kalerkantho

সোমবার। ১৯ আগস্ট ২০১৯। ৪ ভাদ্র ১৪২৬। ১৭ জিলহজ ১৪৪০

চট্টগ্রাম পর্যন্ত পাইপলাইনের কাজে দুই কম্পানি চূড়ান্ত

আবুল কাশেম ও আরিফুজ্জামান তুহিন   

১৭ জানুয়ারি, ২০১৬ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আিমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কক্সবাজারের মহেশখালী টার্মিনাল থেকে চট্টগ্রামে নিতে যে পাইপলাইন স্থাপন করা হবে সেটা তিনটি খাল ও একটি নদীর তলদেশ দিয়ে যাবে। এসব খাল ও নদীর তলদেশে পাইপ বসানোর কাজ পেয়েছে যৌথভাবে বাংলাদেশ ও ভারতের দুটি কম্পানি।

মোট এক হাজার ৬৩৫ মিটার পাইপ স্থাপন বা ক্রসিংয়ের এই কাজ করতে খরচ হবে ৩৯ কোটি ২৮ লাখ টাকা। জ্বালানি বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

দেশে গ্যাসের মজুদ কমে আসার পরিপ্রেক্ষিতে জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়াতে সরকার কাতার থেকে দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন লিকুফায়েড ন্যাচারাল গ্যাস (এলএনজি) আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করা হচ্ছে। সেখানে এলএনজিকে গ্যাসে পরিণত করে পাইপলাইনে চট্টগ্রাম নেওয়া হবে। প্রকল্পটি করা হচ্ছে ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধি বিশেষ আইন ২০১০’-এর আলোকে।

জানা গেছে, মহেশখালী থেকে আনোয়ারা পর্যন্ত গ্যাস নিতে ৩০ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপ বসানো হবে। ৯১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইন বসাতে পথে পড়বে উজানটিয়া, মাতারবাড়ী ও কাটাখালী খাল এবং সাঙ্গু নদী। এগুলোর তলদেশে পাইপ বসানোর জন্য গত বছরের ৩১ মার্চ একটি আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে গ্যাস ট্রান্সমিশন কম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল)। এতে ব্যয় ধরা হয় ৪৮ কোটি ১৩ লাখ টাকা। ছয়টি প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ নেয়। 

জানা গেছে, ২৮ কোটি ২১ লাখ টাকা দিয়ে সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে মনোনীত হয় যৌথভাবে বিএফইডাব্লিউ ও জেপিএল। এ দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে জেপিএলের আর্থিক অসচ্ছলতা থাকায় এবং প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে সময়মতো কাজ শেষ করতে না পারার অভিযোগ থাকায় তাদের কাজ দেওয়া হয়নি। দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে যৌথভাবে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান পাঞ্জ ও বাংলাদেশি রয়াল ইউটিলাইজেশন সার্ভিসেস লিমিটেডকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। চারটি নদী ক্রসিংয়ে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দর দেওয়া এ দুটি প্রতিষ্ঠানকে দিতে হবে ৩৯ কোটি ২৮ লাখ টাকা। ইতিমধ্যে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ অনুমোদনের ফাইলে সই করেছেন। গত ৫ জানুয়ারি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব নাজিমউদ্দিন চৌধুরী এ বিষয়ে সারসংক্ষেপ পাঠিয়েছেন সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির কাছে। কমিটি কাজটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে।

সারসংক্ষেপ থেকে জানা গেছে, মহেশখালী-আনোয়ারা চারটি নদী ক্রসিং প্রকল্পে আরো দরপত্র জমা দিয়েছিল গ্যাসমিন-টিইএসপিএল, চায়না পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন ব্যুরো ও আরপিএল-সিআরএফজে।

প্রথম সর্বনিম্ন দরদাতা অযোগ্য ঘোষিত হওয়ায় আর দরপত্র ডাকা হয়নি। এ বিষয়ে সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, পুনঃ দরপত্র আহ্বান করা হলে আগামী শুষ্ক মৌসুমের আগে নদী ক্রসিংয়ের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে না। সে ক্ষেত্রে এ প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে যাবে বলেও জ্বালানিসচিব মন্ত্রিসভা কমিটিকে জানিয়েছেন।

মন্তব্য