kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

উফশী ধানের দুটি নতুন জাত উদ্ভাবন

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

১১ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ধানের দুটি নতুন জাত উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)। বোরো মৌসুমে চাষের উপযোগী জাত দুটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ব্রি ধান ৮৮’ ও ‘ব্রি ধান ৮৯’।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের জনসংযোগ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার কৃষি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. নাসিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় বীজ বোর্ডের সভায় নতুন জাত দুটি অনুমোদন পায়। সভায়  ব্রির মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীর ও কৃষি মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় বীজ বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জনসংযোগ বিভাগ জানায়, নতুন উদ্ভাবিত ব্রি ধান ৮৮ জাতে আধুনিক উচ্চ ফলনশীল বা উফশী ধানের সব বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। এ জাতের ডিগ পাতা খাড়া এবং লস্বা। ধানের দানা অনেকটা ব্রি ধান ২৯-এর মতো, তবে সামান্য চিকন। পূর্ণ বয়স্ক গাছের উচ্চতা ১০০ সেন্টিমিটার। এ জাতের জীবনকাল ১৪০-১৪৩ দিন। এক হাজারটি পুষ্ট ধানের ওজন প্রায় ২২.১ গ্রাম। গড় ফলন হেক্টরপ্রতি সাত মেট্রিক টন। তবে উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে ফলন হেক্টরে ৮.৮ টন পর্যন্ত পাওয়া যায়। পাকা ধানের রং খড়ের মতো। চালের আকার মাঝারি চিকন ও ভাত ঝরঝরে। এটিকে ব্রি ধান ২৮-এর পরিপূরক জাত হিসেবে নির্বাচন করা হয়। এ ধানে ভাত ঝরঝরে করার উপাদান অ্যামাইলোজের পরিমাণ ২৬.৩ শতাংশ। এ জাতে রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ প্রচলিত জাতের চেয়ে অনেক কম।

অন্যদিকে ‘ব্রি ধান ৮৯’-এর গড় ফলন আট মেট্রিক টন। উপযুক্ত পরিচর্যায় এ জাত হেক্টরপ্রতি ৯.৭ টন ফলন  দিতে সক্ষম। জাতটির জীবনকাল ১৫৪ থেকে ১৫৮ দিন। এই চালের ভাত ঝরঝরে এবং সুস্বাদু। এ জাতের পূর্ণ বয়স্ক গাছের গড় উচ্চতা ১০৬ সেন্টিমিটার। কাণ্ড শক্ত, পাতা হালকা সবুজ এবং ডিগ পাতা চওড়া। ধানের ছড়া লম্বা এবং পাকার সময় কাণ্ড ও পাতা সবুজ থাকে। এ জাতের জীবনকাল ব্রি ধান-২৯-এর চেয়ে তিন-পাঁচ দিন আগাম। এক হাজার পুষ্ট ধানের ওজন প্রায় ২৪.৪ গ্রাম। এ ধানে অ্যামাইলোজের পরিমাণ ২৮.৫ শতাংশ।

ব্রির বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, নতুন জাত দুটি কৃষকপর্যায়ে জনপ্রিয় হবে এবং সামগ্রিকভাবে ধান উৎপাদন বাড়বে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা