kalerkantho

বিশ্ব ডিম দিবস আজ

উৎপাদন ও নানা পরিস্থিতির কারণে বাজার চড়া

শওকত আলী   

১২ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পুষ্টির চাহিদা পূরণ এবং বেশি দামের মাছ-মাংসের বিকল্প হিসেবে দিন দিনই বাড়ছে ডিমের চাহিদা। এই চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে খামারিরা ডিম উৎপাদন করতে পারছে না। আবার লোকসানের কথা জানিয়ে অনেক খামারিই ডিম উৎপাদন থেকে সরে গেছে। ফলে ঘাটতি আরো বেড়েছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায়ও চড়েছে ডিমের বাজার। ফলে প্রোটিনের উৎস ডিম কিনতেও এখন হিমশিম খেতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

আজ ২৩তম বিশ্ব ডিম দিবস। ৪০টি দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও আজ ‘সুস্থ সবল জাতি চাই, সব বয়সেই ডিম খাই’ স্লোগানে পালিত হচ্ছে দিবসটি। তবে এই ডিম দিবসে রাজধানীতে প্রতি হালি ডিম কিনতে ভোক্তাকে ৩৮ থেকে ৪০ টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। গত বছরের একই সময়ে যা ২৬ থেকে ৩০ টাকার মধ্যে ছিল। রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) গতকালের বাজার বিশ্লেষণের তথ্যে দেখা গেছে, এক বছরের ব্যবধানে প্রতি হালি ডিমে দাম বেড়েছে কমপক্ষে ১২ টাকা বা ২৮.৫৭ শতাংশ।

রাজধানীর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা বাজারে প্রতি হালি ব্রয়লার মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ৩৮ থেকে ৪০ টাকায়। ডজন হিসেবে কিনলে ১১০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। আড়তদাররা প্রতি পিস ডিম আট টাকায় বিক্রি করছে, যা মাসখানেক আগেও সাত টাকার মধ্যেই ছিল।

তেজগাঁওয়ের মোহনা এন্টারপ্রাইজের ডিমের পাইকারি বিক্রেতা আমিনুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন. ‘খামারিদের উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। মুরগির খাদ্যসহ অন্যান্য খরচ এখন বাড়তি। মুরগির বাচ্চার দাম হঠাৎ করেই কোনো কোনো সময় বেড়ে যায়। এসব কারণে ডিমের দাম বেড়েছে। একসময় তো অনেকে সমান সমান দামেই ডিম বিক্রি করেছে। লাভ না হওয়ায় অনেকে ডিমের উৎপাদন থেকেও সরে এসেছে।’

হঠাৎ করে ডিমের দাম অনেক বেড়ে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে এ খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, প্রায় এক বছর ধরে ডিমের ভালো দাম না পেয়ে অনেক খামারি উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। গত কোরবানির ঈদে গরুর মাংসের কারণেও ডিমের চাহিদা অনেক পড়ে যায়। এর পরপরই ইলিশ মাছের ভালো সরবরাহের কারণে মানুষ ডিম কম খেয়েছে। সর্বশেষ পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘটের কারণে শহরে ডিমের সরবরাহে বড় একটি ধাক্কা এসেছিল। এসব কারণে অন্তত খামারি পর্যায়ে উৎপাদন কমপক্ষে এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত কমে গেছে। এদিকে কোরবানির মাংসের মজুদ কমায় এবং ইলিশ বিক্রি বন্ধ থাকায় আবার ডিমের চাহিদা বেড়েছে। আর এই চাপের কারণেই চাহিদার সঙ্গে সরবরাহের বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। তাই এখন বাড়তি দাম দিয়ে ডিম কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের।

এ বিষয়ে ‘ওয়ার্ল্ডস পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’-এর সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেড় বছর খামারিরা ঠিকমতো দাম পায়নি। এ কারণে অনেক ছোট ছোট খামার বন্ধ হয়েছে বা ডিমের উৎপাদন থেকে সরে এসেছে। অন্য কিছু কারণেও গত দুই মাসে ডিমের চাহিদা কম ছিল। কিন্তু এখন আবার চাহিদা বেড়েছে। তবে সর্বশেষ শ্রমিক ধর্মঘটে সরবহারে একটি বড় সমস্যা হয়েছে। এ কারণে দাম বেড়েছে। তবে ধীরে ধীরে দাম আবার স্বাভাবিক হবে।’

বিপিআইসিসির হিসাবে বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে প্রতিদিন তিন কোটি ৪০ লাখ ব্রয়লার মুরগির ডিম উৎপাদিত হচ্ছে। তবে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বলছে, গৃহপালিত হাঁস, মুরগি ও কোয়েল পাখির ডিমসহ প্রতিদিন মোট চার কোটি ৭১ লাখ ডিম উৎপাদিত হচ্ছে।

এদিকে বিশ্ব ডিম দিবস উদ্‌যাপনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) যৌথভাবে আজ সকাল সাড়ে ৯টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে শোভাযাত্রা ও সিরডাপ একটি সেমিনারের আয়োজন করেছে। এ ছাড়া ঢাকার চারটি স্থানে শ্রমজীবী মানুষকে বিনা মূল্যে সিদ্ধ ডিম খাওয়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রেস ক্লাব, কারওয়ান বাজার, ধানমণ্ডি, রবীন্দ্রসরোবর ও মিরপুরে বিনা মূল্যে সিদ্ধ ডিম বিতরণ করা হবে।

মন্তব্য