kalerkantho

শুক্রবার । ২৩ আগস্ট ২০১৯। ৮ ভাদ্র ১৪২৬। ২১ জিলহজ ১৪৪০

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় কমিটির নেতারা

সুন্দরবন ধ্বংস হলে দায় সরকারের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩১ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বদরুল ইমাম বলেছেন, ‘আমরা সরকারবিরোধী নই। আমরা সরকারের ভুল-ত্রুটিগুলো ধরিয়ে দিতে চাচ্ছি। রামপাল প্রল্পের কাজ যেভাবে সরকার এগিয়ে নিচ্ছে, তাতে সুন্দরবন নিশ্চিতভাবে ধ্বংস হবে। তখন হয়তো এই সরকার থাকবে না, কিন্তু জনগণ থাকবে। তখন মানুষ সুন্দরবন ধ্বংসের জন্য এই সরকারকে দায়ী করবে। এই ধ্বংসের দায় বর্তমান সরকারের ঘাড়ে চাপবে।’

গতকাল শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বদরুল ইমাম এসব কথা বলেন। এ সময় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন পাঁচটি সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরেন। এসবের মধ্যে রয়েছে রামপাল প্রকল্পের কাজ অবিলম্বে বন্ধ করা, জাতীয় কমিটির পক্ষ থেকে দেওয়া ১৩টি গবেষণা প্রতিবেদন ও ইউনেসকোর সুপারিশ মেনে বন রক্ষায় উদ্যোগ নেওয়া প্রভৃতি।

সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক সুলতানা কামাল বলেন, ‘ইউনেসকোর সিদ্ধান্তকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। ইউনেসকো রামপাল তো দূরে থাক, সুন্দরবনের চারপাশে কোনো ধরনের শিল্প-কারখানা না করার আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি সরকার সুন্দরবনের পাশে ৩২০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে কারখানা করার অনুমতি দিয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির নেতারা বলেন, সুন্দরবনের রামপাল প্রকল্প নিয়ে পরিবেশবাদীদের তোলা অভিযোগ সঠিক নয় মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রীর এসডিজিবিষয়ক সমন্বয়কারী আবুল কালাম আজাদ উন্মুক্ত বিতর্কের আহ্বান জানিয়েছিলেন। সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির পক্ষ থেকে বিতর্কের আয়োজন করতে আহ্বান জানানো হলেও তিনি বা সরকারের কেউ তাতে সাড়া দিচ্ছেন না। প্রকল্পের কাজ যেভাবে সরকার এগিয়ে নিচ্ছে, তাতে সুন্দরবন নিশ্চিতভাবে ধ্বংস হবে। তখন এর দায় বর্তমান সরকারের ঘাড়ে চাপবে।

জাতীয় কমিটির নেতারা বলেন, বিশ্বের খ্যাতিমান বিজ্ঞানীদের দিয়ে রামপাল প্রকল্পের ওপর ১৩টি গবেষণা করে আবুল কালাম আজাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই নীরবতা ওই গবেষণা প্রতিবেদনগুলোর সত্যতা স্বীকার করে নেওয়ার সমতুল্য।

মন্তব্য