kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অক্টোবর ২০১৯। ৩০ আশ্বিন ১৪২৬। ১৫ সফর ১৪৪১       

রাজশাহীতে সমন্বিত মাছ চাষ, মুখে হাসি চাষিদের

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী   

২ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজশাহীতে সমন্বিত মাছ চাষ, মুখে হাসি চাষিদের

রাজশাহীর বাগমারা বৈলসিং গ্রামের বাসিন্দা স্কুলশিক্ষক আলতাফ মোল্লা। প্রায় ১৫ বছর ধরে মাছ চাষ করছেন। বাড়ির পাশে রয়েছে চারটি বিশাল পুকুর। ১৫-২০ বিঘা আয়তনের এসব পুকুরে উত্পাদিত মাছ বিক্রি করেই তিনি এখন কোটিপতি। রাজশাহীতে সমন্বিত মাছ চাষে এমন আর্থিক উন্নয়ন ঘটেছে আরো অনেকের। অধিক লাভের আশায় মাছ চাষিরা পুকুরের তাজা মাছ বিশেষ কৌশলে পাঠাচ্ছেন ঢাকার বাজারে। এসব পুকুরের পাশে গড়ে তোলা হচ্ছে কলা, পেয়ারা, সবজির বাগান। পুকুর ঘিরেই করা হচ্ছে হাঁস-মুরগি পালন। ক্রমেই বদলে যাচ্ছে চাষের পদ্ধতি, বাড়ছে চাষিদের আর্থিক সংগতি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ইদানীং মাছ চাষের পাশাপাশি পুকুর পাড়ে নানা ধরনের ফলসহ সবজি চাষ হচ্ছে। সেখানে হাঁস-মুরগি  পালন করছেন মাছ চাষিরা। যাকে বলা হচ্ছে সমন্বিত মাছ চাষ। তাতে বাড়তি অর্থ পাচ্ছেন চাষিরা। সেই সঙ্গে হচ্ছে কর্মসংস্থানের সুযোগ। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ধানের জমি কেটে পুকুর তৈরি করা হচ্ছে। তাতে মাছের উত্পাদন বাড়লেও কমছে ধানের উত্পাদন।

সূত্র জানায়, রাজশাহীতে বার্ষিক মাছের চাহিদা ৫৩ হাজার ৯৯৩ মেট্রিক টন। এখানে উত্পাদন হয় ৬৬ হাজার ৮২২ মেট্রিন টন। ফলে উদ্বৃত্ত থাকে ১২ হাজার ৮৮৯ মেট্রিক টন। রাজশাহীতে মোট জলাশয়ের সংখ্যা ৪৮ হাজার ৪২৭টি। এর মধ্যে সরকারি পুকুর ও দিঘি আছে চার হাজার ৯১৫টি। মোট মত্স্যজীবীর সংখ্যা ১১ হাজার ৮৬৬ জন। আর মাছ চাষের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে।

বাগমারার আলতাফ মোল্লা জানান, তাঁর পুকুরে বছরে তিন-চারবার মাছ ছাড়া ও ধরা হয়। আর পুকুর পাড়ে যেসব গাছ রয়েছে সেগুলো থেকে বাড়তি আয় হয়। গত ১৫ বছরে মাছ চাষ করে অন্তত কোটি টাকা আয় করেছেন বলে তিনি জানান।

রাজশাহীর দুর্গাপুরের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সাকলায়েনের রয়েছে ২২টি পুকুর। যার কোনো কোনোটির আয়তন ৬০ বিঘা। তিনি বলেন, পুকুরপাড়ে যেসব গাছ রয়েছে তাতে আর্থিক সহযোগিতা হয় বেশ। সমন্বিত মাছ চাষে অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হচ্ছে। মাছ চাষ এখন অনেকের প্রধান আয়ের উৎস।’

বর্ধনপুর গ্রামের মাছ চাষি এছরাফ আলী জানান, ২০টি পুকুরে মাছ চাষের পাশাপাশি গড়ে তুলেছেন মাছের খাবার উত্পাদনের মিল। এলাকার কয়েক শ যুবক সমন্বিত মাছ চাষ করছে, যাদের অধিকাংশই আগে ছিল বেকার।

রাজশাহী জেলা মত্স্যজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন বলেন, ‘আমরা এর আগে সনাতন পদ্ধতিতে মাছ চাষ করতাম। তবে গত ১০ বছর থেকে আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করছি। নিরাপদ মাছ চাষ করতে হলে সনাতন পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’

রাজশাহী জেলা মত্স্য কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র শাহা বলেন, রাজশাহীতে মাছ চাষে বিপ্লব ঘটেছে। আগের চেয়ে পুকুরের সংখ্যা বেড়েছে অন্তত ১০ ভাগ। সমন্বিত পদ্ধতিতে মাছ চাষ করে চাষিরা লাভবান হচ্ছেন। দাম ও চাহিদার কারণে এসব মাছ বেশির ভাগ চলে যাচ্ছে ঢাকায়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা