kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ জানুয়ারি ২০২০। ১০ মাঘ ১৪২৬। ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

দেশে প্রথমবারের মতো জব্দ করা হলো নতুন মাদক ‘খাত’

ইয়াবার কাঁচামাল এনপিএসের বিকল্প এটি। পাচারকারীচক্র শনাক্ত। গ্রেপ্তার একজন। ইথিওপিয়া থেকে নিয়ে আসা হয় মাদকটি। গন্তব্য ছিল ভারত।

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নতুন ধরনের বিশেষ মাদক প্রবেশ করতে শুরু করেছে বাংলাদেশে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে গতকাল শুক্রবার ৪৬৮ কেজি (প্রায় ছয় মণ) ‘খাত’ (KHAT) নামের এই বিশেষ ধরনের মাদকদ্রব্য জব্দ করেছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) গোয়েন্দারা। আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়া থেকে কয়েকটি রুট ঘুরে চালানটি পার্সেলের মাধ্যমে বাংলাদেশে এসেছে। গন্তব্য ছিল ভারত। অভিযানসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বাংলাদেশে প্রবেশ করা এই অপ্রচলিত মাদক খাত মূলত ইয়াবার কাঁচামাল এনপিএসের মতো। দেখতে অনেকটা চায়ের পাতার গুঁড়ার মতো। ঢাকার শান্তিনগরের নওয়াহিন এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ঠিকানায় চালানটি আসে। ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক নিজামকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএনসি। ইথিওপিয়া থেকে জাহিদ মোহাম্মদ ইউসুফ নামের এক ব্যক্তি এনপিএসের চালানটি পাঠায়। আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) মাদকের চালানটি আটকে সহায়তা করে।

ডিএনসির অতিরিক্ত পরিচালক (গোয়েন্দা) নজরুল ইসলাম সিকদার বলেন, ‘গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আজ (গতকাল) বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের পোস্ট অফিসের কাছে থেকে কার্টনে খাত চালানটি জব্দ করা হয়। এটি পাচারের জন্য ট্রানজিট করা হচ্ছিল। এর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নওয়াহিন এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপককে আটক করা হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘খাত দেখতে অনেকটা এনপিএসের মতো। এটি আমাদের দেশে প্রচলিত মাদক নয়। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এ ধরনের মাদকের চালান জব্দ করা হলো।’

সূত্র জানায়, এক সপ্তাহ আগেই খাত মাদকের চালানটির ব্যাপারে তথ্য পান গোয়েন্দারা। এরপর শুরু হয় নজরদারি। গত বুধবারও বিমানবন্দরে তল্লাশি চালায় ডিএনসির দল। গতকাল দুপুরে কার্গো ভিলেজ এলাকায় একটি পার্সেলের কার্টন শনাক্ত করে তারা। এর আগে শান্তিনগরে অভিযান চালিয়ে নওয়াহিন এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক নিজামকে আটক করা হয়। কার্টনের ভেতরে পলিথিনের প্যাকেটে মোড়ানো ছিল মাদকের গুঁড়া। চালানটি আফ্রিকার ইথিওপিয়া থেকে মালেশিয়ার কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুর ও দুবাই হয়ে ঢাকায় আসে।

অভিযানসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, খাত মাদকের চালনটি ভারতে পাচারের উদ্দেশে আনা হয়েছে। এর আগেও একইভাবে এই মাদক পাচার হয়েছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এর সঙ্গে নওয়াহিন এন্টারপ্রাইজের মালিক জড়িত।

তদন্তকারীরা জানান, খাত দেশে প্রচলিত নয় বলে মাদকের তালিকায় নেই। তবে এটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের অন্য মাদকের বিবেচনায় ‘খ’ ক্যাটাগরির মাদক হবে। জব্দ চালানটি পরীক্ষার জন্য কেন্দ্রীয় পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা