kalerkantho

সোমবার। ১৯ আগস্ট ২০১৯। ৪ ভাদ্র ১৪২৬। ১৭ জিলহজ ১৪৪০

কাঁটাতার ছাড়িয়ে মানবিকতা

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া   

১৬ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



‘ব্যক্তির মানবিকতা যখন কূটনৈতিক সীমারেখার বাঁধ ভেঙে দেয় তখন তাকে বিশ্বমানবতা বলাই যায়।...আব্দুল বাছিরের এই মানবিকতায় অভিভূত সবাই। তাঁর এই অনুকম্পায় বাক্হীন রোগীর পরিবার-পরিজন।’ ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের দৈনিক সংবাদ পত্রিকা গতকাল বৃহস্পতিবার এভাবেই সচিত্র একটি খবর ছেপেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সংস্কৃতিকর্মী বাছির দুলালকে নিয়ে ‘মানবিকতায় লজ্জা পেল কাঁটাতার’ শিরোনামে। খবরে বলা হয়, ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা গিয়ে দুলাল রক্ত দিয়েছেন থ্যালাসেমিয়ার রোগী ভারতীয় নাগরিক প্রিয়াঙ্কা কর্মকারকে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও চলছে আলোচনা। আগরতলার এক সংস্কৃতিকর্মী পিনাকপানি দেবী ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘তুমি রক্তের বন্ধনে, মৈত্রীর বন্ধনে, ভালোবাসার বন্ধনে দাঁড়িয়েছ, দেশ কাল সীমানার গণ্ডি ছাড়িয়ে...। বুকটা গর্বে ভরে উঠেছে, তুমি আমার ভাই বলে। সেলাম তোমায়।’    

গতকাল সকালে দেশে ফিরেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস আবৃত্তি সংগঠনের সহকারী পরিচালক বাছির দুলাল। বিকেলে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জাতপাত, ধর্ম-বর্ণ কিংবা দেশ হলো পরে। সবার আগে আমরা মানুষ। একজন মানুষের কল্যাণে মানুষ এগিয়ে আসবে, সেটাই আমার প্রত্যাশা।’

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, আগরতলার সেন্ট্রাল রোডের বাসিন্দা থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত ২০ বছর বয়সী প্রিয়াঙ্কার জন্য প্রায়ই রক্তের (বি নেগেটিভ) প্রয়োজন হয়। রুটিন মেনে প্রিয়াঙ্কার স্বজনরা যায় সেখানকার আইজিএম হাসপাতালে। কিন্তু ব্লাড ব্যাংকে তখন ওই গ্রুপের রক্ত ছিল না। ই-ব্লাড ব্যাংক নামে একটি সংগঠনের কাছেও রক্তের জোগাড় ছিল না। গ্রুপের কর্মকর্তা পার্থজিৎ দত্ত যোগাযোগ করেন পূর্বপরিচিত বাছির দুলালের সঙ্গে। তিনি জানান, মুহূর্তেই রাজি হয়ে যান দুলাল। গত বুধবার তিনি আইজিএম হাসপাতালে গিয়ে রক্ত দান করেন। অবসান হয় রক্তের জন্য চার দিন প্রতীক্ষার।

এ প্রসঙ্গে ই-ব্লাড ব্যাংক ফেসবুকে লিখেছে, ‘সীমান্তের কাঁটাতার তুচ্ছ করে জীবন দান করে গেছেন আব্দুল বাছিল দুলাল। তিনি দেশ ও ধর্মের ওপর মানবিকতার পতাকা গেঁথে দিলেন রক্তদানের মাধ্যমে।’ সংগঠনটির পক্ষ থেকে বাছির দুলালের প্রতি শুভ কামনা জানানো হয়। বাছির দুলাল জানান, রক্তদানের পর তাঁর হাতে সম্মানসূচক একটি সার্টিফিকেটও সেখানে তুলে দেওয়া হয়। একজন বাংলাদেশির রক্তদানের খবর পেয়ে বিভিন্ন মিডিয়ার লোকজন এসে কথা বলে। অনেকে আবার বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে।

মন্তব্য