kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৭ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৭ সফর ১৪৪১       

শৈত্যপ্রবাহ থাকবে আরো দুই দিন

ঘন কুয়াশায় ঘাটে ঘাটে স্থবিরতা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শৈত্যপ্রবাহ থাকবে আরো দুই দিন

নতুন বছরের দ্বিতীয় দিন থেকে শুরু হওয়া শৈত্যপ্রবাহ এখনো অব্যাহত আছে। গতকাল শনিবার উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে। আজও তা অব্যাহত থাকবে। উত্তুরে হিমেল কনকনে বাতাস বইছে আর কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে পথঘাট। উত্তরাঞ্চলের জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে। কনকনে শীতে কাজে যেতে পারছে না খেটে খাওয়া মানুষ। ঘন কুয়াশার কারণে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌ রুটে আট ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ থাকার কারণে ঘাটে দেখা দিয়েছে তীব্র যানজট। মাঝ পদ্মায় আটকা পড়ে ছয়টি ফেরি। এতে যাত্রীরা পড়ে চরম দুর্ভোগে।

শৈত্যপ্রবাহের কারণে নানা অসুখে সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত ছয়জন মারা গেছে বলে খবর দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। যদিও বেসরকারি হিসাবে গত ১০ দিনে মারা গেছে প্রায় ৪০ জন। তীব্র শীতে গতকাল নওগাঁয় একজন মারা গেছে। আরো দুই দিন শৈত্যপ্রবাহ থাকতে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক কালের কণ্ঠকে বলেন, আরো দুই দিন শৈত্যপ্রবাহ থাকতে পারে। তবে তাপমাত্রা বাড়তে পারে। গতকাল সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল যশোর ও পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রংপুর ও নওগাঁয় ছিল ৭.৩ ডিগ্রি।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, রংপুর, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু শৈত্যপ্রবাহ আজও অব্যাহত থাকবে। এ ছাড়া টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, যশোর, কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা ও বরিশালের ওপর দিয়েও মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। কোথাও কোথাও ঘন কুয়াশা দুপুর পর্যন্ত থাকতে পারে। গতকাল ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এদিকে নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় প্রচণ্ড শীতে তোছাম্মেল হোসেন (৪৮) নামের এক দিনমজুরের মৃত্যু হয়েছে। গত শুক্রবার বিকেলে উপজেলার হরিশপুর মাঠে ধান রোপণ করার সময় এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

এদিকে ঘন কুয়াশার কারণে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌ রুটে আট ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। বিআইডাব্লিউটিসির শিমুলিয়া ঘাটের এজিএম শাহ খালেদ নেওয়াজ জানান, শনিবার রাত ৩টা থেকে পদ্মা অববাহিকায় ঘন কুয়াশা নেমে আসে। কুয়াশার ঘনত্ব এতই বেশি ছিল যে খুব কাছের কোনো জিনিস দেখা যাচ্ছিল না। কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয়। এ সময় মাঝ নদীতে যাত্রী ও মালামাল নিয়ে নোঙরে থাকে ছোট-বড় ছয়টি ফেরি। দীর্ঘ সময় নদীর মাঝে ও ফেরিঘাটে আটকা পড়ে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হয়। অনেকেই ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। পরে শনিবার সকাল ১১টার দিকে কুয়াশার প্রভাব কমে এলে আট ঘণ্টা পর ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হয়।

দেশের ব্যস্ততম দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে গতকাল ফের ঘন কুয়াশায় টানা সাড়ে সাত ঘণ্টা ফেরি সার্ভিস বন্ধ ছিল। এ সময় যানবাহন ও যাত্রী নিয়ে ছোট-বড় পাঁচটি ফেরি মাঝ নদীতে আটকা পড়ে। দৌলতদিয়া ঘাটে আটকা পড়ে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ সহস্রাধিক বিভিন্ন গাড়ি। এতে দৌলতদিয়া-খুলনা মহাসড়কে সাড় চার কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।

বিআইডাব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক মো. শফিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ঘন কুয়াশার কারণে ফেরি সার্ভিস বন্ধকালীন সময়ে প্রতি ঘণ্টায় লক্ষাধিক টাকা করে রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বিআইডাব্লিউটিসি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা