kalerkantho

রবিবার । ২১ জুলাই ২০১৯। ৬ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৭ জিলকদ ১৪৪০

ঢাকায় ফেমবোসা সম্মেলন শুরু

ইসি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ : সিইসি

বিশেষ প্রতিনিধি   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ইসি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ : সিইসি

‘সংবিধান অনুযায়ী অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে নির্বাচন কমিশন প্রতিজ্ঞাবদ্ধ  এবং  এর জন্য যা যা করার প্রয়োজন তা করা হবে।’ নিজেদের দায়িত্ব কী সেটা জানিয়ে এই আশ্বাসের কথা শোনালেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা।

গতকাল বুধবার রাজধানী ঢাকার একটি হোটেলে শুরু হওয়া ফোরাম অব ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বডিস অব সাউথ এশিয়ার (ফেমবোসা) নবম সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

সম্মেলন উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘জনআস্থা অর্জনে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।’

অন্যদিকে সম্মেলন চলাকালে সাবেক প্রধান নির্বাচন কশিমনার ড. এ টি এম শামসুল হুদা বলেছেন, সংসদ নির্বাচনে জোর করে ইভিএম চাপিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না।

দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ থেকে প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন।

সম্মেলনের প্রথম দিন গতকাল আরো বক্তব্য দিয়েছেন আফগানিস্তানের নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান ও ফেমবোসার বর্তমান চেয়ারম্যান ডা. গোলাজান এ বাদি সাইদ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী বলেন, শক্তিশালী গণতন্ত্র চর্চায় সংবিধান ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজন করতে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন দায়বদ্ধ। অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি। নির্বাচন কমিশনের অবশ্যই অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে। 

স্পিকার বলেন, নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিঃসন্দেহে কঠিন। নির্বাচনে অংশীজনদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার  মাধ্যমে জনগণের প্রতিনিধি বেছে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক দল, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, ভোটার, গণমাধ্যম, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও জনগণ  নির্বাচন কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন। নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অংশীজনদের নির্বাচনে যুক্ত করতে হবে।

সিইসি কে এম নুরুল হুদা বলেন, ‘এই সম্মেলন আমাদের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করতে উৎসাহী করবে। আগেও বলেছি আমরা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চাই। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যা করা প্রয়োজন তাই করবে বর্তমান কমিশন।’

সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ টি এম শামসুল হুদা বলেন, জাতীয় নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের জন্য তাড়াহুড়ার কিছু নেই। স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে এটি ব্যবহার করে সবার মধ্যে বিশ্বাস স্থাপন করে জাতীয় নির্বাচনে পরীক্ষামূলকভাবে ইভিএম ব্যবহার করা যেতে পারে।

সম্মেলন চলাকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শামসুল হুদা আরো বলেন, ‘আমাদের সময় চালু হওয়া ইভিএমের ধারাবাহিকতা থাকলে আজকের বিতর্কের জন্ম নিত না। আমরা ইভিএম চালু করেছিলাম। কিন্তু তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হয়নি। আমাদের পরের কমিশন এটাকে কোল্ডস্টোরেজের মধ্যে ফেলে রেখেছিল। আবার এই কমিশন চালু করেছে। আমরা যেটা শুরু করেছিলাম তার ধারাবাহিকতা রাখা হলে এখন কোনো অসুবিধা হতো না।’

জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম নিয়ে বিতর্ক বিষয়ে সাবেক সিইসি বলেন, ‘এখন ইভিএম নিয়ে যে বিতর্ক চলছে তা শুনে মনে হচ্ছে আমাদের সিদ্ধান্তটাই সঠিক ছিল। আমরা বলেছিলাম, আমরা ঝট করে জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম নিয়ে যাব না। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এটা আমরা প্রথমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করব। স্থানীয় সরকারের কিছু কিছু জায়গায় এটা করব এবং আমরা সেটা করেছিলামও। মানুষ তাতে ইতিবাচকভাবে সাড়াও দিয়েছিল।’

ইভিএমে কিছু সুবিধা-অসুবিধা থাকার কথা উল্লেখ করে শামসুল হুদা বলেন, যে মেশিনটা উদ্ভাবন করা হলো তাতে আরো কী কী নিরাপত্তা সংযুক্ত করা যায়, আরো কিভাবে তা উন্নত করা যায় সে ব্যবস্থা নেওয়ার পর সব রাজনৈতিক দল যখন এর ওপর আস্থা আনবে, সবাই যখন বলবে ঠিক আছে, তখনই জাতীয় নির্বাচনে এটি ব্যবহার করা উচিত। তিনি আরো বলেন, এখনো ইভিএম পুরোপুরিভাবে পরীক্ষা করা হয়নি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে আরো ব্যবহার করা উচিত। তারপর সেটা পর্যবেক্ষণ করে, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে, সুবিধা-অসুবিধা যাচাই-বাছাই করে নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রযুক্তি ও কারিগরি ব্যবস্থাপনার আরো উন্নয়ন ঘটিয়ে যখন সফলতা আসবে তখনই জাতীয় নির্বাচনে এর ব্যবহার হবে। আর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপকভাবে এটি ব্যবহার করা ঠিক হবে না। পরীক্ষামূলকভাবে কিছু কেন্দ্রে করা যেতে পারে।

জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের জন্য হঠাৎ আরপিও সংশোধন প্রশ্নে সাবেক সিইসি বলেন, ‘এটা নিয়ে এখন মন্তব্য করে লাভ কী? যেকোনো উদ্যোগ নেওয়ার আগে তা যথোপযুক্ত কি না দেখা উচিত। যাঁরা এটা করছেন এবং যাঁরা ক্ষমতায় আছেন বিষয়টি তাঁদেরই দেখা উচিত ছিল। নির্বাচন খুবই স্পর্শকাতর বিষয়। এটা প্রতিযোগিতার বিষয়। ক্ষমতা দখলের জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে।’

 

মন্তব্য