kalerkantho

বুধবার । ১১ কার্তিক ১৪২৮। ২৭ অক্টোবর ২০২১। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

বন্দুকযুদ্ধ

কেরানীগঞ্জে আরো একজন নিহত

স্বজনের দাবি, টাকা না দেওয়ায় হত্যা

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি   

২৪ আগস্ট, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে এক যুবক নিহত হয়েছে। গত শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার খেজুরবাগ সাতপাখি মুসলিমনগর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে টানা তিন দিনে তিনটি স্থানে পুলিশের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' তিনজন নিহত হলো।

গাজীপুরের মতো কেরানীগঞ্জেও নিহত যুবকের স্বজনরা অভিযোগ করেছে, পুলিশ আটকের পর ছেড়ে দিতে টাকা দাবি করেছিল। দিতে না পারায় হত্যা করে বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজানো হয়েছে। তবে পুলিশ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে গাজীপুরে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার সদস্যদের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' রাজধানীর বাড্ডার যুবলীগের সাবেক এক নেতা নিহত হন। শুক্রবার দিবাগত রাতে কুমিল্লার ফয়েজগঞ্জ এলাকায় নিহত হন একজন।

এ ছাড়া গত ১৭ আগস্ট থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত রাজধানীর হাজারীবাগে ছাত্রলীগ সভাপতি, মাগুরায় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও কুষ্টিয়ায় যুবলীগকর্মী নিহত হন পুলিশ ও র‌্যাবের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে'।

হাজারীবাগের ঘটনায় সরকারি দলের মধ্যেই বিতর্ক তৈরি করেছে। দলের স্থানীয় সংসদ সদস্য ও নেতারা প্রতিবাদ করেছেন। এ ঘটনায় গতকাল আদালতে একটি মামলা হয়েছে র‌্যাব ও পুলিশের তিন কর্মকর্তাসহ চারজনের বিরুদ্ধে। এই প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে নিহত যুবকের নাম ইউসুফ (৩৫)। তিনি ঢাকার দোহার উপজেলার হাজার বিঘা গ্রামের মৃত আইয়ুব আলীর ছেলে।

পুলিশ দাবি করেছে, ইউসুফ ডাকাত সরদার। তাঁর বিরুদ্ধে ঢাকা জেলার বিভিন্ন থানায় খুন ও ডাকাতির ১০টি মামলা রয়েছে। যদিও ইউসুফের স্ত্রী সুলতানা বেগমের দাবি, তাঁর স্বামী একটি মাছের খামারে কাজ করতেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনায় ইসমাইল সরদার (২৯) ও সোহরাব (৩০) নামের দুজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ইসমাইল শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার মধ্য মাতোয়াখালী গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে। তিনি কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন বন্দ ডাকপাড়া এলাকায় ভাড়া থাকেন। সোহরাব মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার আওলিয়ারচর গ্রামের মো. হালিমের ছেলে। তিনি বাদামতলী এলাকায় ভাসমান অবস্থায় বসবাস করেন।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ জানান, ১০-১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাতদল শুভাঢ্যা ইউনিয়নের খেজুরবাগ সাতপাখি মুসলিমনগর এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা গুলি ছুড়তে শুরু করে। এ সময় পুলিশ জানমাল রক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছোড়ে। পুলিশ ১০ রাউন্ড পিস্তলের ও ১৫ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছোড়ে। দুই পক্ষে গোলাগুলি থেমে যাওয়ার পর পুলিশ ইউসুফকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মাটিতে পরে থাকতে দেখে। এ সময় ইউসুফের সঙ্গীরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ইসমাইল ও সোহরাবকে আটক করা হয়।