kalerkantho

ফেরি চলাচলে বিঘ্ন, দুই ঘাটে তীব্র যানজট

শিবচর (মাদারীপুর) ও গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের শিমুলিয়া থেকে মাদারীপুরের শিবচরের কাঁঠালবাড়ি নৌপথে প্রায় সাত ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। গত বুধবার রাতে একটি রো রো ফেরি ডুবোচরে আটকা পড়ার কারণে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ফেরি চলতে পারেনি। এ কারণে চাপ পড়েছে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া থেকে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া পর্যন্ত নৌপথে। কিন্তু তীব্র স্রোতের কারণে ওই নৌপথেও ফেরি চলাচলে অনেক সময় লাগছে। এতে করে দুই ঘাটেই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডাব্লিউটিসি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌপথ পরিদর্শনে এসে যানবাহনকে বিকল্প পথ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা নদীতে দুই সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। রয়েছে তীব্র স্রোত ও নাব্যতা সংকট। স্রোতের কারণে খনন কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। এ কারণে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌপথে ফেরি চলাচলে অচলাবস্থা প্রকট হয়েছে। গতকাল সকাল ৬টার পর তিন-চারটি ফেরি চালু করা হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। উভয় ঘাটে আটকা পড়া সহস্রাধিক যানবাহনের যাত্রী ও শ্রমিকরা পড়েছে চরম দুর্ভোগে।

সরেজমিনে ও একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরে পানি বাড়তে থাকায় শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌপথের লৌহজং টার্নিংয়ে তীব্র ঘূর্ণিস্রোত সৃষ্টি হয়েছে। সেই সঙ্গে উজানে ব্যাপক নদী ভাঙনের কারণে স্রোতের সঙ্গে পলি আসায় নাব্যতা সংকটও প্রকট আকার ধারণ করেছে।

জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত লৌহজং টার্নিংয়ের ডুবোচরে আটকে ছিল রো রো ফেরি এনায়েতপুরী। সে কারণে ঝুঁকি এড়াতে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত সব ফেরি বন্ধ ছিল। পরে ফেরি চালু করলেও ধারণক্ষমতার কম যানবাহন নিয়ে তিন থেকে চারগুণ বেশি সময় লাগছে পারাপার করতে। এ কারণে কাঁঠালবাড়ি ঘাটে যাত্রীবাহী বাস, কাঁচামালবাহী ট্রাকসহ ছয় শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে। শিমুলিয়া ঘাটেও আটকা পড়ে চার শতাধিক যানবাহন।

ঢাকাগামী একটি ট্রাকের চালক হুমায়ুন বলেন, ‘মুরগি নিয়ে খুলনা থেকে এসে আজ তিন দিন ধরে কাঁঠালবাড়ি ঘাটে আটকে আছি। কিছু মুরগি মরেও গেছে।’

বিআইডাব্লিউটিসি কাঁঠালবাড়ি ঘাট ব্যবস্থাপক আবদুস সালাম বলেন, কয়েকটি ফেরি চললেও ঘাটে পৌঁছাতে কয়েকগুণ সময় বেশি লাগছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডাব্লিউটিএ) খনন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আ স ম মাশরেকুল আরেফিন বলেন, ‘তীব্র স্রোতের সঙ্গে বিপুল পরিমাণ পলি ও ঘূর্ণি স্রোতের সঙ্গে আমরা এক প্রকার যুদ্ধ করছি। বুধবার যে চ্যানেল ১৬ ফুট গভীরতায় কেটেছি। আজ (বৃহস্পতিবার) গিয়ে দেখি ১২ ফুটে নেমেছে। প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেই তবু আমাদের সাতটি ড্রেজার কাজ করছে। শিগগিরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।’

পরিস্থিতি পরিদর্শনে আসা বিআইডাব্লিউটিসির মহাব্যবস্থাপক মো. আশিকুজ্জামান বলেন, ‘শুধু জরুরি সার্ভিস পারাপারের জন্য চার-পাঁচটি কে-টাইপ ফেরি চালু রাখা হয়েছে। যাত্রীদের এ বিষয়টি মাথায় রেখে চলাচল করার অনুরোধ জানাচ্ছি।’

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটে চাপ : দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে দৌলতদিয়া-খুলনা মহাসড়কের বাংলাদেশ হ্যাচারিজ পর্যন্ত চার কিলোমিটার রাস্তায় যানবাহনের সারি দেখা গেছে।

বিআইডাব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক মো. খোরশেদ আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, স্রোতের তীব্রতার কারণে নৌপথের নির্দিষ্ট চ্যানেল ছেড়ে দেড় থেকে দুই কিলোমিটার উজান পথ ঘুরে ফেরিগুলো চলাচল করছে। এতে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ সময় বেশি লাগছে। পাশাপাশি ফেরির ট্রিপ সংখ্যাও আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌপথে ফেরি পারাপারে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে ওই নৌপথের গাড়িগুলো এখন দৌলতদিয়া ঘাট হয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন গন্তব্যে যাচ্ছে। তাই অতিরিক্ত গাড়ির চাপ বেড়ে যাওয়ায় দৌলতদিয়া ঘাটে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে।

মন্তব্য