kalerkantho

রবিবার। ১৮ আগস্ট ২০১৯। ৩ ভাদ্র ১৪২৬। ১৬ জিলহজ ১৪৪০

কাঁচা মরিচের কেজি ২০০ টাকা!

বন্যার কারণে মরিচের সরবরাহ কমেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কাঁচা মরিচের কেজি ২০০ টাকা!

তেজগাঁও দক্ষিণ বেগুনবাড়ীর ছোট কাঁচাবাজারের এক দোকানে মাচার ওপর আয়েশি ভঙ্গিতে আধশোয়া হয়ে রয়েছেন এক দোকানি। ক্রেতা এসে কাঁচা মরিচের দাম জিজ্ঞেস করতেই জানালেন আড়াই শ গ্রাম ৫০ টাকা। একটু কম রাখা যায় কি না জানতে চাইলে বিক্রেতা ভাবলেশহীন কণ্ঠে বললেন, ‘অন্য দোকানে গেলে আরো বেশি দিয়ে কিনতে হবে। মুলামুলি করার সুযোগ নাই।’ বিক্রেতার এমন কথায় একটু বিরক্ত বোধ করলেও ক্রেতা ৪০ টাকা দিয়ে ২০০ গ্রাম মরিচ কিনলেন। অর্থাৎ প্রতি কেজির দাম পড়ছে ২০০ টাকা।

পরে ক্রেতা আব্দুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কাঁচা মরিচের দাম কয়েক দিনে তিন গুণেরও বেশি হয়ে গেছে। কী আর করা, না কিনে তো উপাই নেই।’ আর বিক্রেতা হোসেন আলী জানান, বন্যার কারণে মরিচের দাম বেড়েছে। দাম বেশি বলে ক্রেতারা আগের চেয়ে কম করে মরিচ কিনছে।

গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা ১৫-২০ দিন আগেও ৬০-৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। কারওয়ান বাজারের পাইকারি বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাইকারিতে প্রতি কেজি মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৪০ টাকায়। তারা জানায়, মানিকগঞ্জ, বগুড়া, রংপুর, পার্বতীপুর থেকে মরিচ আসছে। তবে তা পরিমাণে অনেক কম। বন্যার কারণে অনেক ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে।

মানিকগঞ্জ জেলার বরংগাইল হাটের সবচেয়ে বড় আড়ত্দার তাইজুদ্দীন কালের কণ্ঠ’র প্রতিনিধিকে বলেন, ‘বৃষ্টি ও বন্যার কারণে মরিচক্ষেত নষ্ট হওয়ায় আমদানি কমে গেছে। সে জন্য মরিচের দাম বেড়ে গেছে। বর্তমানে আমরা কৃষকদের কাছ থেকে বেশি দামে কেনার কারণে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে বেশি দামে বিক্রয় করতে হচ্ছে।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মানিকগঞ্জের উপপরিচাক হাবিবুর রহমান চৌধুরী জানান, মানিকগঞ্জের বিন্দু জাতের মরিচের খ্যাতি রয়েছে দেশ-বিদেশে। বর্তমানে উৎপাদন কম হওয়ায় বাজারে দামও বেড়েছে। এবার জেলায় সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমিতে কাঁচা মরিচ আবাদ হয়েছিল। তবে এ মৌসুম জুনের শেষে দিকে শেষ হয়ে যায়।

জানা গেছে, আরো ১৫-২০ দিন পর যশোর, কুষ্টিয়া অঞ্চলের মরিচ ওঠা শুরু করবে। তবে গত দুই দিন ধরে ঢাকার বাজারে ভারত থেকে আমদানি করা মরিচ আসতে শুরু করেছে। কাঁচা মরিচের পাইকারি বিক্রেতা আশরাফুল আলম বলেন, ‘মানিকগঞ্জ থেকেই বেশি মরিচ আসে। তবে এই মরিচ আর বেশি দিন পাওয়া যাবে না। বিভিন্ন জেলা থেকে মরিচ আসাও কমে গেছে। এর মধ্যে দুই দিন ধরে এলসির (আমদানি) মরিচ আসা শুরু হয়েছে। আমরা এখন সেই মরিচই বেশি বিক্রি করছি।’

বাজারে ঘুরে দেখা গেল, বিক্রেতাদের কাছে মরিচের কোনো সংকট নেই। সরবরাহ যথেষ্ট রয়েছে। তার পরও এত বেশি দাম কেন জানতে চাইলে পাইকারি বিক্রেতা শরিফুল ইসলাম জানান, বন্যার কারণে মরিচের সরবরাহ কমেছে। এ কারণে দেশি মরিচের দাম বেড়ে গেছে। আর এলসির মরিচও কিনতে হচ্ছে চড়া দামে। এ জন্য বিক্রিও করতে হচ্ছে চড়া দামেই।

দাম বাড়িয়ে দিয়েছে ভারতীয় রপ্তানিকারকরা

এদিকে হিলি প্রতিনিধি জানান, দেশীয় সংকট মোকাবেলায় মরিচ আমদানি করতে গিয়েও সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। ভারতে সরকারিভাবে রপ্তানিমূল্য প্রতি টন ২৫০ ডলার হলেও এই দামে আমাদের আমদানিকারকরা মরিচ কিনতে পারছে না। ভারতীয় রপ্তানিকারকরা বাংলাদেশের সংকটের কথা জেনেই রপ্তানিমূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন ৩০০-৩৫০ ডলারে মরিচ কিনতে হচ্ছে বাংলাদেশি আমদানিকারকদের। এর ওপর ভ্যাট দেওয়ার পর প্রতি কেজি মরিচ পাইকারি বাজারে ১০২-১০৫ টাকা দরে বিক্রি করতে হচ্ছে।

আমদানিকারক বাবলুর রহমান বলেন, ‘দেশে মরিচের সংকট হওয়ার কারণেই আমরা আমদানি করা শুরু করেছি; কিন্তু ভারতের রপ্তানিকারকরা সুযোগ বুঝে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে বলে নির্ধারিত মূল্যে মরিচ কিনতে পারছি না। এ কারণে দাম বেশি পড়ছে। একই সঙ্গে আমদানিতে ২২ শতাংশ পর্যন্ত ভ্যাট দিতে হচ্ছে।’

মন্তব্য