kalerkantho

সংসদে তথ্য প্রতিমন্ত্রী

গুজব শনাক্তকারী সেল কাজ করবে অক্টোবর থেকে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব, গুগলসহ সব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া, মিথ্যা, বানোয়াট তথ্য প্রচারের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। আগামী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই তথ্য মন্ত্রণালয় গঠিত গুজব মনিটরিং সেল সংবাদমাধ্যমকে জানিয়ে দেবে কোন তথ্যটি গুজব, কোন সংবাদটি ভুয়া।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এমন তথ্য জানিয়েছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট তারানা হালিম। অধিবেশনে বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের বিধিতে আনা প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। এর আগে সংরক্ষিত সংসদ সদস্য বেগম ফজিলাতুন নেসা বাপ্পির প্রস্তাবটি ছিল—‘সংসদের অভিমত এই যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে গুজব ছড়িয়ে রাষ্ট্রীয় ও জনজীবন বিশৃঙ্খলা এবং অরাজকতা প্রতিরোধে একটি মনিটরিং সেল গঠন করা হোক।’ এ সময় তিনি সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কয়েকটি গুজবের তথ্যচিত্র সংসদে তুলে ধরে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। তবে মন্ত্রীর ব্যাখ্যার পর রেওয়াজ অনুযায়ী তিনি তাঁর সিদ্ধান্ত প্রস্তাবটি প্রত্যাহার  করে নেন।

সংসদে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাঈদীকে চাঁদে দেখা গেছে, নাসিরনগরে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা করা হয়েছে, এ রকম হাজার হাজার গুজব ছড়ানো হয়েছে। নির্বাচনের আগে বিএনপি-জামায়াত সব সময়ই এ ধরনের কাজ করে থাকে। ৩০০টি ভুয়া ফেসবুক পেজ তারা দেশের বাইরে থেকে কার্যকর রেখেছে। তবে সোশ্যাল মিডিয়ার বিষয়টি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের। তাই বিটিআরসি এ ধরনের কনটেন্ট ফিল্টারিং করে থাকে। তাদের সহযোগিতা দিয়ে থাকে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেল (এনটিএমসি)। তা ছাড়া একটি টেলিকমিউনিকেশন বিভাগের অধীনে একটি প্রজেক্ট রয়েছে, যার মাধ্যমে দেশের ভেতর থেকে যেসব কনটেন্ট প্রবেশ করবে সেগুলো ফিল্টার করতে পারবে। এগুলো আইআইজির মাধ্যমে ফিল্টার করা হয়। কিন্তু বিদেশের কনটেন্টগুলো ফিল্টার করা খুব কঠিন হয়ে যায়। সে জন্য একটি প্রকল্প ও ইকুইপমেন্ট হাতে নেওয়ার কথা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা নিবিড়ভাবে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং আইসিটিতে যোগাযোগ অব্যাহত রাখব। বিষয়টি সামনে রেখে ত্বরিতগতিতে দ্রুততার সঙ্গে এক সপ্তাহের মধ্যে মনিটরিং নয়, গুজব শনাক্তের জন্য একটি সেল গঠন করেছি।’ গত ১৮ সেপ্টেম্বর ডিএফপির উপপ্রধান তথ্য অফিসার, সিনিয়ার তথ্য অফিসার, ফিচার রাইটারদের নিয়ে সেল গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে ছয়জন তথ্য অফিসারও রয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই বৃহৎ কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য বিশাল টিম প্রয়োজন। আমাদের পিআইবিতে লোকবল সংকট রয়েছে। সেখানে লোকবল বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমাদের টেকনিক্যাল সাপোর্ট গ্রুপের দরকার রয়েছে। নীতিমালা করার প্রয়োজন রয়েছে। আমরা পুনরায় নির্বাচিত হয়ে এলে তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে পূর্ণাঙ্গ সেল গঠন করব। দক্ষ জনবল নিয়ে সংবাদপত্রের পাশাপাশি ওই সেল তথ্য প্রদান করবে।’

 

মন্তব্য