kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অক্টোবর ২০১৯। ৩০ আশ্বিন ১৪২৬। ১৫ সফর ১৪৪১       

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হচ্ছে কাল

পুরোপুরি প্রস্তুত বাংলাদেশ

তোফায়েল আহমদ, কক্সবাজার ও জাকারিয়া আলফাজ, টেকনাফ   

১৪ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হচ্ছে কাল

বহুল প্রত্যাশিত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে প্রতিদিন ১৫০ জন করে রোহিঙ্গা তাদের নিজ দেশ ফিরে যাবে। এ জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছেন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের দায়িত্বে নিয়োজিত কক্সবাজারে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ের কর্মকর্তারা। প্রত্যাবাসনের কাজ সম্পন্ন করতে এরই মধ্যে নদীর তীরে স্থাপন করা হয়েছে দুটি প্রত্যাবাসন পয়েন্ট।

এদিকে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তে প্রত্যাবাসনকে কেন্দ্র করে রোহিঙ্গাদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। রোহিঙ্গাদের অনেকেই স্বেচ্ছায় পৈতৃক ভিটায় ফিরে যেতে ইচ্ছুক। আবার অনেকেই মিয়ানমার বাহিনীর অত্যাচার-নির্যাতনের ভয়ে এ মুহূর্তে দেশে ফিরতে চাচ্ছে না। অন্যদিকে রোহিঙ্গাদের স্বদেশে প্রত্যাবাসনের তোড়জোড় দেখে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তির ভাব লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয় সীমান্ত এলাকার লোকজন প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানিয়েছে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন উদ্যোগে নেতৃত্ব দিচ্ছেন শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) ও সরকারের অতিরিক্ত সচিব আবুল কালাম আজাদ। তিনি গতকাল মঙ্গলবার কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন, আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই প্রত্যাবাসন শুরু হবে। তিনি জানান, মিয়ানমার-বাংলাদেশের ঘুনধুম সীমান্ত দিয়ে আপাতত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন করা হবে। আগামী দিনে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো হবে টেকনাফ সদরের নাফ নদ তীরের কেরুতলী প্রত্যাবাসন ঘাট (ডিপারচার পয়েন্ট) দিয়েও।

আরআরআরসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমরা প্রত্যাবাসনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। প্রতিদিন ১৫০ জন করে রোহিঙ্গা তাদের দেশে ফিরে যাবে।’

তিনি বলেন, নাফ নদের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইনেও প্রত্যাবাসিত রোহিঙ্গাদের জন্য দুটি ‘রিসিভিং সেন্টার’ খোলা হয়েছে। এপার থেকে প্রত্যাবাসন হওয়া রোহিঙ্গাদের ওপারের রিসিভিং সেন্টারে দুদিন রাখা হবে। এরপর রোহিঙ্গাদের নিয়ে যাওয়া হবে তাদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে।

এদিকে প্রত্যাবাসন ঘিরে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে অস্থিরভাব বিরাজ করছে। রোহিঙ্গাদের অনেকেই স্বদেশে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে অনীহা দেখালেও প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে তারা সেখানে নিরাপত্তা দাবি করেছে। রোহিঙ্গাদের অনেকেই বলছে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে তাদের নিজ বসতভূমিতে ফিরতে আপত্তি নেই।

প্রত্যাবাসনের তালিকায় থাকা রোহিঙ্গা নুরুল আলম (৩২) গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য আমার পরিবারের নাম তালিকাভুক্ত হওয়ার কথা আমি শুনেছি। স্বদেশে ফিরতে আমার কোনো আপত্তি নেই। আমরা এমনিতেও ফিরতে চাই। কিন্তু আমাদের দুশ্চিন্তা শুধু নিরাপত্তা নিয়ে।’

বর্তমানে টেকনাফের উনচিপ্রাং শিবিরের বাসিন্দা নুরুল আলম বলেন, ‘আমার শিবিরের শেড মাঝির কাছে আমি শুনেছি আমার পরিবারও দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছে। আমাদের পোড়া ভিটায় আমরা ফিরতে চাই। সেখানে গিয়ে আমরা আবার নিজ ভিটায় নতুন ঘরসংসার গড়তে চাই।’

তিনি বলেন, রাখাইনে সেনাবাহিনী নতুন করে অন্য কোনো অজুহাত তুলে আবারও হামলে পড়বে কি না তা নিয়েই তাঁর উদ্বেগ।

জানা গেছে, রাখাইন রাজ্য ছেড়ে আসা সচ্ছল রোহিঙ্গা পরিবারের সদস্যরাই দেশে ফিরে যেতে আগ্রহী। ওই রোহিঙ্গাদের অনেকে বলেছে, তারা এ দেশে শরণার্থী জীবন কাটাতে একেবারেই অভ্যস্ত নয়। নিজ দেশে ফেলে আসা সহায়-সম্পদ থেকেই প্রচুর আয় হতো তাদের। তাই তারা আশ্রয়শিবির ছেড়ে রাখাইন রাজ্যেই ফিরে যেতে চায়।

এদিকে দেশি-বিদেশি কিছু বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) ছদ্মাবরণে থাকা স্বার্থান্বেষী মহলের বিরুদ্ধে প্রত্যাবাসনবিরোধী উসকানি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জানা যাচ্ছে, তারা রোহিঙ্গাদের বিভ্রান্ত ও উত্তেজিত করে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম বন্ধ করতে চায়।

এমনকি কয়েক দিন ধরে ওই মহলটি শিবিরে শিবিরে প্রত্যাবাসনবিরোধী অপপ্রচার চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এমন অপপ্রচারের মুখে দেশে ফিরতে তালিকাভুক্ত কয়েকজন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন এড়াতে গাঢাকা দিয়েছে বলেও জানা গেছে। জামতলী শিবিরের ১ নম্বর ব্লকে প্রত্যাবাসনের জন্য তালিকাভুক্ত রোহিঙ্গা পরিবারের সদস্যদের দুই দিন ধরে খুঁজে পাওয়া না গেলেও পরে তাদের সন্ধান মিলেছে বলে ‘এল’ শিবিরের শেড মাঝি জানিয়েছেন। রোহিঙ্গা শিবিরে এসব তৎপরতার বিষয়ে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী জানান, এসব বিষয় নিয়ে প্রশাসনসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অবহিত আছেন। প্রত্যাবাসনের কাজ যথারীতি সম্পন্ন করার ব্যাপারে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা