধুর হাসি’। কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই গানের ‘মধুর হাসি’ বাঙালি কৃষকের। কৃষকরা আবহমানকাল ধরে প্রধান শস্য কাটার আনন্দ উদ্‌যাপন করে আসছে নবান্ন উৎসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে। হেমন্তের শুরুতে আমন ধান কাটার পর গৃহস্থরা এই উৎসব আয়োজন করত। নতুন চালের পিঠা-পায়েসের সুগন্ধ আর পাড়া-প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনের আগমনে গৃহস্থের বাড়ি হয়ে উঠত মধুময়। কৃষকরা নতুন ধান বিক্রি করে কিষানিকে এনে দিত নতুন শাড়ি। বাড়ির উঠানে আঁকা হতো আলপনা। ঘরে-বাইরে ছড়িয়ে পড়ত খুশির ফোয়ারা। কালের প্রবাহে এই উৎসব ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সব বাঙালির মাঝে ছড়িয়ে পড়ে অসাম্প্রদায়িক ‘লোক উৎসব’ রূপে।

গ্রামবাংলায় এই উৎসব আর আগের মতো চোখে পড়ে না। এটি এখন গ্রাম ছাড়িয়ে গড়িয়েছে শহুরে সংস্কৃতিতে। দেশের বিভিন্ন শহরের মতো রাজধানীর কয়েকটি স্থানে গতকাল ঘটা করে পালন করা হয়েছে বাঙালির এই শস্যভিত্তিক লোক উৎসব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণের বকুলতলায় জাতীয় নবান্ন উৎসব উদ্‌যাপন পর্ষদের উদ্যোগে ‘এসো মিলি সবে নবান্নের উৎসবে’ স্লোগান সামনে রেখে এবারের উৎসব আয়োজন করা হয়। গ্রামীণ নানা উপকরণে সাজানো হয় মঞ্চ। বাঙালি ও আদিবাসী নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে মঞ্চ মাতায় সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কৃতীজনরা। ঘড়ির কাঁটা ৭টা ছুঁতেই বেজে ওঠে বংশী হাসান আলীর বাঁশের বাঁশির সমধুর সুর। শুরু হয় উৎসব। এর পরই সম্মেলক গান নিয়ে মঞ্চে আসেন ‘রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদের’ ঢাকা মহানগর শাখার শিল্পীরা।

একে একে আবৃত্তি, দলীয় নৃত্য, নজরুলসংগীত, রাধারমণের গান, লোকসংগীত নিয়ে আসেন দেশের খ্যাতনামা শিল্পীরা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন আবৃত্তিশিল্পী রূপা চক্রবর্তী ও শিমুল মুস্তফা, নজরুলসংগীত শিল্পী সুজিত মোস্তফা, নৃত্যশিল্পী গোষ্ঠী ‘বহ্নিশিখা’, রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী আবদুল ওয়াদুদ, বিশ্বজিৎ রায় ও ধৃতি নর্তনালয়। আদিবাসী গারো ও ওয়ানগালা দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে ‘আচিক’। এ ছাড়া দলীয় নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যোগ দেয় স্টেট ইউনিভার্সিটির এক দল শিক্ষার্থী। সকাল সাড়ে ৮টায় সাংস্কৃতিক উৎসবের প্রথম প্রহর শেষ হলে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন করেন নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ঋতুভিত্তিক লোক উৎসব উদ্‌যাপন করা আমাদের জন্য জরুরি। এসব অসাম্প্রদায়িক উৎসব তরুণ প্রজন্মকে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে সহায়তা করবে।’ সাম্প্রদায়িকতা বিনাশে প্রতিবছর নবান্ন উৎসব পালনের ওপর তিনি জোর দেন।

মন্তব্য