kalerkantho

সোমবার। ৪ মাঘ ১৪২৭। ১৮ জানুয়ারি ২০২১। ৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

আমলীগোলা খেলার মাঠ

সংস্কারে ধীরগতি, বসে মাদকের আসর

জহিরুল ইসলাম   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সংস্কারে ধীরগতি, বসে মাদকের আসর

লালবাগের আমলীগোলা আজাদ মুসলিম মাঠ চারপাশের বাসাবাড়ি আর কারখানার আবর্জনায় সয়লাব। ছবি : কালের কণ্ঠ

লালবাগের আমলীগোলা আজাদ মুসলিম মাঠ এখন ময়লা পানিতে ভরা। চারপাশের বাসাবাড়ি আর কারখানার নোংরা পানিতে সয়লাব। খেলাধুলার অযোগ্য। বছরখানেক আগে দক্ষিণের মেয়র সংস্কারকাজের উদ্বোধন করলেও এর বেহালদশা কাটছে না। ধীরগতিতে চলছে মাঠটির সংস্কারকাজ। সংস্কারের মধ্যে পানি সরার ড্রেনেজব্যবস্থা, বৈদ্যুতিক বাতির খুঁটি, চারপাশে জাল, বসার জায়গা তৈরি, ঘাস লাগানোসহ বিভিন্ন কাজ হওয়ার কথা। কিন্তু ১ শতাংশ কাজও শেষ হয়নি। মাঠটিতে দিনের বেলা শিশু-কিশোরদের খেলার সুযোগ না থাকলেও সন্ধ্যার পর বসে মাদকসেবীদের জমজমাট আসর।

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, সংস্কারকাজের ধীরগতির জন্য সিটি করপোরেশন দায়ী। অনেকটা ঢিমেতালে স্বল্পসংখ্যক শ্রমিক দিয়ে কাজ চলছে। মাঠটি এলাকার শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার একমাত্র জায়গা। আগে কাদামাটির মধ্যে খেলা গেলেও সংস্কার শুরুর পর অবস্থা আরো খারাপ হয়ে আছে। এখন মাঠটি হয়ে পড়েছে উঠতি বয়সী বখাটেদের আড্ডার জায়গা। সন্ধ্যার পর বসে মাদকের আড্ডাও। প্রশাসনের কোনো নজরদারি নেই।

ডিএসসিসি সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের ৫ নভেম্বর আমলীগোলা খেলার মাঠ, দেলোওয়ার হোসেন খেলার মাঠ, শহীদনগর মিনি স্টেডিয়াম, বালুঘাট খেলার মাঠ—এ চারটি মাঠের সংস্কারকাজের উদ্বোধন করেন দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে সিটি করপোরেশনে মেগা প্রকল্পের প্যাকেজ-২-এর অধীনে সাত কোটি টাকার কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয় ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে। কাজ শেষ হওয়ার কথা ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে। আমলীগোলা মাঠের কাজটি পায় ভূঁইয়া অ্যান্ড জাহিন কনস্ট্রাকশন জয়েন্ট ভেঞ্চার নামে একটি প্রতিষ্ঠান। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বলছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ বুঝিয়ে দেবে। কিন্তু মাঠের মালিকানার সমস্যার কারণে কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। মাঠের কাজে দায়িত্বরত প্রকৌশলী মো. শাওন মুন্না বলেন, বিভিন্ন জটিলতার কারণে কাজ ঠিকমতো করা যাচ্ছে না। তবে ডিসেম্বরের মধ্যেই কাজ শেষ করার চেষ্টা আছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, লালবাগের জগন্নাথ সাহা রোডের দক্ষিণ পাশের মাঠটিতে সংস্কার কাজ চলছে। কাজ করছেন দুজন রাজমিস্ত্রি। পূর্ব পাশে ড্রেনের জন্য ১০ ফিটের মতো জায়গা খুঁড়ে রড বাঁধার কাজ চলছে। এক বছরের মধ্যে কাজটি শেষ করার কথা থাকলেও এখনো ১ শতাংশ কাজও শেষ হয়নি। সপ্তাহ দুয়েক আগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জানায়, তারা কাজ শুরু করতে পেরেছে মাত্র পাঁচ দিন আগে। চারপাশে হাঁটার পথ থেকে মাঠটি প্রায় এক ফুট নিচু। মাঠের দক্ষিণ পাশের অর্ধেকেরও বেশি জায়গা বাসাবাড়ির পানিতে ভরে আছে। মাঠের উত্তর-দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশে ১০ ইঞ্চির উপরে কাদাপানিতে একাকার।

