kalerkantho

রবিবার। ১৮ আগস্ট ২০১৯। ৩ ভাদ্র ১৪২৬। ১৬ জিলহজ ১৪৪০

‘সাইয্য চাই না বানডা ঠিক কইরা দেন’

শেরপুরে বন্যা ভাঙন

হাকিম বাবুল, শেরপুর   

২১ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘সাইয্য চাই না বানডা ঠিক কইরা দেন’

‘এই বেরিবানডা সকসময় আমগরে বইন্ন্যা থাইক্কা বাচাই রাকছে। ১৫-১৬ বছর দউরা আমগরে এলাকায় বইন্ন্যা অয় নাই। কিন্তুক ইবার এই বানডা বাইংগা গেল। হুম্মুত কইরা পানি আইয়া আমগরে বারিগর, বাগুন টাল, অলদি ক্ষেত, জালাচট, পাইব্বা ক্ষেত ডুইব্বা গেছেগা। পানি যিবাই বাড়তাছে, আল্লায় জানে আমগরে কী অব। আমরা সাইয্য চাই না, বানডা ঠিক কইরা দেন।’ কথাগুলো বলছিলেন বেতমারি গ্রামের রংগি বেগম। শেরপুর সদরের বেতমারি-ঘুঘুরকান্দি ইউনিয়নের বেতমারি গ্রামে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ প্রায় ২০০ ফুটের মতো ভেঙে প্রবলবেগে বন্যার পানি আশপাশের এলাকায় প্রবেশ করে। রংগি বেগমের বাড়ির পাশেই বেড়িবাঁধের এমন ভাঙনে তাঁরা এখন আতঙ্কিত। ওই এলাকায় বাঁশ, কলাগাছ এবং অন্যান্য উপকরণ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছিলেন হারুন মিয়াসহ আরো কয়েকজন। হারুন বলেন, ‘বেরিবান ছুইট্টা আমগরে গরু-বাছুর সব ভাসাই নিয়া গেছেগা। বাড়িঘর সব কিছু ভাইংগা গেছে। ইবা বইন্ন্যা আর জীবনে দেহি নাই।’ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘১৫ বছর ধইরা বেতমারি বেড়িবাঁধটা আমগরে বন্যার হাত থাইক্কা বাঁচাইছে। কিন্তু মিরকি নদীর (ব্রহ্মপুত্রের শাখা মৃগী নদী) পানি বাড়নে হঠাৎ শুক্রবার দুপুর থাইক্কা ভাঙনের শুরু হয়। ফলে আমগরে বেতমারি ইউনিয়নের পরায় তিন হাজার পরিবারের বাড়িঘর তলাই গেছে। যে জ্বালাবিচা (বীজতলা) আছিল, সেইডা নাই, তলাই গেছেগা। গরু-ছাগল, আশ-মুরগি সব ভাসাই নিল।’

গতকাল শনিবার দুপুরে বেতমারি বেড়িবাঁধের ভাঙন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ভাঙন অংশ দিয়ে প্রবলবেগে পানির স্রোত বইছে। ভাঙন ঠেকাতে প্রাণপণ চেষ্টা করছে এলাকাবাসী। কিন্তু বন্যার পানির স্রোতের কারণে তারা হিমশিম খাচ্ছিলেন। এ সময় অনেক উত্সুক লোককে সেখানে ভিড় জমাতে দেখা যায়। তাদের সবার একটাই কথা, যেভাবেই হোক এই বেড়িবাঁধ রক্ষা করতে হবে। এ জন্য ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

আব্দুস সবুর নামে এক যুবক বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ডের সিদ্ধান্তহীনতার কারণেই বানডা ভাইংগা গেল। কয়েক দিন আগে বাঁধটি সংস্কারের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন পাঁচ হাজার বস্তা নিয়াইল। বস্তায় মাডিও ভরা হলো। কিন্তু ওপরের কর্মকর্তারা নাকি মাটি ভরা বস্তা গুনে দেখবেন। এ জন্য বাঁধে বস্তা ফেলতে দেরি করা হচ্ছিল। কিন্তু শুক্রবার যখন ভাঙন শুরু হলো তখন আর বালুর বস্তা ফেলেও কোনো কাজ হলো না, ভাঙন ঠেকানো গেল না। ক্ষতি যা হওয়ার এলাকার লোকজনেরই হলো।’

বেতমারি-ঘুঘুরাকান্দি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তায় বেড়িবাঁধের কাজ ধরেছিলাম, বস্তায় বালু ভরে ফেলতে শুরু করেছিলাম। কিন্তু হঠাৎ পানি আইয়া ভাইঙা নিয়া গেল। বেড়িবাঁধটার ভাঙন ঠেহানো গেল না। আর এই বেড়িবাঁধটা ভাঙনে ৩০ হাজার লোক পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ধানের জালা, সবজির আবাদ, পাটের আবাদ সব নষ্ট অইয়া গেছে।’

মন্তব্য