kalerkantho

সোমবার । ২৬ আগস্ট ২০১৯। ১১ ভাদ্র ১৪২৬। ২৪ জিলহজ ১৪৪০

যশোরে ‘ভেজাল ইনজেকশনে’ প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ

হাসপাতালে ভাঙচুর

যশোর অফিস   

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



যশোরে ‘ভেজাল ইনজেকশনে’ প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ

পিংকির সঙ্গে তোলা স্বামীর এই ছবি এখন শুধুই স্মৃতি। ছবি : সংগৃহীত

যশোর শহরের কুইন্স হসপিটালে পিংকি (৩০) নামের এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। তবে সদ্যোজাত মেয়েটি সুস্থ আছে। ভেজাল ইনজেকশন পুশ করায় প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার রাতে।

ওই ঘটনার পর উত্তেজিত লোকজন ওই হাসপাতালে জড়ো হয়। তারা হাসপাতালের সাততলায় উঠে আসবাবপত্র তছনছ করে। ভেঙে ফেলে জানালার গ্লাস। এ সময় হাসপাতালের অন্য রোগী ও তাদের স্বজনরা আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করে। এ ছাড়া হাসপাতালে অবস্থানরত চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীরা যে যার মতো পালিয়ে যান।

পিংকির স্বামীর নাম পার্থপ্রতীম দেবনাথ। প্রায় আট বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয়েছিল। অনেক চিকিৎসার পর তিনি সন্তান ধারণ করেছিলেন। তাঁর শ্বশুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিতকুমার নাথ। 

পার্থের ভাই রানানাথ জানান, অনেক চিকিৎসার পর পিংকি গর্ভধারণ করেন। তিনি গাইনি চিকিৎসক জাকির হোসেনের তত্ত্বাবধানে ছিলেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে চিকিৎসক জাকিরের তত্ত্বাবধানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পিংকি একটি মেয়েসন্তানের জন্ম দেন। সন্ধ্যায় তিনি পিংকির জন্য ‘ওমেপ’ নামের একটি ইনজেকশন লেখেন। রাত ৯টার দিকে হাসপাতালের নার্স জেসমিন ওই ইনজেকশনটি প্রসূতির শরীরে পুশ করেন। এর কিছু সময়ের মধ্যে পিংকি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। তবে তাঁর সদ্যোজাত ভাইজি সুস্থ আছে। শিশুটিকে বাড়িতে নেওয়া হয়েছে।

চিকিৎসক জাকিরের দাবি, রোগীর স্বজনরা পাশের একটি ফার্মেসি থেকে ‘ওমিজিড’ নামের ইনজেকশন কেনেন, যেটি ছিল ভেজাল। এই ভেজাল ইনজেকশন পুশ করার কারণে প্রসূতির মৃত্যু হতে পারে।

এদিকে ওই ঘটনার পর উত্তেজিত লোকজন হাসপাতালে ভাঙচুর চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।

কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল বাশার বলেন, ‘এখন পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে।’

রানানাথ জানান, ‘তাঁর সদ্যোজাত ভাইজি সুস্থ আছে। তাকে বাড়িতে নেওয়া হয়েছে।’ প্রসূতি পিংকির মরদেহও নিয়ে গেছে পরিবার।

ওই হসপিটালের ব্যবস্থাপক মিঠু সাহা দাবি করেন, ‘লোকজন উত্তেজিত হয়ে সামান্য ভাঙচুর করেছে। এতে তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ভুক্তভোগীদের কেউ ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত না। তৃতীয় পক্ষ এই ঘটনা ঘটিয়েছে।’

মন্তব্য