kalerkantho

শনিবার । ১৫ মাঘ ১৪২৮। ২৯ জানুয়ারি ২০২২। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

হলফনামা বিশ্লেষণ করে সুজনের তথ্য

জেলা পরিষদ নির্বাচনে ১৪৬ চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে আয়করদাতা ৫০ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ ডিসেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জেলা পরিষদ নির্বাচনে মোট ১৪৬ চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর ৭৬ জনেরই (৫২.০৫ শতাংশ) বার্ষিক আয় পাঁচ লাখ টাকার কম। ৪৪ জনের (৩০.১৩ শতাংশ) সম্পদ পাঁচ লাখ টাকারও নিচে। কোটি টাকার অধিক সম্পদের মালিক ২১ জন (১৪.৩৮ শতাংশ)। আর বছরে কোটি টাকার বেশি আয় করেন ছয়জন (৪.১০ শতাংশ)।

বিজ্ঞাপন

প্রার্থীদের মধ্যে মাত্র ১৪ জন ঋণগ্রহীতা এবং আয়কর প্রদান করেন মাত্র ৫০ জন (৩৪.২৪ শতাংশ)। প্রার্থীদের হলফনামায় উল্লেখ করা তথ্য বিশ্লেষণে এমন তথ্য মিলেছে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) গতকাল মঙ্গলবার ‘জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী চেয়ারম্যান প্রার্থীদের তথ্য উপস্থাপন’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরেছে। প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে সুজনের পক্ষ থেকে আরো জানানো হয়, মোট ১৪৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৫ জনের বিরুদ্ধে বর্তমানে, ৩৬ জনের বিরুদ্ধে অতীতে ও আটজনের বিরুদ্ধে উভয় সময়ে ফৌজদারি মামলা আছে বা ছিল। ৩০২ ধারায় দুজনের বিরুদ্ধে বর্তমানে ও তিনজনের বিরুদ্ধে অতীতে মামলা আছে বা ছিল।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সুজন সভাপতি এম হাফিজউদ্দিন খান, নির্বাহী সদস্য হামিদা হোসেন, সহসম্পাদক জাকির হোসেন, সুজন কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার প্রমুখ।

দিলীপ কুমার সরকার লিখিত বক্তব্যে বলেন, নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রদত্ত চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা অনুযায়ী চেয়ারম্যান পদে ১৪৯, সাধারণ সদস্য পদে দুই হাজার ৯৯৮ ও সংরক্ষিত সদস্য পদে ৮২০ জন মিলিয়ে মোট তিন হাজার ৯৬৭ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সংরক্ষিত আসনে সদস্য পদে ৮২০ জন নারী প্রার্থী ছাড়াও চার জেলায় চেয়ারম্যান পদে চারজন, ৯ জেলায় সাধারণ সদস্য পদে ১২ জনসহ মোট ৮৩৬ জন প্রার্থী নারী এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সাধারণ সদস্য পদপ্রার্থীর প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি হবে। কেননা চুয়াডাঙ্গা জেলার ৩ ও ১৫ নম্বর ওয়ার্ড এবং নওগাঁর ৪ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কোনো তথ্য ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত কমিশনের ওয়েবসাইটে সন্নিবেশিত হয়নি। ফলে ওই চারটি ওয়ার্ডে কতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তা জানা যায়নি। ’

কিন্তু নির্বাচন কমিশন থেকে আগেই জানানো হয়েছিল, চুয়াডাঙ্গা জেলার ৩ ও ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে কোনো ভোটার না থাকায় ভোট হচ্ছে না। এই দুই ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ায় এবং পরবর্তী নির্বাচন স্থগিত থাকার কারণে কোনো জনপ্রতিনিধি বা ভোটার নেই।

সংবাদ সম্মলনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে বলা হয়, ‘মোট ১৪৬ জন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর মধ্যে ১০২ জন স্নাতক বা স্নাতকোত্তর। এসএসসি বা এর কম শিক্ষাগত যোগ্যতা ২২ জনের। ৮৩ জনের পেশা ব্যবসা, ২৩ জন আইনজীবী। ’

এম হাফিজউদ্দিন খান বলেন, ‘ইতিমধ্যে ২২টি জেলায় চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন, যা সত্যিই হতাশাজনক। এ নির্বাচনে সাধারণ জনগণের ভোট প্রদানের সুযোগ নেই। অথচ সুজনের পক্ষ থেকে আমরা প্রথম থেকেই এ নির্বাচন জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে আয়োজনের দাবি জানিয়ে এসেছি। এই দাবি অব্যাহত থাকবে। ’

জাকির হোসেন বলেন, ‘জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের জনগণের কাছে কোনো দায়বদ্ধতা থাকবে না। কেননা তাঁরা জনগণের ভোটে নয়, নির্বাচকমণ্ডলীর ভোটে নির্বাচিত হবেন। জেলা একটি প্রশাসনিক ইউনিট, অথচ তার ক্ষমতাকে আমরা খাটো করে রেখেছি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। সরকার ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত দেখতে চায়, অথচ এটি আমাদের শাসন পদ্ধতির অন্যতম দুর্বলতা। ’



সাতদিনের সেরা