kalerkantho

শনিবার । ২৪ আগস্ট ২০১৯। ৯ ভাদ্র ১৪২৬। ২২ জিলহজ ১৪৪০

ক্রেতার পকেট কাটছে শীতের আগাম সবজি

শওকত আলী   

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ক্রেতার পকেট কাটছে শীতের আগাম সবজি

শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি শীতের সবজি হিসেবে জনপ্রিয়। শীতের দেখা মিলতে আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। তবে এরই মধ্যে বাজারে দেখা মিলছে এসব সবজির। যদিও বেশির ভাগ সবজি এখন সারা বছর পাওয়া যায়। এক মৌসুমের সবজি অন্য মৌসুমে পাওয়া গেলেও দাম হয় আকাশছোঁয়া।

এ সময় যে ফুলকপি ও বাঁধাকপি পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো আকারে বেশ ছোট। বাজারভেদে প্রতিটি ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৬০-৮০ টাকায়। বাঁধাকপির দাম তুলনামূলক একটু কম। ৩৫-৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। শীতকালে এ সবজি দুটি গড়ে ২০-৩০ টাকার মধ্যেই বিক্রি হয়।

কারওয়ান বাজারের এক খুচরা বিক্রেতা আমিন মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখন তো সিজন না। খুব বেশি পাওয়াও যায় না। এ কারণে দাম বেশি।’

শীতকাল কপি চাষের উপযোগী হওয়ায় সারা দেশে এ দুটি সবজির পর্যাপ্ত চাষ হয়। তবে ছোট আকারের এ কপিগুলো ঠাকুরগাঁও, ঈশ্বরদী, কুষ্টিয়ার কিছু জায়গাসহ কয়েকটি অঞ্চলে অল্প পরিমাণে চাষ হচ্ছে বলে জানা গেছে।

কয়েক দিন ধরেই বাজারে পাওয়া যাচ্ছে বেশ বড় সাইজের পাকা টমেটো। শীতের এ সবজিটি এখন আমাদের দেশে চাষ হচ্ছে না। আমদানি করে আনা হচ্ছে ভারত থেকে। অন্য মৌসুমের সবজি বলে এটিরও ‘গলাকাটা’ দাম। প্রতি কেজি টমেটো ৭৫-৮০ টাকার কমে পাওয়া যাচ্ছে না, মৌসুমের তুলনায় প্রায় তিন গুণ। টমেটোর মতো গাজরের চাষও দেশে হচ্ছে না। গত শীতে উৎপাদিত গাজর সংরক্ষণ করা হয়েছে বিভিন্ন হিমাগারে। সেগুলোই এখন বাজারে এসেছে। বাজারভেদে এ সবজিটি বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকা কেজি দরে।

মাসখানেকেরও বেশি সময় ধরে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হচ্ছে আরেকটি শীতকালীন জনপ্রিয় সবজি শিম। প্রতি কেজি শিমের দাম ১০০ টাকার আশপাশেই রয়েছে। বেশির ভাগ খুচরা দোকানগুলোতে ১১০-১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। বাজারে আসার পর থেকে এখন পর্যন্ত সবজিটির দাম কমেনি। আগাম আসা অন্য সবজির চেয়ে বাজারে শিম উল্লেখযোগ্য পরিমাণে দেখা যাচ্ছে।

ফার্মগেটে তেজগাঁও কলেজের পাশের কাঁচাবাজারের বিক্রেতা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘পাইকাররা দাম কমায় না। আমরা কী করুম। আমাগো তো লাভ করতে হইব।’

তবে কারওয়ান বাজারের এক ফড়িয়া লাভলু ব্যাপারী বলেন, ‘প্রতিদিনই শিমের দাম ওঠানামা করে। যেদিন একটু বেশি আসে সেদিন ৬০ টাকায় নামে পাইকারিতে। যেদিন কম আসে সেদিন আবার ৭০-৮০ টাকায় উঠে যায়।’ সাভার, কেরানীগঞ্জ ও ঢাকার আশপাশের এলাকাগুলো থেকেই শিম বেশি আসছে বলে জানায় পাইকাররা।

দেশি জাতের লম্বা লাউ একটা সময় শুধু শীতেই পাওয়া যেত। তবে এখন এ লাউ বছরজুড়েই বিক্রি হচ্ছে। সরবরাহও ভালো। হাইব্রিড জাতের লাউ এখন সব জায়গায় বছরজুড়েই চাষ হচ্ছে। সেই হিসেবে লাউয়ের দাম কম থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে প্রতিটি লাউ ৬০-৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি করতে দেখা গেছে। ঢাকায় লাউয়ের বড় সরবরাহ পূর্বাচল, কেরানীগঞ্জ, সাভারের মতো কয়েকটি এলাকা থেকেই আসছে বলে জানায় বিক্রেতারা।

রামপুরা বাজারে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে লাউ কিনছিলেন অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী মনির হোসেন। তিনি বলেন, ‘শুধু লাউ নয়, বেগুন, টমেটো, শিম তো প্রায় বছরজুড়েই পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু দাম তো অনেক বেশি। হয়তো অফ সিজনে চাষ বাড়লে দাম কমতে পারে। সে জন্য অবশ্য কৃষিবিষয়ক সরকারি দপ্তরগুলোকে আরো কাজ করতে হবে। চাষের জন্য কৃষককে উৎসাহ দিতে হবে।’

লম্বা বেগুন বছরজুড়ে বাজারে পাওয়া গেলেও শীতকালেই পাওয়া যায় গোল বেগুন। এ সবজিটিও এখন বাজারে মিলছে। সরবরাহও বেশ ভালো। এ সবজিটি মিলছে ৫০-৬০ টাকা কেজি দরে। পাবনা, সিরাজগঞ্জ, রাজশাহী অঞ্চল থেকে মূলত এই বেগুন ঢাকায় আসছে বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া আলু সারা বছরই পাওয়া যায় হিমাগারের কল্যাণে। দামও সাধ্যের মধ্যেই রয়েছে বলে জানায় ভোক্তারা।

কারওয়ান বাজারের আড়তদার কামাল হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শীতের সময় যে সবজিগুলো পাওয়া যায়, তা সারা দেশেই চাষ হয়। এ কারণে সংকট থাকে না। তবে শীতের সবজি আগেভাগে বাজারে যেগুলো আসে, সেগুলো হাতে গোনা কিছু এলাকায় চাষ হয়। এ কারণে দাম কমে না।’

 

 

মন্তব্য