kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৪ রবিউস সানি     

নরসিংদীতে পুলিশ-স্থানীয়দের সংঘর্ষে আহত ৪

অস্ত্র ছিনতাইয়ের অভিযোগ, পরে উদ্ধার

নরসিংদী প্রতিনিধি    

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নরসিংদীর শিবপুরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয়দের সংঘর্ষে দুই পুলিশ সদস্যসহ চারজন আহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার সকালে মহাসড়কের চৈতন্যা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় স্থানীয়রা পুলিশের দুটি রাইফেল ছিনতাই করলেও দেড় ঘণ্টা পর থানা-পুলিশ তা উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মহাসড়কের পাশে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে। কিন্তু ইটাখোলা হাইওয়ে পুলিশের দাবি, উচ্চ আদালতের নির্দেশে মহাসড়কে দুর্ঘটনারোধে থ্রি হুইলার গাড়ি (অটোরিকশা, নসিমন, করিমন, লেগুনা) বন্ধে ঘটনাস্থলে হাইওয়ে পুলিশ গেলে তাদের ওপর এলাকাবাসী হামলা চালায়। 

আহতরা হলেন ইটাখোলা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির কনস্টেবল বেলাল মিয়া ও মাহবুব মিয়া এবং চৈতন্যা এলাকার খোরশেদ মিয়ার ছেলে ওহিদুল্লাহ ও একই এলাকার বাচ্চু মিয়ার ছেলে মোহন মিয়া।

জানা যায়, গতকাল সকালে ইটাখোলা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ট্রাফিক পরিদর্শক (টিআই) জুলহাসের নেতৃত্বে একটি দল উচ্চ আদালতের নির্দেশে মহাসড়কে দুর্ঘটনারোধে থ্রি হুইলার গাড়ি বন্ধে চৈতন্যা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গেলে স্থানীয় লোকজন পুলিশের ওপর হামলা চালায়। তারা পুলিশ সদস্য বেলাল ও মাহবুবকে আটকের পর মারধর করে তাঁদের সরকারি রাইফেল ছিনিয়ে নেয়। খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশের আরেকটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে আটককৃত পুলিশ সদস্যদের ছাড়িয়ে নিয়ে এসে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাটি শিবপুর মডেল থানা-পুলিশকে জানালে তারা রাইফেল উদ্ধার করে। পরে আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে নরসিংদী হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

এ ব্যাপারে ইটাখোলা হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ হাফিজুর রহমান বলেন, ‘উচ্চ আদালতের নির্দেশে সড়ক থেকে থ্রি হুইলার গাড়ি বন্ধ করায় চালকরা আমাদের হাইওয়ে পুলিশের ওপর ক্ষুব্ধ ছিল। তাই আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে অস্ত্র ছিনতাই করে দুই পুলিশ সদস্যকে গুরুতর আহত করে। যেহেতু তারা পুলিশের ওপর হামলা করেছে, সেহেতু ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে চাঁদাবাজির মিথ্যা অভিযোগ তুলছে।’

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, চৈতন্যা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি ইটবোঝাই ট্রাক্টর মহাসড়কে উঠলে হাইওয়ে পুলিশ তা আটক করে মহাসড়কের পাশে তা নিয়ে যায়। এ সময় ট্রাক্টরটি কাদামাটিতে আটকে যায়। এ নিয়ে ট্রাক্টরচালকের সঙ্গে পুলিশের কথা-কাটাকাটি হয়। এর জেরে স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়ে হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে হাইওয়ে পুলিশের আরেকটি দল ওই এলাকায় গিয়ে মহাসড়কের পাশে বসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা দাবি করে। কিন্তু তারা চাঁদা না দেওয়ায় পুলিশ সদস্য তাদের গালাগালের পাশাপাশি কয়েকজনকে চড়-থাপ্পড় মারে। স্থানীয়রা এর প্রতিবাদ জানালে তাদের সঙ্গে পুলিশের প্রথমে কথা-কাটাকাটি ও পরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশের আরেকটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে গুলিবর্ষণ করলে স্থানীয় ওহিদুল্লাহ ও মোহন আহত হয়। তবে তাঁরা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছে না।

নরসিংদী হাসপাতালে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শামীমা ইয়াসমি বলেন, ‘আহতদের কারো শরীরে গুলির কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।’

শিবপুর মডেল থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘ট্রাক্টর আটকের ঘটনা নিয়ে হাইওয়ে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষ হয়। এতে দুই পুলিশ সদস্যসহ চারজন আহত হন। সংঘর্ষের সময় স্থানীয়রা পুলিশের দুটি অস্ত্র ছিনতাই করেছিল। আমরা তা উদ্ধার করে তাদের হাতে হস্তান্তর করেছি। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা