kalerkantho

বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হোন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হোন

ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড উদ্বোধন করার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল গণভবনে কেক কাটেন। ছবি : বাসস

বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল বুধবার গণভবনে এক অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে তিনি এ আহ্বান জানান। একই স্থান থেকে ভিডিও কনফারেন্সে আরেক অনুষ্ঠানে পুলিশের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখুন।

ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গতকাল চারটি বিদ্যুৎকেন্দ্র, আটটি ৩৩/১১ কেভি জিআইএস উপকেন্দ্র এবং ১০টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমার অনুরোধ থাকবে, যাঁরা বিদ্যুৎ ব্যবহার করবেন তাঁরা সাশ্রয়ী হোন, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ যেন নষ্ট না হয়। বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হলে বিলটাও কম আসবে, সেটা মাথায় রাখতে হবে। কাজেই প্রত্যেকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হবেন, সাশ্রয়ী হবেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা কিন্তু যত টাকা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করি তার চেয়ে অর্ধেকের কম দামে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে যাচ্ছি। বিদ্যুতে এভাবে ভর্তুকি দেওয়া ঠিক নয়। তার পরও মানুষের কল্যাণে, মানুষের সুবিধার জন্য..., আপনারা বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হবেন সেই আশা করছি।’

সরকারে আসার পর বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে আইন করার কথা অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা রাস্তাঘাট, অবকাঠামোগত উন্নয়ন করি। সাথে সাথে বিদ্যুত্টা অত্যন্ত জরুরি। বিদ্যুৎ যখন গ্রামেগঞ্জে মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে যায় তখন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। আমাদের লক্ষ্য প্রতিটি গ্রামে উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছে দেওয়া আর বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচন করা। আমরা কিন্তু সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি।’

দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের উন্নয়নে তাঁর সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে গ্যাস বিক্রির জন্য একসময় চাপ আসার কথাও বলেন শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার আগে দেশ অন্ধকারে ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গণভবনে বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্ট অনুমোদিত নতুন ব্যাংক ‘কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ’-এর বাণিজ্যিক কার্যক্রম উদ্বোধন করেন সরকারপ্রধান। দেশের ৫৯তম ব্যাংক হিসেবে যাত্রা শুরু করা নতুন এ প্রতিষ্ঠানটি থেকে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি সেবা পাবে সাধারণ নাগরিকরাও।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় থাকা অপরিহার্য। আর এ দায়িত্ব স্বাভাবিকভাবেই পুলিশ বাহিনীর ওপর বর্তায়। আমি আশাবাদী, পুলিশ এখন যেভাবে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে, তেমনি ভবিষ্যতেও করবে।’

তিনি বলেন, পুলিশের আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমেই সরকার দেশকে সামনের দিকে নিয়ে যাবে। যেখানে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সুন্দর ও উন্নত জীবন পাবে। পুলিশকে জনগণের আস্থা অর্জনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকটা থানা সুন্দর ও দর্শনীয় স্থান হওয়া উচিত। যেগুলো হবে সাধারণ মানুষের আস্থা ও আত্মবিশ্বাসের স্থান।’

মাদককে সামাজিক সমস্যা আখ্যায়িত করে শেখ হাসিনা সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে আসন্ন দিনগুলোতে পুলিশকে আরো অভিযান চালানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অভিযান (মাদকের বিরুদ্ধে) অব্যাহত থাকবে। তিনি আরো বলেন, দেশ থেকে সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ দমনে পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর ভূমিকা অনেক প্রশংসনীয়।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, স্বরাষ্ট্রসচিব (জননিরাপত্তা বিভাগ) মোস্তফা কামাল উদ্দিন এবং আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী।

এদিকে আরেক অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ, সরকার ও ব্যবসায়ীদের আগাম জলবায়ু অভিযোজন সমাধানের উপায় উদ্ভাবনের জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কোনো জাতির একার পক্ষে এটি করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী গৃহীত বেশ কিছু উদ্যোগের আবাসস্থল, যা জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার লড়াইয়ে সম্মিলিতভাবে আমাদের টিকে থাকার জন্য একটি দিকনির্দেশনা দিয়েছে।’

ঢাকা থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ‘গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশন’-এর নেতাদের সঙ্গে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সূত্র : বাসস ও ইউএনবি।

মন্তব্য