kalerkantho

সোমবার। ১৯ আগস্ট ২০১৯। ৪ ভাদ্র ১৪২৬। ১৭ জিলহজ ১৪৪০

রেহমান সোবহানের অভিমত

ট্যানারি সরানো নিয়ে নাটক হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ জানুয়ারি, ২০১৬ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. রেহমান সোবহান বলেছেন, ‘ট্যানারিগুলো তাদের বর্জ্য ফেলে পরিবেশ দূষিত করছে। দিনের পর দিন পরিবেশ দূষণ করলেও তাদের সরানো যাচ্ছে না। হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি সরানো, বুড়িগঙ্গা নদীকে দূষণমুক্ত করা এবং ঢাকা শহরের জলাশয়, খাল, দখল করে গড়ে ওঠা আবাসনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারলে পরিবেশদূষণ অনেকটাই কমে যাবে। আমরা গত ৩০ বছর ধরে বুড়িগঙ্গা নদীকে দূষণমুক্ত করার কথা বলছি, কিন্তু দূষণ বন্ধ হয়নি। তা এখনো চলছে। আর এখন ট্যানারিগুলো সাভারের হেমায়েতপুরে সরানো নিয়ে নাটক চলছে।’ গতকাল শনিবার সিপিডি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

সিপিডি গতকাল রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে বার্ষিক লেকচার অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ক্লাইমেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট নলেজ নেটওয়ার্কের নির্বাহী প্রধান সাইমন ম্যাক্সওয়েল। অনুষ্ঠানে ড. রেহমান সোবহান ছাড়াও বক্তব্য দেন সিপিডির সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এবং নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান।

সিপিডি চেয়ারম্যান রেহমান সোবহান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। উপকূলীয় দেশ হওয়ায় বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের ধরনটি ভিন্ন। এখানে বড় সমস্যা অর্থায়ন। কারণ, বড় দেশগুলো প্রতিশ্রুতি দিয়েও টাকা দেয় না। ধনী দেশগুলো জলবায়ু তহবিলে অর্থ না দিলে বাংলাদেশকে নিজস্ব অর্থায়নে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। এটি খুবই কঠিন। এর আগে পদ্মা সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী অনেক সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। বিশ্বব্যাংক এ প্রকল্প থেকে সরে যাওয়ার পর নিজস্ব অর্থায়নে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করেছেন। তিনি এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সমর্থ হয়েছেন। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখেন।

সাইমন ম্যাক্সওয়েল তাঁর বক্তব্যে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় সঠিক নেতৃত্ব, সঠিক নীতি প্রণয়ন ও এর সঠিক বাস্তবায়ন দরকার। জলবায়ু সম্মেলনে অন্তত বিশ্বের ১৮৫টি দেশ তার কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছে। তবে তা কতটুকু সফল হবে, তা রাষ্ট্রগুলোর সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করবে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ১৫ বছর মেয়াদি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে বড় সমস্যা নেতৃত্বের। শক্তিশালী নেতৃত্বের মাধ্যমেই এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন সম্ভব। এ ক্ষেত্রে জলবায়ু সহায়ক কর্মসূচি হাতে নিতে হবে।

মন্তব্য