kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ আশ্বিন ১৪২৮। ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৩ সফর ১৪৪৩

নিখোঁজের ৫ দিন পর জামালপুরের ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার

অপহরণকারী খুনিদের ঘিরে রহস্য

৯৯৯ নম্বরে ফোন করে নিশ্চিত হয় স্বজনরা

রেজোয়ান বিশ্বাস, ঢাকা ও মোস্তফা মনজু, জামালপুর   

১১ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অপহরণকারী খুনিদের ঘিরে রহস্য

হত্যার পাঁচ দিন আগে রাজধানীর পুরান ঢাকা থেকে অপহরণ করা হয়েছিল জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার কাপড় ব্যবসায়ী সুমন খানকে। এরপর তাঁকে টঙ্গীতে নেওয়া হয়। সেখানেই ছুরিকাঘাতে হত্যার পর দুই হাত ও মুখ গামছা দিয়ে বেঁধে লাশ ফেলা হয় খিলগাঁওয়ের ডেমরা রোডের নাগদারপার এলাকার একটি নির্জন জায়গায়। প্রাথমিক তদন্তে এমন তথ্য নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। তবে অপহরণকারীদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি তারা। নিহতের স্বজন ও তদন্তসংশ্লিষ্টরা সন্দেহ করছেন, ‘প্রশাসনের লোক’ পরিচয়ে টাকার জন্য অপহরণের পর সুমনকে হত্যা করা হয়েছে। এমন সন্দেহের কারণ, তাঁর কোনো বিরোধ বা প্রতিপক্ষের তথ্য নেই পুলিশ বা স্বজনদের কাছে। তবে গতকাল শনিবার পর্যন্ত খুনিদের শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের খিলগাঁও জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) নাদিয়া আক্তার জুঁই কালের কণ্ঠকে বলেন, অপহরণের পর গত সাত দিনেও কোনো ক্লু পাওয়া যায়নি। অন্য কোথাও হত্যা করে লাশ ওই ঝোপের আড়ালে ফেলা হয়। এই এলাকায় মানুষের চলাচল তেমন একটা নেই। গাড়িও চলে কম। ব্যাবসায়িক বিরোধে বা আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিরোধের জের ধরে তাঁকে হত্যা করা হতে পারে বলে প্রাথমিক তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো কারণও থাকতে পারে। পরিবারের বরাত দিয়ে তিনি আরো বলেন, ব্যবসায়ী সুমন খানের কোনো শত্রু ছিল না। তিনি নিরপরাধ ছিলেন। এলাকায় তাঁকে সবাই একজন বড় ব্যবসায়ী হিসেবেই চেনে। ব্যাবসায়িক কাজে ঢাকায় এসেই তিনি খুন হয়েছেন বলে অনেকটাই নিশ্চিত পুলিশ।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানতে পেরেছেন, গত সোমবার পাইকারি কেনাকাটা করতে পুরান ঢাকার ইসলামপুরে আসেন সুমন। সেখান থেকে বাদামতলী এলাকায় ভাইয়ের বাসায় যাওয়ার পথে তাঁকে অপহরণ করা হয়। এরপর ঠিক কোথায় তাঁকে হত্যা করা হয়েছে তা নিশ্চিত নয়। তবে সুমনের স্ত্রী পারুল আক্তার পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি টঙ্গী এলাকায় আসেন। এরপর তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এতে সুমনকে টঙ্গীতে নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা পুলিশের। দুই হাত ও চোখ বেঁধে হত্যার কারণে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিচয়ে তাঁকে অপহরণের পর হত্যা করা হতে পারে বলেও সন্দেহ তাদের।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সুমন দেওয়ানগঞ্জ বাজারের আব্দুল খালেক খানের ছেলে। দেওয়ানগঞ্জ বাজারের ‘সুমন বস্ত্রালয়’ নামে তাঁর তৈরি পোশাক ও কাপড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে। কাপড় কিনতে ঢাকায় আসার পর মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে সর্বশেষ তাঁর পরিবারের সঙ্গে কথা হয়। তখন তিনি টঙ্গীতে আছেন বলে জানিয়েছিলেন। এর পর থেকে তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এ নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হলে তাঁর বাবা আব্দুল খালেক খান দেওয়ানগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

 নিহত সুমন খানের প্রতিবেশী বন্ধু মনজুরুল হক বাবু কালের কণ্ঠকে জানান, তিনিসহ সুমনের কয়েকজন স্বজন গত শুক্রবার রাত ১০টার দিকে একটি ফেসবুক আইডিতে ঢাকার খিলগাঁও এলাকায় অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির ছবিসহ লাশের পোস্ট দেখেন। ওই ছবি দেখে লাশটি সুমন খানের কি না তা জানার জন্য তাঁরা দেওয়ানগঞ্জ থেকে দ্রুত পুলিশের ৯৯৯ নম্বরে ফোনে যোগাযোগ করে ঢাকার খিলগাঁও থানার ফোন নম্বর সংগ্রহ করেন। পরে খিলগাঁও থানায় ফোন করা হলে থানা থেকে একটি ইমো আইডিতে ওই মৃত ব্যক্তির ছবি, পরনের পোশাক ও হাতের ব্রেসলেটের ছবিসহ বেশ কয়েকটি ছবি পাঠিয়ে দেয়। একই সঙ্গে ওই লাশটি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়। ওই ছবিগুলো দেখে তাঁরা নিশ্চিত হন যে ওই লাশ সুমন খানের।

গতকাল দুপুরে নিহত সুমন খানের সহোদর শ্যামল ও পিন্টু ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন। পরে বিকেল ৪টার দিকে ময়নাতদন্ত শেষে শোকার্ত দুই ভাই সুমন খানের লাশ নিয়ে জামালপুরের উদ্দেশে রওনা হন। দুর্বৃত্তরা তাঁকে অপহরণ করে হত্যা করেছে বলেও নিহতের স্বজনরা ধারণা করছে। দেওয়ানগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মমতাজ উদ্দিন বলেন, ‘সুমন খানের বাবার করা সাধারণ ডায়েরির সূত্র ধরে আমরা চেষ্টা করেছি তাঁকে খুঁজে বের করতে। কিন্তু শুক্রবার রাতে তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন যে সুমনের লাশ খিলগাঁও থানা এলাকায় পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে নিহতের পরিবার থানায় মামলা দায়ের করবে বলে জানিয়েছে।’



সাতদিনের সেরা