kalerkantho

শনিবার ।  ২১ মে ২০২২ । ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৯ শাওয়াল ১৪৪৩  

বস্তির কিশোরীদের ফুটবল টুর্নামেন্ট

‘সুযোগ পেলে আমরাও খেলব জাতীয় দলে’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ ডিসেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘সুযোগ পেলে আমরাও খেলব জাতীয় দলে’

সখি ২য় নারী ফুটবল টুর্নামেন্ট এ জয়ী অনিরুদ্ধ মহাখালী দল। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজধানীর কড়াইল বস্তির শেষ সীমানায় পল্লীবন্ধু এরশাদ বিদ্যালয়। গুলশান-১ নম্বর থেকে সড়কপথে অনেক দূর ঘুরে যেতে হয়, তবে নৌকায় করে কিছুটা তাড়াতাড়ি যাওয়া যায়। রিকশায় গেলে মহাখালী টিঅ্যান্ডটি গেট দিয়ে আঁকাবাঁকা পথ বেয়ে বেশ খানিকটা ভেতরে যেতে হয়। গতকাল দুপুর ২টায় স্কুল মাঠে গিয়ে দেখা গেল চারপাশ লোকে লোকারণ্য।

বিজ্ঞাপন

স্টেডিয়ামের মতোই মাঠে ঢুকতে বেশ জটলা পার হতে হলো। শিক্ষার্থী, অভিভাবক এমনকি বয়স্ক ব্যক্তিরাও মাঠের চারপাশে গোল হয়ে বসেছেন। তুমুল উত্তেজনার মধ্যে দুই দলের ফুটবল খেলা এগোতে থাকল। দর্শকরা তারস্বরে নিজ দলকে সমর্থন জানিয়ে গেল। নির্দিষ্ট সময়ে গোলশূন্য ড্র হওয়ার পর দর্শকদের উত্তেজনা যেন আরো বেড়ে গেল। শেষমেশ টাইব্রেকারে দুরন্ত মহাখালীকে ২-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে অনিরুদ্ধ মহাখালী।

গতকাল মঙ্গলবার বস্তির কিশোরীদের ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা ছিল। পল্লীবন্ধু এরশাদ বিদ্যালয় মাঠে সখি দ্বিতীয় নারী ফুটবল টুর্নামেন্টের এ আয়োজন করে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যাসোসিয়েশন অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)। রাজধানীর মোহাম্মদপুর, মিরপুর ও মহাখালীর ১৫টি বস্তি থেকে ছয়টি দল গঠন করা হয়।

খেলা শেষে চ্যাম্পিয়ন দলের অধিনায়ক শারমিন আক্তার বলে, ‘চ্যাম্পিয়ন হতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। কিন্তু এবারের খেলার পর আর খেলার সুযোগ পাব কি না জানি না। এমনিতেই আমাদের মাঠ নেই। তারপর এ বয়সে যদি রাস্তায় গিয়ে ফুটবল খেলি তাহলে পরিবারের সবাই বকাঝকা করবে। তবে আমরা খেলতে চাই। ’

রাজধানীর মিরপুরের ইডেন গার্ডেন হাই স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাবাসসুম। সখি দ্বিতীয় নারী ফুটবল টুর্নামেন্টে অযান্ত্রিক মিরপুর দলের হয়ে খেলেছে সে। তাবাসসুম বলে, ‘আমার খুব ফুটবল খেলতে ইচ্ছে করে। কিন্তু কোথায় খেলব, কার সঙ্গে খেলব? যখন জানতে পারলাম সখি ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরু হচ্ছে তখন নাম দিয়ে দিলাম। যদি আমাদের সুযোগ দেওয়া হয় তবে আমরাও জাতীয় দলে খেলতে পারি। ’

অযান্ত্রিক মিরপুরের সীমা আক্তার বলে, ‘খেলা আমার খুবই ভালো লাগে। তবে ফুটবল খেলার খুব একটা সুযোগ পাই না। এই টুর্নামেন্টে খেলে খুবই ভালো লাগছে। ভবিষ্যতে আরো খেলতে চাই। ’

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের নারী শাখা প্রধান মাহফুজা আক্তার কিরণ পুরস্কার বিতরণ করতে এসে বস্তির কিশোরীদের খেলা চালিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিলেন। তিনি বলেন, ‘মেয়েদের সাপোর্ট করতে ও নারী ফুটবলকে এগিয়ে নিতেই এখানে আমার আসা। আমরা টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া প্রতিটি দলকেই ট্রায়ালে ডাকব। যারা ভালো করবে তাদের বয়সভিত্তিক ফুটবল দলে সুযোগ দেব। প্রশিক্ষণসহ অন্য দায়িত্বও নেব আমরা। ’

চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স আপ দল ছাড়াও এ টুর্নামেন্টে অংশ নেয় অযান্ত্রিক মিরপুর, অরুণোদয় মহাখালী, তেজস্বিনী মহাখালী ও দুর্বার মোহাম্মদপুর।

বস্তির কিশোরীদের ফাইনাল খেলা দেখতে উপস্থিত ছিলেন ব্লাস্টের নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন, নেদারল্যান্ডস এমবাসির ফার্স্ট সেক্রেটারি অ্যানি ভেস্টজেন্স, হেড অব ইন্টারনাল অ্যাফেয়ার্স জোস কনিং, ব্লাস্টের সখি প্রকল্পের টিম লিডার নাজরানা ইমান প্রমুখ।



সাতদিনের সেরা