kalerkantho

কুমুদিনী হাসপাতাল থেকে নিখোঁজ স্কুলছাত্রীর লাশ সিলেটে

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কুমুদিনী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিখোঁজ স্কুলছাত্রী রুমির লাশ পাওয়া গেল সিলেটে। ধর্ষণের পর হত্যা করে রাস্তার পাশে ফেলে রাখা রুমির লাশ ১০ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেটের বিশ্বনাথ থানা পুলিশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ঘাতক শফিক মিয়াসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের বাড়ি বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে।

খুন হওয়া কিশোরী রুমি আক্তার টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার উয়ার্শী ইউনিয়নের নগরভাতগ্রাম আউটপাড়া গ্রামের আতাউর রহমানের মেয়ে। সে মির্জাপুর উপজেলার মৈশামূড়া বসন্ত কুমারী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। রুমির ভাই শফিকুল ইসলাম ও চাচা কবির হোসেন মঙ্গলবার সকালে মির্জাপুর থেকে বিশ্বনাথ গিয়ে ছবি দেখে রুমির পরিচয় নিশ্চিত করেন।

জানা গেছে, পেটে ব্যথা নিয়ে ৪ সেপ্টেম্বর কুমুদিনী হাসপাতালের ফিমেল মেডিসিন ওয়ার্ডের ৫২ নম্বর বেডে ভর্তি হয় রুমি। সেখানে শফিক নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ৯ সেপ্টেম্বর পরিবারের লোকজন হাসপাতালে রুমিকে দেখে দুপুরের খাবার খাইয়ে বাড়ি চলে যায়। ওই দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে হাসপাতাল থেকে স্বজনদের ফোন করে জানানো হয় যে হাসপাতালে রুমিকে পাওয়া যাচ্ছে না। এ খবর শুনে স্বজনরা হাসপাতালে ছুটে আসে। আশপাশ এলাকায় খোঁজাখুঁজি করেও না পেয়ে রুমির ভাই রাতেই মির্জাপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

কুমুদিনী হাসপাতালের ভিডিও ফুটেজ দেখে পুলিশ জানতে পারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা ১৭ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডে রুমি কুমুদিনী হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যায়। সে হাসপাতালের প্রধান ফটকে এলে শফিক তাকে নিয়ে যায়।

এদিকে ১০ সেপ্টেম্বর রাতে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে বিশ্বনাথ থানা পুলিশ রামপাশা ইউপির পাটাকইন গ্রামে রাস্তার পাশ থেকে রুমির লাশ উদ্ধার করে। ১২ সেপ্টেম্বর বেওয়ারিশ হিসেবে লাশ হযরত মানিক গোরস্তানে দাফন করা হয়।

লাশ উদ্ধারের পর মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে ১৬ সেপ্টেম্বর রবিবার সন্ধ্যায় দুজনকে গ্রেপ্তার করে বিশ্বনাথ থানা পুলিশ। তাঁরা হলেন রামচন্দ্রপুর গ্রামের ওহাব উল্লাহর দুই পুত্রবধূ দিপা বেগম ও লাভলী বেগম। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ মঙ্গলবার সকালে মির্জাপুরের গোড়াই ইউনিয়নের সোহাগপাড়া থেকে ওহাব উল্লাহর ছেলে শফিক ও সন্ধ্যায় গাজীপুর থেকে তার স্ত্রী সোনালী আক্তার হ্যাপীকে গ্রেপ্তার করে। শফিক মির্জাপুরে নাসির গ্লাস ফ্যাক্টরিতে চাকরি করত বলে পুলিশ জানায়।

বিশ্বনাথ থানার ওসি শামছুদ্দোহা জানান, শফিকের শাশুড়ি অসুস্থ হলে তাঁকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একই ওয়ার্ডে অসুস্থ রুমি ভর্তি হয়। হাসপাতালে যাওয়া-আসার একপর্যায় রুমির সঙ্গে পরিচয় হয় শফিক মিয়ার। ৯ সেপ্টেম্বর রুমিকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিশ্বনাথে নিজ গ্রাম রামচন্দ্রপুরে নিয়ে যায় শফিক। সেখানে ধর্ষণের পর খালের পানিতে চুবিয়ে রুমিকে সে হত্যা করে। পরে লাশ পাশের পাঠাকইন গ্রামে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে শফিক টাঙ্গাইলে পালিয়ে যায়।

এদিকে লাশ উদ্ধারের পর থেকে শফিকের স্ত্রী সোনালী আক্তার হ্যাপী অতি আগ্রহী হয়ে আসামিদের ধরতে বারবার পুলিশকে ফোন করেন। এতে পুলিশের সন্দেহ হলে হ্যাপীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

মন্তব্য