ভাঙা গ্যালারির নিচে পড়ে থাকা সিঁড়িতে বসে ছিলেন ইমন মাহমুদ। মাঠ নিয়ে তাঁর মন্তব্য নিতে অনুরোধ করে বলেন, ‘ভাই মাঠ কী ঠিক হবে! একটু বলেন। যখন ছোট ছিলাম এখানে সব বন্ধুরা মিলে খেলতাম। এখন আর সেই মাঠ নাই।’

দেখা যায়, আশপাশের বাসাবাড়ির ময়লা পানি এসে ঢুকছে মাঠে। বৃষ্টির পানি বের হয়ে যাওয়ার জন্য যে পাইপ দেওয়া হয়েছিল তা দিয়ে উল্টো বাইরের পানি ঢুকছে। নতুন ড্রেনের কাজ চলছে কচ্ছপ গতিতে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, কাজ শেষ করবে কি! শুরু করতেই কষ্ট হচ্ছে। এক থেকে দুই শ নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে কাজ শুরু করা লাগে। নয়তো মাঠের চারপাশের এলাকার কয়েকটি পরিবার এসে বাধা দেয়।

জানা যায়, পরিবারগুলো এই মাঠের চারপাশের রাস্তা এবং মাঠেরও কিছু অংশ দাবি করছে। এদের মধ্যে রয়েছেন একই পরিবারের রেশমা রিয়াজ লুনা, হাজি রিয়াজউদ্দিন আহমেদ, সৈয়দা রোকেয়া ইসলাম, রাকিবা রিয়াজ টিনা, রুবানা রিয়াজ। তাঁদের পরিবার এই খেলার মাঠের লাগোয়া রাস্তার পাশে ১৫ শতাংশ জায়গার মালিক। তাঁদের দাবির বিষয়ে রেশমা রিয়াজ লুনার সঙ্গে কথা বলার জন্য তাঁর বাসায় গেলে তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

মাঠটির ভেতরের চারপাশের অরক্ষিত জায়গায় সন্ধ্যায় বসে মাদকের আসর। গাঁজা, ইয়াবাসহ নানা ধরনের মাদকদ্রব্য গ্রহণ চলে এখানে। পুলিশ কয়েক দিন পরপরই এখানে এসে ধরপাকড় করলেও কোনো কাজ হয় না। বিষয়টি নিয়ে কথা বললে লালবাগ থানার ওসি সুবাস কুমার পাল বলেন, ‘এলাকার যুবসমাজের সঙ্গে একাধিকবার বসেছি, মাদক সম্পর্কে সচেতন করেছি। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয় না। মাদকের ভয়াবহ আখড়া ছিল লালবাগের কয়েকটি এলাকা। আমরা কাজ করছি। এলাকাকে সম্পূর্ণ মাদক মুক্ত করা হবে।’ দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত কাউন্সিলর মো. মোসাদ্দেক হোসেন জাহিদ বলেন, ‘জনপ্রতিনিধি হিসেবে বলতে চাই। যে সংস্কার কাজগুলো চলছে তা খুব দ্রুত গতিতে শেষ করা হবে। আমলীগোলাসহ আরো চারটি মাঠ চলতি বছর ডিসেম্বরের মধ্যে সিটি করপোরেশনকে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা রয়েছে। মালিকানা নিয়ে সমস্যা থাকার কারণে কাজ শুরু করতে দেরি হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা