kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪১

কিশোরগঞ্জে 'মুক্তমনা' লেখককে হুমকি

ফতোয়া জারির চেষ্টা পুলিশের হস্তক্ষেপ

নাসরুল আনোয়ার, হাওরাঞ্চল   

১ আগস্ট, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার কাটখাল ইউনিয়নের কাকুয়া গ্রামের মো. জুলহাসউদ্দিন নামের এক 'মুক্তমনা' লেখককে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্ম ও নবীজিকে অবমাননার মিথ্যা অভিযোগ তুলে ফতোয়া জারির চেষ্টা চলছে।

গতকাল শুক্রবার কাটখাল ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়ে একটি মহল বৈঠক করে ফতোয়া জারির উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ প্রশাসন সে উদ্যোগ নস্যাৎ করে দিয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় পর্যায়ের কয়েকজন নেতা এর পেছনে সরাসরি ইন্ধন জোগাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিলেট অঞ্চলে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কাটখালের যুবক মো. জুলহাসউদ্দিন (৩৭) ফেসবুকে তাঁর লেখায় পৃথিবী সৃষ্টির রহস্য, জীবজগৎ, নারী-পুরুষ সম্পর্ক ও নানা অসংগতি তুলে ধরেন। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গেও এসব নিয়ে খোলামেলা কথাবার্তা বলেন। কোনো ব্লগের নিয়মিত লেখক না হলেও জুলহাস মুক্তিযুদ্ধ ও প্রগতির পক্ষের ব্লগগুলো নিয়মিত পড়েন।

জুলহাসউদ্দিন কালের কণ্ঠকে জানান, গত ঈদের ছুটিতে তিনি গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে এসে চাচাতো ভাতিজা ও কিশোরগঞ্জ গুরুদয়াল সরকারি কলেজের ছাত্র আরিফুল হকের সঙ্গে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণ ও বিজ্ঞানের নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। পরে আরিফুল হক তাঁর বক্তব্য নিয়ে এলাকার যুবকদের সঙ্গে মতবিনিময় করলে বিষয়টি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। এর পরই এলাকার চিহ্নিত স্বাধীনতাবিরোধী চক্র ষড়যন্ত্রে নামে।

জুলহাস অভিযোগ করেন, কাকুয়া গ্রামের জামায়াত নেতা মাওলানা আবু তাহের ও মাওলানা রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি মহল ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষকে উত্তেজিত করে তোলে। তাদের ইন্ধন জোগান কামাল হোসেন নামের এক পল্লী চিকিৎসক।

জুলহাস বলেন, তিনি আল্লাহ ও রাসুলকে অবমাননা করে কোনো বাজে মন্তব্য করেননি। আগে থেকে নানা বিষয়ে বিরোধের সূত্র ধরে এলাকার চিহ্নিত একটি মহল তাঁকে ফাঁসাতে চাচ্ছে। তিনি এ ষড়যন্ত্রের বিচার দাবি করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ফতোয়া জারির বিষয়টি প্রচারের পাশাপাশি ষড়যন্ত্রকারী মহলটি তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এ কারণে তিনি ও তাঁর পরিবার এখন চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন যাপন করছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা