kalerkantho

ভারতে আঘাত হেনে ‘তিতলি’ এখন দুর্বল

৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত লঞ্চ চলাচল শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভারতে আঘাত হেনে ‘তিতলি’ এখন দুর্বল

ঘূর্ণিঝড় তিতলির প্রভাবে জোয়ারের পানিতে ফেরির গ্যাংওয়ে ডুবে গতকাল পটুয়াখালীর গলাচিপা পৌর এলাকার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ প্রায় চার ঘণ্টা বন্ধ থাকে। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঘূর্ণিঝড় দুটি প্রায় একই সময়ে তৈরি হয়ে পাল্লা দিয়ে এগিয়েছে। একটি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায়; অন্যটি বঙ্গোপসাগরে। ঘূর্ণিঝড় দুটি হলো ‘মাইকেল’ ও ‘তিতলি’। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়া তিতলি ভারতের ওড়িশার গোপালপুর ও অন্ধ্র প্রদেশে আঘাত হেনে এখন অনেকটা দুর্বল। এরই মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে ভারতে নিহত হয়েছে কমপক্ষে ১০ জন। শঙ্কা ছিল, বাংলাদেশের খুলনা ও সাতক্ষীরার সুন্দরবন অংশে আঘাত হানতে পারে তিতলি। তবে ঘূর্ণিঝড়টি এখন দুর্বল হয়ে গেছে। ফলে বাংলাদেশে ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কাও কমে এসেছে। অবশ্য ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দেশে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হচ্ছে। আজ শুক্রবারও দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি ঝরবে। তিতলি ওড়িশা উপকূল অতিক্রম করার পর দুর্বল হতে শুরু করায় বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ রুটে গতকাল দুপুর থেকে ফের নৌ চলাচল শুরু হয়েছে।

আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে, ৪ নম্বর সতর্কতা সংকেত নামিয়ে চারটি সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেওয়া হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় তিতলি এখন ভারতের ওড়িশা উপকূলে অবস্থান করছে। এটি আরো উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে দুর্বল হয়ে যেতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় গভীর মেঘমালা তৈরি হয়েছে। এতে সমুদ্রবন্দর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

আবহাওয়া কর্মকর্তা আবুল কালাম মল্লিক জানান, ঘূর্ণিঝড় তিতলি দুর্বল হয়ে গেলেও এর প্রভাবে আজও দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হবে।

আবহাওয়া অফিসের দেওয়া তথ্য মতে, গতকাল দেশের প্রায় সব স্থানে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। ঢাকায় পাঁচ মিলিমিটার, হাতিয়ায় ৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। তথ্য বলছে, ঘণ্টায় ১৪০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার বেগে তিতলি আঘাত হেনেছে ভারতের উপকূলে। ওড়িশার বিভিন্ন এলাকায় গাছ এবং বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে গেছে। বিভিন্ন অঞ্চল বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে রেল চলাচল করছে না। অতিবৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকার রাস্তায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভূমিধসের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

অমাবস্যার জোয়ার ও ঘূর্ণিঝড় তিতলির প্রভাবে সামুদ্রিক জোয়ারের পানি বেড়ে গিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে কক্সবাজার উপকূলের বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকা প্লাবিত হয়েছে। জোয়ারের পানির তোড়ে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ ও কুতুবদিয়া দ্বীপে শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত  হয়েছে। সাগরের জোয়ারের পানির উচ্চতা বেড়ে এসব ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। সাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে গতকাল সামুদ্রিক জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ফুট বেড়ে যায়। কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, ‘শাহপরীর দ্বীপে অরক্ষিত তিন কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ চলছে। ইতিমধ্যে এক কিলোমিটার বাঁধের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। যেটুকু বাঁধ তৈরি হয়েছে তার আশপাশের এলাকায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে বাঁধের অরক্ষিত অংশে জোয়ারের পানিতে বেশ কিছু বসতি উচ্ছেদ হয়েছে বলে খবর পেয়েছি।’

এদিকে তিতলির প্রভাবে গোটা বরিশাল অঞ্চলে থেমে থেমে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। গতকাল সকালে নগরীর চৌমাথায় নারিকেলগাছ ভেঙে মেহেদি হাসান শাওন নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি নবগ্রাম রোড ঈদগাহ সড়কের বাসিন্দা শহিদুল ইসলামের ছেলে।

চাঁদপুরে বড় আকারের লঞ্চ চলাচল শুরু হলেও ছোট ও মাঝারি আকারের লঞ্চ চলাচলে এখনো বিধি-নিষেধ রয়েছে। পরিস্থিতি আরো স্বাভাবিক হলে এসব নৌযানও চলাচল শুরু করবে।

বৈরী আবহাওয়ার কারণে গতকাল দুপুরে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে সব ধরনের লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকে। তবে ফেরি সার্ভিস চালু থাকায় এ সময় ঘাটে আসা শত শত যাত্রী ফেরিতে নদী পারাপার হয়।

ঘূর্ণিঝড় তিতলির প্রভাবে পটুয়াখালীর গলাচিপা ফেরিঘাটসহ ওয়াপদা বেড়িবাঁধের বাইরের প্রায় এক হাজার পরিবার জোয়ারের পানিতে পানিবন্দি হয়ে পড়ে। উপজেলার রামনাবাদ, তেঁতুলিয়া, কাজল, বুড়াগৌরাঙ্গ ও আগুনমুখা নদী দিয়ে স্বাভাবিকের চেয়ে দু-তিন ফুট ওপর দিয়ে জোয়ারের পানি বইতে থাকে। ফলে গতকাল গলাচিপায় ফেরি চলাচল প্রায় চার ঘণ্টা বন্ধ থাকে। 

[প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন বরিশাল অফিস, কক্সবাজারের নিজস্ব প্রতিবেদক, চাঁদপুর, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) ও গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি ]

মন্তব্য