kalerkantho

শ্রীপুরে সড়কে গলাকাটা স্বামী কাছে রক্তাক্ত স্ত্রী

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



তখন সকাল ঠিক সাড়ে ৭টা। গ্রামের ভেতর সরু সড়কে গলাকাটা এক তরুণ খাবি খাচ্ছিলেন। প্রায় ১৪ থেকে ১৫ ফুট দূরে রক্তাক্ত অবস্থায় কাতরাচ্ছিলের ওই তরুণের স্ত্রী। মাঝখানে ছিটকে পড়ে রয়েছে খাবারভর্তি দুটি টিফিন ক্যারিয়ার। স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ওই তরুণকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর অবস্থায় তাঁর স্ত্রীকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার সকালে গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর এলাকার কেওয়া পশ্চিমখণ্ড (দারগারচালা) গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। স্বজনদের দাবি, দাম্পত্য কলহের জেরে ঘটনাটি ঘটেছে।

নিহত ওই তরুণের নাম মোরশেদ আলম সরকার (২৩)। তিনি নরসিংদীর পলাশ উপজেলার তারগাঁও গ্রামের সিরাজ উদ্দিন সরকারের ছেলে। তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তার (২০) শ্রীপুর পৌর এলাকার কেওয়া দক্ষিণখণ্ড গ্রামের বাচ্চু মিয়ার মেয়ে। তাঁরা দুজনেই পাশাপাশি দুটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন।

চিকিৎসাধীন স্বপ্না আক্তার পুলিশের কাছে দাবি করেন, কারখানায় যাওয়ার পথে বচসা হয় তাঁদের। একপর্যায়ে তাঁর স্বামী তাঁর বুকে-পিঠে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করেন। পরে মোরশেদ তাঁর নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে দেন। তবে মোরশেদ আলমের মা খাদিজা বেগম দাবি করেন, তাঁর ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে।

খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গতকাল দুপুরে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম মোল্লা জানিয়েছেন, ব্যাপক চেষ্টা চালিয়েও ঘটনায় ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরি উদ্ধার করা যায়নি। ছুরিটি গায়েব হওয়ার কারণে ঘটনা নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্বজনরা জানায়, মা-বাবার অমতে মোরশেদ আলম ও স্বপ্নার বিয়ে হয় প্রায় সাত বছর আগে। তাঁদের এক ছেলেশিশু রয়েছে। মোরশেদ আলমের মা-বাবাও ওই এলাকায় ভাড়া থাকেন। কিন্তু মা-বাবা বিয়ে মেনে না নেওয়ায় মোরশেদ তাঁর শ্বশুরবাড়ি থাকতেন।

 

মন্তব্য