kalerkantho

রোহিঙ্গা গণহত্যা

আইসিসিতে সাক্ষ্য উপস্থাপনের আবেদন করবে সিএসজিজে

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রোহিঙ্গাদের প্রতি নিপীড়নকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করেছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ‘সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব জেনোসাইড অ্যান্ড জাস্টিস (সিএসজিজে)’। গতকাল শনিবার দুপুরে ঢাকার আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে সিএসজিজে প্রকাশিত ‘দ্য রোহিঙ্গা জেনোসাইড : কম্পাইলেশন অ্যান্ড অ্যানালাইসিস অব সারভাইভারস টেস্টিমোনিস’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়। সিএসজিজের পরিচালক ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অন্যতম ট্রাস্টি মফিদুল হক বলেন, কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবিরে তিন দফায় সংগৃহীত ১৬১ জন ক্ষতিগ্রস্তের সাক্ষ্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন ও সর্বজনীনভাবে স্বীকৃত আইনের আলোকে বিশ্লেষণ করে সিএসজিজে রোহিঙ্গা নিপীড়নকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

মফিদুল হকের কাছে কালের কণ্ঠ’র প্রশ্ন ছিল, রোহিঙ্গাদের ওপর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করা আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতের (আইসিসি) কৌঁসুলির দপ্তরে সিএসজিজে তার প্রতিবেদন ও সাক্ষ্য উপস্থাপন করবে কি?

জবাবে তিনি বলেন, ‘দায়মুক্তির অবসান ও বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করাই আমাদের লক্ষ্য। আইসিসির কতগুলো রীতিনীতি আছে এবং আইসিসি কৌঁসুলিই তা ঠিক করবেন। আমরা এমনভাবে সাক্ষ্যগুলো সংগ্রহ করেছি, আইসিসি প্রসিকিউশন যদি সেগুলো বিবেচনায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তবে সেগুলো চাইলে লাগাতে পারবেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা অবশ্যই আইসিসির কাছে এ সাবমিশনগুলো নিয়ে যাচ্ছি। অন্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও এগুলো দিচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তের কণ্ঠস্বর হিসেবে আমরা আইসিসির বিবেচনার জন্য তাদের সামনে অবশ্যই রাখব।’

মফিদুল হক আবারও বলেন, ‘আইসিসির কিছু রীতিনীতি ও উদ্দেশ্য আছে। সে অনুযায়ী তারা সিদ্ধান্ত নেবে। অবশ্যই আমরা মনে করি, এ প্রতিবেদন বিচারপ্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করবে।’

সংবাদ সম্মেলনে গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি ও তথ্য সংগ্রহের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রতিনিধিদলের পক্ষে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের নিরাপত্তা ও স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ অনুষদের শিক্ষক ইমরান আজাদ, ব্র্যাকের লিগ্যাল অ্যান্ড কমপ্ল্যায়েন্স আইনজীবী শাওলি দাশগুপ্ত ও ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট শারমিন সুলতানা স্বাতী। তাঁরা জানান, রোহিঙ্গারা তাঁদের ধর্মীয় পরিচয় (মুসলমান) ও নৃতাত্ত্বিক পরিচয়ের কারণেই গণহত্যার শিকার। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর ধারাবাহিকভাবে নির্যাতন চালানো হয়েছে। রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের উপস্থিতির বিষয়টি ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত হলেও মিয়ানমার তাদের নৃগোষ্ঠী/নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি।

শাওলি দাশগুপ্ত কক্সবাজারে আশ্রয়শিবিরে রোহিঙ্গাদের চিকিৎসাসেবা নেওয়ার ছবি দেখিয়ে বলেন, রোহিঙ্গাদের অনেকে জীবনে প্রথমবারের মতো চিকিৎসাসেবা পেয়েছে বাংলাদেশে এসে।

গবেষকদলটি জানায়, সংগৃহীত সাক্ষ্যগুলো থেকে তারা গণহত্যার পাঁচটি লক্ষণের চারটিই পেয়েছে। প্রথমত, মুসলমান ও রোহিঙ্গা পরিচয়ের কারণে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার থেকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা চালানো হয়েছে। দ্বিতীয়ত, রোহিঙ্গা নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের ধারাবাহিকভাবে শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি করা হয়েছে। তৃতীয়ত, সুপরিকল্পিতভাবে রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রায় ব্যাঘাত ঘটানো হয়েছে। সামরিক বাহিনী এতে নেতৃত্ব দিয়েছে এবং সহযোগীর ভূমিকায় ছিল উগ্রবাদী মগরা। চতুর্থত, রোহিঙ্গাদের শিশু জন্মের ওপর ব্যাপকমাত্রায় নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।

 

 

 

মন্তব্য