kalerkantho

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

তালা ঝুলিয়ে আন্দোলনে কর্মীরা

বাকৃবি প্রতিনিধি   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উপাচার্যের কার্যালয়ে হট্টগোলের ঘটনায় সাময়িক বহিষ্কার ও শোকজ আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে কর্মবিরতি পালন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান ধর্মঘট পালন করার কারণে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলী আকবর। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে তাঁরা এ কর্মসূচি পালন করেন। সকাল ১১টার দিকে একটি বিক্ষোভ মিছিলও বের করেন তাঁরা। এদিকে আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষা হলেও প্রশাসনিক কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়নি। সনদ উত্তোলনসহ বিভিন্ন জরুরি কাজে গিয়ে ফিরে আসতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার পূর্ব অনুমতি ছাড়াই বিভিন্ন দাবি নিয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ে ঢুকে কর্মকর্তারা উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। বিভিন্ন অশালীন ভাষা ব্যবহার, গালাগাল এমনকি উপ-উপাচার্যের দিকে তেড়ে যান তাঁরা। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রশাসন বুধবার দুজনকে সাময়িকভাবে চাকরি থেকে সাসপেন্ড করে এবং অপর ছয়জনকে শোকজ করে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ওই দিনই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভবনে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন। বৃহস্পতিবার সকালে প্রশাসন ভবনের সামনে জড়ো হন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্তরের কর্মচারী-কর্মকর্তারা। পরে তাঁরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে প্রশাসন ভবন, কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখা, প্রকৌশল ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। এ সময় তাঁরা প্রশাসন ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেন।

একই দাবিতে বুধবার দুপুর থেকে ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা, প্রক্টর, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হল প্রভোস্ট ও শিক্ষকদের বহনকারী ছোট ছোট যানবাহন বন্ধ করে দেওয়া হয়। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল সড়ক বন্ধ করে দিয়ে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। এতে উপাচার্য তাঁর ভবনে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। বিকেল ৫টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আন্দোলনকারীদের একটি অংশ উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান করছিল।

আন্দোলনরত নেতারা বলেন, জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়ন ও পদোন্নতির দাবিতে গত বছরের জুন মাস থেকে আন্দোলন করে আসছে অফিসার পরিষদ। কিন্তু দাবি আদায় না হওয়ায় তারা বিভিন্ন কার্যালয়ে তালা লাগায়। তাঁরা আরো জানান, ‘পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের প্রতিবেদন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠিয়েছে। এই প্রতিবেদনে পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য সুপারিশ করে মঞ্জুরি কমিশন। তবে প্রতিবেদনের কোনো তথ্য আমরা জানি না। সেটা জানার জন্য আমাদের এই নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন।

এ বিষয়ে অফিসার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন বলেন, দুজনকে সাময়িক বহিষ্কার ও ছয়জনের শোকজ করার বিষয়টি নিয়মবহির্ভূত। বহিষ্কারাদেশ দ্রুত প্রত্যাহার করা না হলে আগামী রবিবার থেকে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলী আকবর বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদে আমাকে সকাল থেকে বাসভবনে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। এখন বিভিন্ন মাধ্যমে আলোচনা করে বিষয়টি সুরাহা করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

মন্তব্য