kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

চারুকলায় খেজুর রসের উৎসব

পর্দা নামল আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সবের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ জানুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চারুকলায় খেজুর রসের উৎসব

শীত আর খেজুরের রস যেন এক সুতোয় বাঁধা। শীত ছাড়া বছরের অন্য কোনো সময়ই এ দুই মেলে না। এ সময় খেজুরের রসের ঘ্রাণে ভরে ওঠে বাংলার প্রকৃতি। গ্রামগঞ্জে শুরু হয় খেজুরের রস আর গুড় দিয়ে তৈরি পিঠা খাওয়ার ধুম।

বিজ্ঞাপন

রাজধানী ঢাকার নাগরিক জীবনে খেজুর রস মেলা ভার। তবে গতকাল শুক্রবার সকালে চারুকলায় মিলেছিল সেই সুযোগ। খেজুর রসের গন্ধে ম ম করেছে গোটা প্রাঙ্গণ।

এদিকে ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের গতকাল ছিল শেষ দিন। এ উপলক্ষে জাতীয় জাদুঘরের মূল মিলনায়তনে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সেরা চলচ্চিত্রগুলোকে পুরস্কৃত করা হয়।

গতকাল মিষ্টি রোদের ভোরে চারুকলায় বসেছিল রসের মেলা। খেজুরের টাটকা রসে রাজধানীবাসী মেতে উঠেছিল গ্রামীণ আমেজে। ‘রঙ্গে ভরা বঙ্গ’ নামের সংগঠনের আয়োজনে এই ‘রসের মেলা’য় শীতের ভোরে গ্রামীণ নির্মল আনন্দের টানে ভিড় করে নগরের রসের রসিকরা।

খেজুর রসের সঙ্গে ছিল শুকনো কাঁঠাল পাতায় তৈরি বাটিতে মুড়ি-মুড়কি ও খেজুর গুড়ের আতিথেয়তা। পাশাপাশি ছিল জারিগান ও মনসামঙ্গল পালার পরিবেশনা। মাটির হাঁড়ি থেকে মাটির মগে টাটকা খেজুরের রস পান করতে ভোর হতে না হতেই ছুটে আসেন অনেকে। শিশুদেরও নিয়ে এসেছিলেন অনেকেই।

চারুকলার বকুলতলার মঞ্চে সকাল ৮টায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় এবারের রসের মেলা। এ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ইমরান উজ-জামান।   আরো বক্তব্য দেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব আকতারী মমতাজ। উপস্থিত ছিলেন ফটো সাংবাদিক বুলবুল আহমেদ, মোহাম্মদ আসাদ প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক হায়াত্ মামুদ।

আকতারী মমতাজ বলেন, ‘নাগরিক পরিমণ্ডলে খেজুরের রস নিয়ে এই আয়োজন খুবই ভালো একটি উদ্যোগ। খেজুর রসের ঐতিহ্য গ্রামও হারাতে বসেছে। এ ধরনের আয়োজনে রস পানকে কেন্দ্র করে মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য তৈরি হবে। এভাবেই গড়ে উঠবে মানবিক বাংলাদেশ। ’

সপরিবারে মেলায় এসেছিলেন অধ্যাপক হায়াত্ মামুদ। তিনি বলেন, ‘আমরা শেকড় ভুলে যাচ্ছি। এ ধরনের অনুষ্ঠানে এলে শেকড়ের কথা আমাদের মনে পড়ে। মা, মাতৃভূমি ও সংস্কৃতি একই সঙ্গে জড়ানো। এগুলোর ভেতর দিয়ে আমরা মানুষ হয়েছি। ’

ষষ্ঠবারের মতো এই আয়োজন নিয়ে আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ইমরান উজ-জামান বলেন, ‘আমরা ডেমরায় মেলাটি করতাম। নগরবাসীকে এ ধরনের একটি মেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে এবার কিছুটা বড় পরিসরে এখানে আয়োজনটি করেছি। ’

পরে আলী হোসেন বয়াতি পরিবেশন করেন জারিগান। টাঙ্গাইলের নাচারি দল চারণ পরিবেশন করে মনসামঙ্গল কাব্যের ‘বেহুলা ভাসান’ পালা।

পর্দা নামল ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের : পর্দা নামল রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদ আয়োজিত পঞ্চদশ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের। উৎসবে প্রদর্শিত চলচ্চিত্রগুলোর মধ্য থেকে জুরিদের ভোটে নির্বাচিত চলচ্চিত্রগুলোকে পুরস্কার প্রদানের মধ্য দিয়ে শেষ হলো এবারের উত্সব। গতকাল বিকেলে জাতীয় জাদুঘরের মূল মিলনায়তনে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।

এতে দেশ-বিদেশের ২৫টি চলচ্চিত্রকে পুরস্কৃত করা হয়। এর মধ্যে সেরা ফিচার চলচ্চিত্রে বিশেষ পুরস্কার পেয়েছে বাংলাদেশের নাদের চৌধুরীর ‘লালচর’। স্বল্প ও মুক্ত চলচ্চিত্র বিভাগে বিশেষ পুরস্কার পেয়েছে বাংলাদেশের তারেক আজিজ নিশকের ‘প্যারালাল জার্নি’।

এবারের উৎসবে সেরা শিশুতোষ চলচ্চিত্র হিসেবে বাদল রহমান পুরস্কার পেয়েছে ফিলিপাইনের মারসেইল সি কারিগার ‘পিটং কাবাং পালাই’, দর্শকদের বিচারে সেরা চলচ্চিত্র ভারতের ববি সারমা বারুহের ‘সোনার বরণ পাখি’, সেরা ফিচার চলচ্চিত্র আজারবাইজানের মিরবালা সালিমলির ‘কিরমিজি বাগ’, সেরা প্রামাণ্যচিত্র বাংলাদেশের শবনম ফেরদৌসীর ‘জন্মসাথী’। এ ছাড়া এশিয়ান ফিল্ম প্রতিযোগিতা বিভাগে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয় তৌকীর আহমেদের ‘অজ্ঞাতনামা’ চলচ্চিত্রকে।

গত ১২ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি পঞ্চদশ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সবের উদ্বোধন করেন। ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত চলা এবারের উৎসবে বাংলাদেশসহ মোট ৬৭টি দেশের ১৭৭টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়।



সাতদিনের সেরা