kalerkantho

বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করতেই ‘স্টেট স্পন্সরড’ রায় : রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নেতৃত্বশূন্য করতেই ২১ আগস্ট গ্রেনেড হত্যার ঘটনা ঘটানো হয়েছে—আদালতের রায়ের এই পর্যবেক্ষণ ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের বক্তব্যের জবাবে বিএনপি বলেছে, তাদের নিশ্চিহ্ন করতেই ‘স্টেট স্পন্সরড’ রায় দেওয়া হয়েছে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘গতকাল (বুধবার) আমরা রায়ের মধ্যে কিছু পর্যবেক্ষণ দেখেছি এবং আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের নানা কথা, নানা উল্লাস লক্ষ করছি। আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চাই, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গতকাল যে সাজা দেওয়া হয়েছে তা স্টেট স্পন্সরড জাজমেন্ট। বিএনপিকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংসের জন্য, বিরোধী দলগুলোকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য সরকারের বিশেষ ব্যক্তির মনোবাঞ্ছা পূরণেই এই রায় দেওয়া হয়েছে।’

রিজভী বলেন, ‘২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত; একতরফা নির্বাচন করার জন্য এটি একটি কারসাজি। এই মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের অন্য নেতৃবৃন্দ ও উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ফাঁসানোর লক্ষ্যে রাষ্ট্রযন্ত্রকে কী নির্মমভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল সে নিয়ে আমরা অনেকবার আপনাদের বলেছি। হাত-পায়ের নখ তুলে নিয়ে অকথ্য শারীরিক নির্যাতনের মাধ্যমে সম্পূর্ণ জবানবন্দি নেওয়া হয়েছিল হুজি নেতা মুফতি হান্নানের কাছ থেকে। মুফতি হান্নান নিজে আদালতের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়ে বলেছিলেন, ব্যাপক নির্যাতন করে সিআইডির লিখিত কাগজে তাঁর সই আদায় করা হয়েছিল। আদালত সেই আবেদন আমলে নেননি। কেন? এটি এক বিরাট প্রশ্ন।’

রিজভী আরো বলেন, ‘মুফতি হান্নানের হাতে লেখা ১০ পৃষ্ঠার আবেদনপত্রে বলা হয়, গ্রেপ্তারের পর তাঁকে ৪১০ দিন রিমান্ডে নিয়ে নির্মম নির্যাতন করা হয়েছিল। মুফতি হান্নান প্রত্যাহারের আবেদনে বলেছিলেন, এই ২১ আগস্ট বোমা হামলার ঘটনায় জনাব তারেক রহমান ও বিএনপির কেউ জড়িত নয়। তাহলে এই যে প্রত্যাহারের আবেদন, তাকে আমলে না নিয়ে কারো ইচ্ছা পূরণের যে রায়টা হলো—এটা কি ন্যায়বিচার? এটা কি বিরোধী দল ধ্বংসের রায় নয়? জনগণ এই রায় প্রত্যাখ্যান করেছে।’

সংবাদ সম্মেলনে দলের নেতা সেলিমা রহমান, জিয়াউর রহমান খান, আবদুস সালাম আজাদ, মুনির খান, ফরিদা ইয়াসমীন, আমিনুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য