kalerkantho

বুধবার । ১১ কার্তিক ১৪২৮। ২৭ অক্টোবর ২০২১। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

ব্যাবসায়িক বিরোধেই হত্যা!

মামলা করেও বাঁচতে পারলেন না ঝুট ব্যবসায়ী মোহন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজধানীর মিরপুরে ঝুট ব্যবসায়ী মহিউদ্দিন মোহন হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা গ্রেপ্তার হয়নি। সাত মাস আগেও তাঁকে একবার গুলি করা হয়েছিল। সে যাত্রায় প্রাণে রক্ষা পেয়ে তিনি পল্লবী থানায় একটি মামলা করেছিলেন। সেই মামলার আসামিরাই ঝুট ব্যবসার বিরোধের জের ধরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করতে পারে বলে দাবি করেছে তাঁর পরিবার।

ওই মামলার সন্দেহভাজন আসামিদের গত সাত মাসেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। আর তারা গ্রেপ্তার না হওয়ায় পলাতক থেকেই হুমকি দিয়ে আসছিল দাবি করে মোহনের স্ত্রী তামান্না দাবি করেছেন, মোহনকে সে সময়েই হত্যা করতে গুলি করেছিল সন্ত্রাসীরা। তবে ভাগ্য সহায় হওয়ায় সে সময় প্রাণে রক্ষা পান তিনি। ওই ঘটনায় পল্লবী থানায় মামলা করার পর থেকে সন্ত্রাসীরা মোবাইল ফোনে মোহনকে বিভিন্ন সময়ে প্রাণনাশের হুমকি দিত। পুলিশকেও বিষয়টি জানানো হয়েছিল। তবে পুলিশ ওই সন্ত্রাসীদেরও গ্রেপ্তার করতে পারেনি। আবার মোহনের নিরাপত্তাও দিতে পারেনি।

মোহন হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইমরানুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ঝুট ব্যবসার বিরোধের জের ধরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ব্যবসায়ী মহিউদ্দিন মোহনকে হত্যা করা হতে পারে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে বিভিন্ন সূত্র থেকে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। তবে অন্য কারণেও তাঁকে হত্যা করা হতে পারে। তদন্তে আসল রহস্য জানা যাবে। তিনি বলেন, সাত মাস আগের মামলার আসামিরাই এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত কি না তা তদন্তে জানা যাবে।

এদিকে মোহন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তাঁর স্ত্রী তামান্না গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় পল্লবী থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলায় এজাহারভুক্ত কয়েকজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় সন্ত্রাসীদের আসামি করা হয়েছে। 

গত শুক্রবার রাত ৯টার দিকে পল্লবী থানার মিরপুর ১০ নম্বর সেক্টরের ভাড়া বাসার সামনে মহিউদ্দিন মোহনকে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে রাতেই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন হাসান আলী নামের এক পথচারী। তিনি বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।

মোহনের ভাগ্নে মো. রবিন বলেন, রাতে পল্লবীর প্যারিস রোডের বাসার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন মোহন। এ সময় দুটি মোটরসাইকেলে করে চার-পাঁচজন দুর্বৃত্ত সেখানে এসে তাঁকে ঘিরে ধরে। এরপর তাঁর পেটে ও বুকে গুলি করতে করতে পালিয়ে যায়। ওই সময় হাসান নামের এক পথচারী হাতে গুলিবিদ্ধ হন। নিহত মহিউদ্দিন মোহন (৪৫) কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার আ. রশিদের ছেলে।

আহত গুলিবিদ্ধ হাসান বলেন, তিনি পল্লবীর একটি বেকারি থেকে পণ্য কিনে বিভিন্ন দোকানে সাপ্লাই দেওয়ার কাজ করেন। রাতে প্যারিস রোড দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় হঠাৎ তাঁর হাতে গুলি লাগে। মোটরসাইকেলে করে আসা দুর্বৃত্তরা মোহনকে লক্ষ্য করে গুলি করে।

মোহনের পারিবারিক সূত্র আরো জানায়, ঝুট ব্যবসার পাশাপাশি পল্লবীর কালশী রোডে ‘বিসমিল্লাহ হার্ডওয়্যার’ নামের আরেকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক ছিলেন মোহন। দিনের বেশির ভাগ সময় তিনি ওই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেই থাকতেন। তাঁর সঙ্গে মিরপুরের অন্য ঝুট ব্যবসায়ীদের আগে থেকেই বিরোধ ছিল। সাত মাস আগে মোহনকে এক দল সন্ত্রাসী গুলি করেছিল। তাদেরকে আসামি করে পল্লবী থানায় একটি মামলা করা হয়েছিল। ওই মামলার আসামিরা মামলা তুলে নিতে হুমকি দিয়ে আসছিল। পুলিশকে এসব বিষয়ে জানানো হয়েছিল।



সাতদিনের সেরা