kalerkantho

বুধবার । ১১ কার্তিক ১৪২৮। ২৭ অক্টোবর ২০২১। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

বিশেষজ্ঞ মিশন পাঠাচ্ছে ইইউ

মেহেদী হাসান   

১১ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিশেষজ্ঞ মিশন পাঠাচ্ছে ইইউ

একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে শিগগিরই বিশেষজ্ঞ মিশন পাঠাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। সরকারি সূত্রগুলো বলছে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ওই মিশন আসবে বলে ইইউ আগেই ঢাকাকে জানিয়েছে। আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে ওই বিশেষজ্ঞ মিশনের ঢাকায় পৌঁছানোর কথা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা গতকাল শনিবার দুপুরে কালের কণ্ঠকে বলেন, দুই সদস্যের ইইউর বিশেষজ্ঞ মিশন নির্বাচনের আগে ও পরে মিলিয়ে প্রায় দুই মাস বাংলাদেশে অবস্থান করবে। এ সময় তারা রাজনৈতিক দলগুলো ছাড়াও নির্বাচনসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করবে।

জানা গেছে, ইইউ গত সেপ্টেম্বর মাসেই বাংলাদেশকে জানিয়ে দিয়েছে যে আগামী নির্বাচনে বড় পরিসরে পর্যবেক্ষক মিশনের বদলে ছোট পরিসরে বিশেষজ্ঞ মিশন পাঠাবে। এর অন্যতম কারণ হলো বাজেট ঘাটতি।

এর আগে গত ২৫ জুলাই কালের কণ্ঠকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ঢাকায় ইইউর রাষ্ট্রদূত রেঞ্চা টিয়েরিংক বলেছিলেন, ‘নির্বাচন পর্যবেক্ষণ একটি বিশাল ও ব্যয়বহুল কাজ। আমরা সব জায়গায় পর্যবেক্ষক নিয়োগ করতে পারব না। কারণ আমাদের এত বাজেট নেই। যদি পুরোদস্তুর নির্বাচনী মিশন পাঠানোর সিদ্ধান্ত নাও হয় তবে এর কারণ বাংলাদেশ পরিস্থিতি নয়। বাজেটের কারণেই এমন সিদ্ধান্ত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে আমরা স্বল্পমেয়াদি মিশন পাঠাতে পারি। সেই মিশন হতে পারে কারিগরি। তারা হয়তো বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় অবস্থান করবে না।’

ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেছেন, ইইউ তার অংশীদার অন্য দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও সব দলের অংশগ্রহণে স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন চায়। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র গত শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে অংশগ্রহণমূলক, অবাধ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন দেখতে চায়। ওই মুখপাত্র আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন আসছে। অবাধ, বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য আমরা অব্যাহত আলোচনা ও উন্মুক্ত মতবিনিময়ে উৎসাহী করি। একই সঙ্গে আমরা চাই এমন একটি নির্বাচন যেখানে বাংলাদেশের জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটবে।’

অন্যদিকে জাতিসংঘ বাংলাদেশের নির্বাচন প্রসঙ্গে বলেছে, আগামী নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক, বিশ্বাসযোগ্য ও স্বচ্ছ হওয়াকেই তারা অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছে। সংস্থাটি অগ্রাধিকারগুলো সমুন্নত আছে কি না এবং নির্বাচনের জন্য যথার্থ সময় হয়েছে কি না তা বিবেচনার জন্যও বাংলাদেশ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে।

গত শুক্রবার রাতে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশি ওই সাংবাদিক বলেন, ‘আমার মন্তব্য বাংলাদেশ নিয়ে। বাংলাদেশ সরকার বড় দিনের ঠিক প্রাক্কালে ২৩ ডিসেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। বড় রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতাসীন কর্তৃপক্ষের জন্য সংলাপে আছে। কিন্তু এটি শেষ হওয়া বা বিরোধীদের কোনো দাবি মেনে নেওয়ার আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছেন। প্রধান বিরোধী নেতা খালেদা জিয়া এখনো কারাগারে। বিরোধী দল ও নাগরিক সমাজ ও তাদের সংগঠনগুলো এরই মধ্যে একতরফা তফসিল ঘোষণার বিরোধিতা এবং নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার আগে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড (সবার জন্য সমান সুযোগ) সৃষ্টির আহ্বান জানাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘের অবস্থান কী? জাতিসংঘ মহাসচিব কি এ বিষয়ে অবগত? কারণ জাতিসংঘ সব সময় অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের আহ্বান জানাচ্ছে।’

জবাবে জাতিসংঘ মহাসচিবের উপমুখপাত্র ফারহান হক বলেন, ‘মাঠের সর্বশেষ পরিস্থিতি বিষয়ে আমরা অবগত এবং আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। আমাদের অগ্রাধিকারগুলো হলো বাংলাদেশে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক, বিশ্বাসযোগ্য ও স্বচ্ছ হতে হবে। এই বিশেষ অগ্রাধিকারগুলো সমুন্নত রয়েছে কি না তা দেখতে আমরা এই ব্যবস্থাগুলো পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখব। নির্বাচনের জন্য যথার্থ সময় হয়েছে কি না তা বিবেচনার জন্যও আমরা এগুলো পর্যালোচনা করছি।’

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনকে উৎসাহী করতে জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব বান কি মুন তাঁর বিশেষ দূত হিসেবে অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোকে পাঠিয়েছিলেন। এবারও জাতিসংঘ অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রত্যাশী হলেও কোনো মধ্যস্থতাকারী পাঠায়নি। তবে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস রোহিঙ্গা পরিস্থিতি দেখতে গত ৩০ জুন ও ১ জুলাই বাংলাদেশ সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে নির্বাচনী প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চেয়েছেন। এরপর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত ১৩ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের রাজনৈতিকবিষয়ক সহকারী মহাসচিব মিরোস্লাভ জেনকার সঙ্গে বৈঠক করে এ দেশের রাজনৈতিকসহ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর ও তাঁর দলের অবস্থান তুলে ধরেন। গত ২৭ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আগামী নির্বাচন অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

 



সাতদিনের সেরা