kalerkantho

সোমবার। ১৯ আগস্ট ২০১৯। ৪ ভাদ্র ১৪২৬। ১৭ জিলহজ ১৪৪০

বিদ্যালয়ে খেলার সময় শিশুর হাতে শিশুর মৃত্যু

প্রধান শিক্ষককে মারধর

বরিশাল অফিস   

১৭ জানুয়ারি, ২০১৬ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বরিশালের আগৈলঝাড়ায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক শিশুর ইটের আঘাতে প্রাণ গেল আরেক শিশুর। নিহত শিশুটির নাম স্বাধীন পাইক (৭)। খেলার সময় ঝগড়া বেধে গেলে সহপাঠী শাহীন হাওলাদারের ছোড়া ইটে মাথায় আঘাত পায় স্বাধীন। এর চার দিন পর শুক্রবার রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে সে মারা যায়। মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার পরই অবহেলার অভিযোগ এনে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে মারধর করে এলাকাবাসী।

নিহত স্বাধীন পাইক বরিশালের আগৈলঝাড়া সদর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র ছিল। সে আগৈলঝাড়া উপজেলার ফুল্লশ্রী গ্রামের ব্যবসায়ী বাদল পাইকের ছেলে। ইট দিয়ে আঘাতকারী অবুঝ শিশু শাহীন হাওলাদার একই গ্রামের কোব্বাত আলী বেপারীর নাতি। তার বাবা মৃত দেলোয়ার হোসেন। মা শাহীনুর বেগম ওমানপ্রবাসী হওয়ায় সে নানা কোব্বাতের বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করছে। উভয় পরিবারের মধ্যে সমঝোতা হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ আইনগত কোনো পদক্ষেপ নেবে না বলে  জানা গেছে।

গতকাল শনিবার সকালে স্বাধীনের লাশ বাড়িতে এসে পৌঁছলে এক হূদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরে সকাল ১১টায় সদর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে স্বাধীনের জানাজায় মানুষের ঢল নামে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়।

জানা গেছে, গত মঙ্গলবার আগৈলঝাড়া সদর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে খেলাধুলা করছিল দুই সহপাঠী স্বাধীন পাইক ও শাহীন হাওলাদার। এ সময় বিদ্যালয়ে অন্যান্য শ্রেণিতে পাঠদান চলছিল। খেলার এক পর্যায়ে শাহীনের সঙ্গে স্বাধীনের ঝগড়া ও মারামারি বেধে যায়। এ সময় শাহীন ইট ছুড়ে মারলে স্বাধীনের কান ও চোখের পাশে আঘাত লাগে। ঘটনার পর স্বাধীনকে তার পরিবারের সদস্যরা বরিশাল শেরে-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পথে স্বাধীন মারা যায়। স্বাধীনের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আ. রইচ সেরনিয়াবাত কয়েকজন স্কুল শিক্ষককে নিয়ে শুক্রবার রাতেই স্বাধীনের বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারকে সমবেদনা জানাতে যান। এ সময় তাঁরা প্রধান শিক্ষক রতন হালদারকেও একাধিকবার ফোন করেন। কিন্তু প্রধান শিক্ষক ফোন রিসিভ না করায় নিহতের স্বজনরা ক্ষুব্ধ হয় এবং তাঁর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে মারধর করে। এতে তিনি আহত হন। তাঁকে শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত প্রধান শিক্ষক রতন হালদার বলেন, ‘ঘটনার পরই বিষয়টি দুই পক্ষের অভিভাবক থেকে শুরু করে পরিচালনা পরিষদের সবাইকে জানানো হয়েছে। তার পরেও আমাকে অহেতুক লাঞ্ছিত করা হয়েছে।’

স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি আ. রইচ সেরনিয়াবাত বলেন, খেলার সময় সহপাঠীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত স্বাধীন নামের এক স্কুল ছাত্র চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। তা নিয়ে এক শিক্ষক লাঞ্ছিত হয়েছেন। পুরো ঘটনাটি নিয়ে দুই পক্ষ বসছে। তারা কেউই এ ব্যাপারে আইনগত দিকে যেতে চাইছে না।

মন্তব্য