kalerkantho

বুধবার । ২৯ জানুয়ারি ২০২০। ১৫ মাঘ ১৪২৬। ৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

জাতিসংঘে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

উগ্রবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে বাংলাদেশ

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি   

১৭ জানুয়ারি, ২০১৬ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উগ্রবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা বিশ্ব সম্প্রদায়কে জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, এ জন্য বাংলাদেশ সরকার সর্বদা তত্পর রয়েছে। গত শুক্রবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিল চেম্বারে অনুষ্ঠিত এক সভায় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন তিনি।

১৯৩টি দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে জাতিসংঘ ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিল চেম্বার ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। এতে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সভার শুরুতে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন সহিংস উগ্রবাদ দমনে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিদের সামনে তাঁর কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল উগ্রবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের কঠোর অবস্থান তুলে ধরে এর মোকাবিলায় নারী, সুধীসমাজ, ধর্মীয় ও স্থানীয় সরকার,  নেতাকর্মী, তৃণমূল সদস্য এবং গণমাধ্যমের সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সহিংসতা রোধে বাংলাদেশ সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপও তুলে ধরেন। মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘কাউন্টার ভায়োলেন্ট এক্সট্রিমিজম’ অধিবেশনে ‘বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ দমনে বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা’ উল্লেখ করেন।

জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের উচ্চপর্যায়ের এই অধিবেশনে উগ্রবাদ দমনে মহাসচিব বান কি মুন একটি রূপরেখা (প্ল্যান অব অ্যাকশন) তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো সহিংসতাকে শুধু ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে দিতে চায় না, ওরা আরো বেশি নির্মম প্রতিক্রিয়া প্রত্যাশা করে।’ ২২ পৃষ্ঠার কর্মকৌশলে উল্লেখ করেন উগ্রবাদী সন্ত্রাসীরা শুধু একটি ধর্মের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, একটি জাতির মধ্যেও নয় কিংবা বিশেষ কোনো সম্প্রদায়ের মধ্যেও ওরা সীমাবদ্ধ নয়। আর সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার যারা হচ্ছে তার সিংহভাগই মুসলমান।

নিউ ইয়র্কে এমআরভির উদ্বোধন : শুক্রবার পৃথক অনুষ্ঠানে নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট অফিসে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। বাংলাদেশ কনস্যুলেটে তিনি মেশিন রিডেবল ভিসা (এমআরভি) সেবাকর্ম উদ্বোধন করেন। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবারও দৃঢ়কণ্ঠে বলেন, বাংলাদেশে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) কোনো অস্তিত্ব নেই। বিদেশিদের কাছে বাংলাদেশকে হেয় করার জন্য আইএসের নাম করে জামায়াতকর্মীরা দেশে দু-একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটিয়েছে। তিনি এমআরভির কার্যক্রম উদ্বোধন করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি একজন বিদেশি আবেদনকারীর হাতে একটি মেশিন রিডেবল ভিসা হস্তান্তর করেন। অনুষ্ঠানে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন, নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল শামীম আহসান এনডিসি, ডেপুটি কনসাল জেনারেল শাহেদ আহমদ, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাসুদ রেজওয়ানসহ প্রবাসী বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের নেতা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা