kalerkantho

একনেকে ১৭ প্রকল্প অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কড়াইল বস্তির বাসিন্দাদের স্থানান্তরের নিশ্চয়তা দিতে না পারায় রাজউকের গুলশান-বনানী-বারিধারা লেক উন্নয়ন শিরোনামের সংশোধিত প্রকল্পটি ফেরত পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি উত্থাপন করা হয়েছিল। রাজধানীর শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করেন।

সভায় ১৪ হাজার ২০০ কোটি টাকার ১৭টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো রাজশাহীতে ভূউপরিস্থ পানি শোধনাগার প্রকল্প।

নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের আগে তড়িঘড়ি করে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্প অনুমোদনের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গত ১১ সেপ্টেম্বর থেকে গতকাল ১১ অক্টোবর পর্যন্ত চারটি একনেক সভায় ৮৫টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হলো।

জানা গেছে, গুলশান-বনানী-বারিধারা লেক উন্নয়ন প্রকল্পটি ২০১৩ সালে প্রথম যখন একনেক সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়, তখন এর ব্যয় ছিল ৪১০ কোটি টাকা। সেটির ব্যয় বাড়িয়ে এখন চার হাজার ৮৮৬ কোটি টাকায় উন্নীত করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে না পারায় এখন প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ দুটিই বেড়েছে। গতকাল একনেক সভায় সংশোধিত আকারে প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হলে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা রাজউকের কাছে জানতে চান, এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে কড়াইল বস্তিতে থাকা যে ১২ হাজার বাসিন্দাকে উচ্ছেদ করা হবে, তাদের জন্য কোথায় জায়গা রাখা হয়েছে। তাদের কোথায় স্থানান্তর করা হবে। এ সময় রাজউক প্রতিনিধি কোনো উত্তর দিতে পারেননি। তখন প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেদিন এই ১২ হাজার বাসিন্দার বিকল্প থাকার জায়গা করা যাবে, সেদিন প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হবে।

সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘নির্বাচনের সময় সাধারণত ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করেন না। এ সময় সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। তা ছাড়া আমরা উন্নয়নের মাধ্যমে এমন পথ তৈরি করতে চাই, যাতে বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা ওই পথেই হাঁটতে পারেন। পরিবেশ তৈরি ও অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে তাদের বিনিয়োগ করতে উৎসাহ দেওয়া হবে। উন্নয়নের গতি থামানো যাবে না। নির্বাচন চলবে, আবার উন্নয়নও হবে। উন্নয়ন অব্যাহত রাখতেই ঘন ঘন একনেক বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

পরিকল্পনামন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, একনেক সভায় ১৪ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে মোট ১৭টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে খরচ হবে ১১ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা, উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে পাওয়া যাবে ১৯৫ কোটি টাকা আর বাকি দুই হাজার ৮১১ কোটি টাকা সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকহারে কমে যাওয়ায় রাজশাহী মহানগরীতে ভূউপরিস্থ পানি শোধন করে সে পানি নগরবাসীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। চার হাজার ৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজশাহীর গোদাগাড়ী ও পবা উপজেলায় নির্মাণ করা হবে পানি শোধনাগার।

বন্দরনগরী চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সড়ক নেটওয়ার্ক উন্নয়ন এবং বাস/ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণসংক্রান্ত একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ হবে এক হাজার ২২৯ কোটি টাকা। এই প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মোট ৫২৮ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ৩৩২ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন করা হবে। সংযোগ সড়কসহ সেতু নির্মাণ হবে ৩৭টি। ৩০০ ধারণক্ষমতার বাস ও ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে এই প্রকল্পের আওতায়। ফরিদপুর-ভাঙ্গা-বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা জাতীয় মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার জন্য ভূমি অধিগ্রহণে আলাদা একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ হবে এক হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা।

একনেকে অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ২৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিবাস নির্মাণ প্রকল্প, ৩০২ কোটি টাকা ব্যয়ে বৈরাগীরপুল (বরিশাল) টুমচর-বাউফল (পটুয়াখালী) জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প, ১৭৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের নিমিত্তে নন্দিগ্রাম-তালোড়া-দুপচাঁচিয়া-জিয়ানগর-আক্কেলপুর জেলা মহাসড়ক এবং নন্দিগ্রাম-কালীগঞ্জ-রানীনগর জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প, ৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চত্বরে একটি বহুতল অফিস ভবন নির্মাণ প্রকল্প, দুই হাজার ৫৫১ কোটি টাকা ব্যয়ে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন- চট্টগ্রাম জোন (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্প।

মন্তব্য