kalerkantho

বাড়তি ভাড়া, দুর্ভোগ

মুন্সীগঞ্জ, শিবচর (মাদারীপুর) ও গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি   

১৮ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাড়তি ভাড়া, দুর্ভোগ

বাড়িতে স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করে রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছে কর্মজীবী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। কেউ কেউ দীর্ঘ ছুটি কাটিয়ে আজ রবিবার কর্মস্থলে যোগ দেবেন। ফলে গতকাল শনিবার দক্ষিণাঞ্চল থেকে ঢাকার পথে মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ী থেকে মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ও রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া থেকে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌপথে যাত্রীদের ঢল নামে।

দৌলতদিয়ায় যানবাহনের চাপ থাকায় পদ্মা পার হতে ঘণ্টার ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় যাত্রীদের। ঘাট পর্যন্ত বাসের যাত্রীদের অনেক আগেই নেমে হেঁটে আসতে হয়েছে। অন্যদিকে কাঁঠালবাড়ী থেকে শিমুলিয়ায় এসে বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। ঈদের আগে যেমন যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হয়েছে, ফেরার সময়ও তেমনি অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হয়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডাব্লিউটিএ) ও বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডাব্লিউটিসি) সূত্রে জানা যায়, ঢাকামুখী যানবাহন ও যাত্রীদের চাপ সামাল দেওয়ার জন্য এ নৌপথে ১৮টি ফেরি বিরামহীনভাবে চলাচল করছে। এ ছাড়া ৮৭টি লঞ্চ ও প্রায় ২৫০টি সি-বোট যাত্রী পারাপার করছে। শিমুলিয়া থেকে খালি নৌযান এনে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হচ্ছে। আকাশ মেঘলা থাকায় ফেরিতে যাত্রীর চাপ বেশি। তবে কাঁঠালবাড়ী ফেরিঘাটে যানবাহনের চাপ তুলনামূলক কম।

বিআইডাব্লিউটিএর কাঁঠালবাড়ী ঘাট পরিদর্শক আক্তার হোসেন বলেন, আজ সকাল থেকেই লঞ্চ ও স্পিডবোটে যাত্রীদের চাপ রয়েছে।

ফেরির যাত্রী দিলরুবা আক্তার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আকাশ মেঘলা তাই লঞ্চ ও স্পিডবোট ঝুঁকিপূর্ণ মনে হওয়ায় ছেলে-মেয়েদের নিয়ে ফেরিতে নদী পার হচ্ছি। ফেরিতে যদিও সময় একটু বেশি লাগবে তাও নিরাপদ।’

দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা প্রতিটি যানবাহনের যাত্রীরাই বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ করে।

খুলনা থেকে ঢাকা যাবেন রিফাত হোসেন। তিনি বলেন, ‘ঈদের আগে ঢাকা থেকে বাড়ি যেতে গাড়িতে দ্বিগুণ তিনগুণ ভাড়া দিতে হয়েছে। আজ (গতকাল) ঢাকা ফিরতেও বাসের ভাড়া বেশি নেওয়া হয়েছে। কাঁঠালবাড়ী ঘাট থেকে স্পিডবোটেও ২০০ টাকা নিয়েছে। অথচ ভাড়া ১৩০ টাকা।’ গতকাল সরেজমিনে শিমুলিয়া ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, যখনই ঢাকা থেকে কোনো বাস আসছে অমনি যাত্রীরা হুড়মুড় করে ওঠার চেষ্টা করছে। আর হাজার হাজার যাত্রীর ঢল দেখে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের বাসগুলোতে নির্ধারিত ৭০ টাকার জায়গায় ১০০-৪০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া নিচ্ছে।

এ ব্যাপারে মাওয়া ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক মো. হিলাল উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা নির্ধারিত ভাড়ার বেশি নিতে দিচ্ছি না। তবে কিছু কিছু যাত্রী লাইনের বাইরে থেকে আগে যাওয়ার জন্য অতিরিক্ত ভাড়া দিতেও পারে।’

সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সরেজমিনে দৌলতদিয়া ঘাট সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে দৌলতদিয়া-খুলনা মহাসড়কের বাংলাদেশ হ্যাচারিজ পর্যন্ত সড়কের ঢাকামুখী অংশে যাত্রীবাহী বাসের দীর্ঘ সারি। কোথাও কোথাও দু-তিন সারি করে বাস দাঁড়ানোয় যানজট লেগে আছে। টার্মিনালের টিকিট কাউন্টার থেকে ৫ নম্বর ফেরিঘাট পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার বাইপাস সড়কের একপাশে ফেরিপারের অপেক্ষায় রয়েছে মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কারসহ বিভিন্ন ছোট গাড়ি।

মন্তব্য