kalerkantho

সোমবার। ১৯ আগস্ট ২০১৯। ৪ ভাদ্র ১৪২৬। ১৭ জিলহজ ১৪৪০

ভোজ্য তেলের দর খুচরায় কমেনি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ জানুয়ারি, ২০১৬ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভোজ্য তেলের দর লিটারপ্রতি পাঁচ টাকা কমিয়ে নতুন দামে সরবরাহ শুরু করেছে বাজারজাতকারী কম্পানিগুলো। তবে খুচরা দোকানে এখনো দাম কমেনি। কম্পানিগুলো বলছে, আজ রবিবার থেকে নতুন দামের তেল পাওয়া যাবে। খুচরা দোকান মালিকরা যাতে বেশি দাম নিতে না পারে সে জন্য দরকষাকষির পরামর্শও দিল তারা।

গত বৃহস্পতিবার বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে বৈঠকে ভোজ্য তেলের দর লিটারে পাঁচ টাকা কমানোর ঘোষণা দেন মিল মালিকরা। গতকাল শনিবার থেকে ওই দাম কার্যকর হওয়ার কথা। তবে রাজধানীর বাজারগুলোতে খুচরা বিক্রেতাদের আগের দরেই তেল বিক্রি করতে দেখা গেছে। বাজারে গতকাল প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ৯৫ টাকা থেকে ১০২ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৮৮ থেকে ৯০ টাকায়।

সিটি গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক (হিসাব ও অর্থ) বিশ্বজিৎ সাহা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শনিবার আমরা চার লাখ ৬০ হাজার লিটার তেল নতুন দামে সরবরাহ করেছি। পাশাপাশি এক হাজার ২০০ ডিলারের কাছে মজুদ থাকা তেলেও লিটারে পাঁচ টাকা ছাড় দিয়েছি।’ তিনি বলেন, রবিবার থেকে বাজারে নতুন দামের তেল পাওয়া যাবে। তবে ক্রেতাদের একটু দরকষাকষি করে কেনা উচিত। খুচরা ব্যবসায়ীরা দাম বেশি নিতে চাইতে পারে।

কয়েকটি কম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিরা জানান, গতকাল তাঁরা বিভিন্ন বাজার থেকে নতুন দামের তেলের সরবরাহ আদেশ নিয়েছেন। আগে এক লিটার সয়াবিন তেলের বোতলের খুচরা দাম ছিল ৯৩ টাকা, এখন ৮৮ টাকা ধরে সরবরাহ আদেশ নেওয়া হচ্ছে। এখন থেকে দুই লিটারের বোতল ১৭৪ টাকা, পাঁচ লিটারের বোতল ৪৩৫ টাকায় খুচরা দোকানে বিক্রয় হবে। তবে রূপচাঁদা ব্র্যান্ডের তেলের দাম অন্যান্য ব্র্যান্ডের চেয়ে কিছুটা বেশি।

দেশে প্রতিবছর প্রায় ১৪ লাখ টন ভোজ্য তেলের প্রয়োজন হয় এবং তা প্রায় পুরোটাই আমদানি হয়। দেশের চাহিদার ৮০ শতাংশ আমদানি হয় পাম তেল। পাম তেল পরিশোধন করে পাম সুপার ও সাধারণ পাম তেল বিক্রি হয়। বোতলজাত হয় কেবল সয়াবিন তেলের কিছু অংশ। গৃহস্থালিতে বোতলজাত সয়াবিন তেলের ব্যবহার বেশি।

এত দিন দেশের বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বোতলজাত সয়াবিন তেল এক লিটার ৯৫ থেকে ১০২ টাকা, পাঁচ লিটারের বোতল ৪৫০ টাকা থেকে ৪৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া খোলা পাম তেল লিটারপ্রতি ৫৮ থেকে ৬০ টাকা ও সুপার পাম তেল ৬২ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। কম্পানিগুলো পরিবেশক পর্যায়ে ছাড় দিলেও খুচরা পর্যায়ে দোকানে থাকা তেলের ওপর কোনো ছাড় দেয়নি। ফলে খুচরা ব্যবসায়ীরা পুরনো তেল বিক্রি না হওয়া পর্যন্ত আগের দাম ধরে রাখার চেষ্টা করতে পারে।

এদিকে পাইকারি বাজারেও খোলা তেলের দাম কমেনি। রাজধানীর মৌলভীবাজারের পাইকারি তেল ব্যবসায়ী আবুল হাশেম কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রতি মণ সয়াবিন এখন তিন হাজার ১০০ টাকা (লিটারপ্রতি ৭৫.৬ টাকা) দরে বিক্রি হচ্ছে।

মন্তব্য