kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

আন্তর্জাতিক সেমিনারে বক্তারা

‘বাংলার রুমির’ সৃজনশীল রচনায় মানবতার প্রতিফলন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মানুষ আজ অন্যের ধর্ম ও সংস্কৃতিকে বুঝতে চায় না। তাই পারিপার্শ্বিক অবস্থা আজ বিপন্ন। এই বিপন্ন অবস্থা থেকে রক্ষা পেতে, মানবতার বৃহত্তর চেষ্টার প্রতিফলন দেখতে পাওয়া যায় ‘বাংলার রুমির’ সৃজনশীল রচনায়। তাঁর মানবিক মূল্যবোধ অনুসরণ করলে আমাদের দেশ আরো সুন্দর হবে।

গতকাল শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মোজাফফর আহমদ চৌধুরী মিলনায়তনে এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে বক্তারা এ কথা বলেন। ‘বাংলার রুমি সৈয়দ আহমদুল হকের জন্মশত ও সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী’ উপলক্ষে ‘আল্লামা রুমি সোসাইটি বাংলাদেশ’ এই সেমিনারের আয়োজন করে। সাবেক রাষ্ট্রদূত লিয়াকত আলী চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক কে এম সাইফুল ইসলাম খানের সঞ্চালনায় সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. আব্বাস ভায়েজি দেহনাভি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ড. কাজী নুরুল ইসলাম, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক সাদেকা হালিম, সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. শওকত আলী ওয়ারেছী প্রমুখ।

প্রথম অধিবেশনে ‘বাংলার রুমি সৈয়দ আহমদুল হকের রচনাবলিতে সুফি অধ্যাত্মবাদ ও মানবতাবোধ’ শীর্ষক প্রবন্ধ পাঠ করেন পশ্চিমবঙ্গের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের মো. সিরাজুল ইসলাম। পরে দুটি অধিবেশনে ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সৈয়দ আহমদুল হকের জীবন ও কর্ম নিয়ে সাতটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে সম্মেলন শেষ হয়।

নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘তরুণ প্রজন্মকে উচ্চশিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি ভালো মানুষ হতে হবে। তবেই দেশ মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন হয়ে এগিয়ে যাবে। আমরা যদি মানবিক মূল্যবোধ অনুসরণ করে চলতে পারি তাহলে আমাদের দেশ আরো সুন্দর হবে।’ দেশের সংকট মোকাবেলা করার জন্য তিনি আল্লামা রুমির বাণী অনুসরণ করার আহ্বান জানান। নাহিদ বলেন, ধর্মের অপব্যাখ্যা করে তরুণদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়। বলা হয়, মরলেই বেহেশত। তরুণদের মধ্যে এই মিথ্যা মাদকতা ছড়ানো বন্ধ করতে হবে। দেশ থেকে সাম্প্রদায়িকতা বর্জন করে সুষ্ঠু পথে এগিয়ে যেতে হবে। নতুন প্রজন্মকে সেই ধারায় অগ্রসর হতে হবে।

লিয়াকত আলী চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের সমাজ সভ্যতা বিবর্তনে ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আধ্যাত্মবাদ ছাড়া ধর্মকে কল্পনা করা যায় না। সব ধর্মেই আধ্যাত্মবাদ রয়েছে। ইসলামও এর ব্যতিক্রম নয়। আধ্যাত্মবাদের অন্যতম শিক্ষা হলো আত্মশুদ্ধি। এর মাধ্যমে মানুষ নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। বর্তমান বিশ্বে

সুফিবাদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে। মানুষ হানাহানির বিরুদ্ধে সচেতন হয়েছে। এটিই সুফিবাদের সফলতা।’

আব্বাস ভায়েজি দেহনাভি বলেন, ‘ইসলামের সঠিক আদর্শ তুলে ধরার জন্য আমাদের ইসলামী শরিয়াহ অনুসরণ করে সেই তরিকা মোতাবেক জীবন গড়তে হবে। ইসলামকে অনুসরণ করার জন্য আমাদের অবশ্যই আকিদাকে সুন্দর করতে হবে।’

 

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা