kalerkantho

রবিবার । ২০ অক্টোবর ২০১৯। ৪ কাতির্ক ১৪২৬। ২০ সফর ১৪৪১                

পূজামণ্ডপে প্রধানমন্ত্রী

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত বাংলাদেশ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৬ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত বাংলাদেশ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। ছবি : বাসস

বিশ্বের সব হিন্দু ধর্মাবলম্বীকে শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বাংলাদেশে ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সবাই যার যার অধিকার নিয়ে বসবাস করবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বাংলাদেশ বিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।’

গতকাল সোমবার বিকেলে রাজধানীতে রামকৃষ্ণ মিশন ও ঢাকেশ্বরী পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকঢোল, কাঁসর ও শঙ্খের ঝংকারের মধ্য দিয়ে গতকাল থেকে সারা দেশে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। দুর্গাষষ্ঠীর মধ্য দিয়েই দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। আজ মঙ্গলবার মহাসপ্তমীর পূজা অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৬টায়। বিশুদ্ধ পঞ্জিকা মতে, আগামী শুক্রবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসবের।

রামকৃষ্ণ মিশনে দুর্গাপূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকের দিনে এখানে আসতে পেরে খুশি। সুষ্ঠুভাবে উৎসব সম্পন্ন হোক, উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হোক। কারণ অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়েই এই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল। বাংলাদেশ সেই আদর্শ নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী দুর্গা উৎসবের সাফল্য কামনা করে বলেন, ‘এখানে আমরা সবাই যার যার ধর্ম পালন করব। ধর্ম যার যার কিন্তু উৎসব সকলের। প্রতিটি উৎসবে সবাই ভাই-বোনের মতো কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই উৎসবটা উদ্‌যাপন করে যাব।’

প্রতিবছর দেশে পূজামণ্ডপ বেড়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রতিবছর পূজার সংখ্যা বাড়ছে। ৩০ হাজার বেশি মণ্ডপে পুজো হচ্ছে। আমাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে এখানকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় জনগণ তারাও সহায়তা করে যাচ্ছে।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাইদ খোকন, স্থানীয় সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ চৌধুরী ও পুলিশের মহাপরিদর্শক জাবেদ পাটোয়ারী এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

রামকৃষ্ণ মিশনের পর প্রধানমন্ত্রী ঢাকেশ্বরী পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর আঘাত হানতে দেখেছি আমি।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ হবে অসাম্প্রদায়িক চেতনার। সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। আমরা বাঙালি। আমরা বাঙালি হিসেবে এই দেশ স্বাধীন করেছি। আমরা চেষ্টা করেছি, আমাদের সকল ধর্মের মানুষের সমস্যা সমাধান করতে।’

মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের মতো হিন্দুদেরও হেবার মতো দান করার ব্যবস্থা এবং মসজিদভিত্তিক শিক্ষার মতো মন্দিরভিত্তিক শিক্ষার ব্যবস্থা চালু করার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। ঢাকেশ্বরী মন্দিরের জমি নিয়ে বিরোধের সমস্যার সমাধানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা সকলে মিলে এক হয়ে কাজ করবেন।’

জগতের মঙ্গল কামনায় দেবী দুর্গা এবার ঘোটক (ঘোড়ায়) চড়ে কৈলাশ থেকে মর্ত্যালোকে (পৃথিবী) আসবেন। এতে প্রাকৃতিক বিপর্যয়, রোগ-শোক, হানাহানি, মারামারি বাড়বে। অন্যদিকে কৈলাশে (স্বর্গে) বিদায় নেবেন দোলায় চড়ে। যার ফলে জগতে মড়ক ব্যাধি এবং প্রাণহানির মতো ঘটনা বাড়বে।

এবার সারা দেশে ৩১ হাজার ২৭২টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। আর রাজধানী ঢাকাতে এবার পূজা অনুষ্ঠিত হবে ২৩৪টি মণ্ডপে। সূত্র : বাসস।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা