kalerkantho

শনিবার ।  ২১ মে ২০২২ । ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৯ শাওয়াল ১৪৪৩  

৫ তলার মধ্যে ২ তলা দোকান বাকিটা পরিত্যক্ত, বেদখল

ডিএসসিসির সেগুনবাগিচা মার্কেট

তোফাজ্জল হোসেন রুবেল   

২১ ডিসেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ২০০৬ সালে ২৩ কাঠা জমির ওপর নির্মাণ করে ‘সেগুনবাগিচা সিটি করপোরেশন মার্কেট’। একটি বেইসমেন্ট ও পাঁচতলা এ ভবনের দুটি ফ্লোরে মোট ১০৭টি দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়। বাকি তিনটি ফ্লোর আর বেইসমেন্ট রাখা হয় কমিউনিটি সেন্টার আর পার্কিংয়ের জন্য। কিন্তু তিনটি ফ্লোরের বেশির ভাগ হয় দখল হয়ে গেছে বা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

বিজ্ঞাপন

কমিউনিটি সেন্টারটিও চালু করা যায়নি। এসবের পেছনে রয়েছে প্রভাবশালী মহল। মার্কেটের তিনটি ফ্লোরের একটিতে স্থানীয় কাউন্সিলরদের অফিস। কিছু অংশ কনস্ট্রাকশন কম্পানির দখলে রয়েছে। আর বাকি দুটি ফ্লোরে কমিউনিটি সেন্টার করার কথা থাকলেও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ভবনের পার্কিংয়ের জন্য রাখা পুরো বেইসমেন্টও দখল করে ওয়ার্কশপ করা হয়েছে। মার্কেট ভবনটির তিন পাশ ঘিরে কমপক্ষে ২০টি অবৈধ দোকানও নির্মাণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ডিএসসিসি সূত্রে জানা যায়, সেগুনবাগিচা ডিএসসিসির এ মার্কেটের নিচতলা ও দোতলা মিলে ১০৭টি দোকান ভাড়া দেওয়া হয়েছে। দোকানগুলো কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত রাজস্বও দিয়ে যাচ্ছে। ভবনের চার ও পাঁচতলায় কমিউনিটি সেন্টারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একটি বেইসমেন্ট রাখা হয়েছে পার্কিংয়ের জন্য। রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হওয়ায় এ জায়গার বেশ কদর রয়েছে। তাই বছরের পর বছর ধরে অবৈধ দখল আর পরিত্যক্ত থাকা ফ্লোরের জন্য ডিএসসিসির কোটি কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, মার্কেটের তিনতলায় ডিএসসিসির ২০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন রতনের অফিস। প্রায় পাঁচ হাজার বর্গফুটজুড়ে এ অফিস। আর বাকি অংশে একটি কনস্ট্রাকশন কম্পানি রয়েছে। সেখানে গিয়ে দেখা যায় কিছু লোক চেয়ার-টেবিল নিয়ে দাপ্তরিক কাজ করছে। পুরো ফ্লোরেই রয়েছে ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা। এ প্রতিবেদকের উপস্থিতি বুঝতে পেরে দুই যুবক এগিয়ে আসে। কিসের অফিস জানতে চাইলে ধমকের সুরে এখান থেকে বের হয়ে যেতে বলে। এরপর চারতলায় গিয়ে দেখা যায় পুরো ফ্লোর ফাঁকা পড়ে আছে। কিছু প্লাস্টিকের চেয়ার ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। এক পাশে একজন বৃদ্ধা আর এক যুবক রান্নাবান্নার কাজ করছেন। নিজেদের সিটি করপোরেশনের কর্মচারী পরিচয় দিয়ে জানান, তাঁরা কাউন্সিলর অফিসের পরিচ্ছন্নতাকর্মী। এ ফ্লোরে কমিউনিটি সেন্টার হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা ১০ বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। এ ফ্লোরে একটি রান্নাঘর থাকায় তাঁরা এখানেই থাকেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ডিএসসিসির এই মার্কেটের তিনটি ফ্লোরই নিজেদের কবজায় নিতে চায় একটি প্রভাবশালী মহল। তারা কৌশলে কমিউনিটি সেন্টারটি চালু করতে দেয় না। করপোরেশনের অর্থে কেনা লিফটও ভেঙেচুরে পড়ে আছে। মার্কেটের দুটি ফ্লোর ছাড়াও ওপরে উঠতে গেলে যে সিঁড়ি ব্যবহার করতে হয় তাও নোংরা আবর্জনায় ভরা। ফলে এ কমিউনিটি সেন্টারমুখী হতে চায় না কেউ। কমিউনিটি সেন্টারের অনুষ্ঠানে আসা লোকজনের জন্য বেইসমেন্টে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু এ পার্কিংয়ে গিয়ে দেখতে পাওয়া যায় ওয়ার্কশপ। সেখানে বেশ কয়েকজন শ্রমিককে কাজ করতে দেখা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএসসিসির একাধিক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তিনতলায় প্রায় আট হাজার বর্গফুট জায়গা রয়েছে। কাউন্সিলরের অফিস করার জন্য দেড় হাজার বর্গফুটই যথেষ্ট। কিন্তু তিনি পুরো ফ্লোর দখল করে রেখেছেন। মার্কেটের দেয়াল ঘেঁষে একাধিক দোকান নির্মাণ করে তা ভাড়া দেওয়া হয়েছে। এমনকি ওপরের দুটি ফ্লোর ও বেইসমেন্টের ওয়ার্কশপও তাঁর নিয়ন্ত্রণে। করপোরেশনের বরাদ্দ দেওয়া ১০৭টি দোকান বাদ দিয়ে গোটা বিল্ডিংই কাউন্সিলর নিজের কবজায় রেখেছেন। ডিএসসিসির কেউ এ ব্যাপারে কথা বলতে সাহস পায় না। ’

ডিএসসিসির ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন রতন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ডিএসসিসির এ ভবনের কোনো অংশ আমার দখল করা না। এখানে আগে থেকেই কাউন্সিলরের কার্যালয় ছিল। কোনো ফ্লোরে কাউকে ভাড়া দেওয়া হয়নি। নিচে কিছু অবৈধ দোকানপাট রয়েছে, তা ভেঙে ফেলার জন্য করপোরেশনকে একাধিকবার চিঠি দিয়েছি। কাঁচাবাজারের দুর্গন্ধে কমিউনিটি সেন্টারে লোকজন আসে না। তাই অন্য স্থানে নতুন করে কমিউনিটি সেন্টার করার জন্য জায়গা খুঁজছি। ’



সাতদিনের সেরা